somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনেক দিনের স্বপ্ন শাবিপ্রবির ভাষ্কর্য । আসুন সবাই কাধে কাধ মেলাই ।

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান বাংলাদেশে একটি প্রগতিশীল বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত এর ক্যাম্পাস। আমাদের ক্যাম্পাসেই আছে দেশের একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার যেখানে আপনি পাবেন মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা অনেক বই, ছবি, পোষ্টার সহ অনেক ডকুমেন্টের বিশাল সংগ্রহ।


বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত চিন্তাচেতনার স্থান। সেই মুক্ত চিন্তভাবনার সাথে জড়িয়ে থাকে আমাদের গৌরবজ্জল ইতিহাস ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকেই আমরা চেষ্টা করি নিজ নিজ অবস্থান থেকে কিভাবে দেশকে এগিয়ে নেয়া যায়। আমাদের অনুপ্রেরণা বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বীরাঙ্গনারা, জাতীয় নেতারা। তাদেরকে স্মরণে রাখতে, প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ শুরুর অনুপ্রেরণা যাতে মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে আসে সেইজন্য জন্মলগ্ন থেকেই ক্যাম্পাসে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে ভাস্কর্যের দাবি ছিলো।

অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে বেশ কিছুদিন আগে ক্যাম্পাসের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকবৃন্দের সহায়তায় স্থাপিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাস্কর্য চেতনায় ৭১ ।
নি:সন্দেহে সেদিন ছিলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে আনন্দের দিন। সেদিনই প্রশাসন থেকে ঘোষণা এসেছিল এই ক্যাম্পাসেই গোলচত্বরে স্থাপন করা হবে দেশের সবচাইতে সুন্দর মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য। আমরা আশায় বুক বাধলাম।

ক্রমশ কাছে চলে এসেছে সেই দিন। নতুন ভাস্কর্যের থিম একজন মা যিনি তার সন্তানকে আশীর্বাদ করছেন যুদ্ধে যাবার আগমুহুর্তে। সেই সন্তান বন্দুক কাধে বিদায় নিচ্ছে তার মায়ের কাছ থেকে। অনিশ্চিত তার জীবন। সে আর কখনো তার মাথায় মায়ের এই কোমল স্পর্শ পাবে কিনা জানেনা। দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করার জন্য গর্ভধারিনী মায়ের কাছ থেকে বিদায় নেয়ার এই দৃশ্যই মনে করিয়ে দেয় একাত্তরের সেই দিনগুলির কথা। এই ভাস্কর্য আমাদের অনুপ্রাণিত করবে দেশমাতৃকার মঙ্গলের জন্য কাজ করতে।

মুক্তিযুদ্ধ ছিলো আপামর বাঙালীর যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে সব বাঙালী এক ছিলো। ধর্ম, বর্ণ, বিশ্বাস নির্বিশেষে সব দেশপ্রেমিক বাঙালী ছুটে গিয়েছিলো তার মাকে স্বাধীন করবে বলে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধর্ম, বর্ণ সবকিছুর উপরে।

অনেক কিছুই হবে, হচ্ছে, হয়েছে। অনেক মতামত থাকবে। কিন্তু সব মতামতের উপরে দেশ। দেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ। শাবিপ্রবি সবসময় প্রগতিশীলতার পরিচয় দেয় এবং সবসময় দেবে। যে কোন ধরণের বাধা-বিপত্তি, দন্দ্ব এড়িয়ে আমরা দেশের জন্য কাজ করে যাবো। আমরা সবাই চাই এই অনিন্দ্যসুন্দর ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হোক শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে।

আমরা কোন বিপক্ষ শক্তি নিয়ে ভাবিনা। ভাস্কর্য আমরা চাই, ভাস্কর্য হবে। যে কোন উপায়েই হবে। শাবিপ্রবির হাজার হাজার বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-শিক্ষকের এটা প্রাণের দাবী।

সকল ধর্ম, আদিবাসী সবার শহর এই সিলেট। মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতি ধারণ করে সিলেটের সাধারণ মানুষ। আমরা সবাই চাই সিলেটেই থাকুক মুক্তিযুদ্ধের সবচাইতে সুন্দর ভাস্কর্যটি।

এজন্য দরকার সব মতামত, ভুলবোঝাবোঝি, রাজনৈতিক দন্দ্ব উপেক্ষা করে একই ময়দানে সর্বস্তরের মানুষ একে অপরের হাত ধরে একত্রিত হওয়া। ১৬ কোটি মানুষ অনেক ব্যাপারেই ভিন্নমত হতে পারে। কিন্তু একটা ব্যাপারেই তারা এক। সেটি হলো ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার যুদ্ধ। আশা করি সেই যু্দ্ধের ইতিহাস আমরা ধারণ করে যাবো সবসময় এবং সবাই হাতে হাত রেখে এক হবো শাবিপ্রবির গোলচত্বরে। আমাদের প্রত্যেকের বুকে থাকবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশের জন্য ভালবাসা। সবাই মিলে স্থাপন করবো এই ভাস্কর্য।

আজ থেকে অনেক বছর পর যখন ক্যাম্পাসে ঢুকবো তখন এই ভাস্কর্য আমাকে মনে করিয়ে দেবে, মুক্তিযুদ্ধের এই ভাস্কর্য স্থাপনে আমারো হাত আছে। বুক ভরে যাবে দেশের জন্য ভালবাসায়। মনে হবে আমরা আলাদা কোথায়? ধর্ম-বর্ণ-মতামত নির্বিশেষে আমরা বাংলাদেশীরা এক আছি সবসময়। এই ভাস্কর্যই হবে তার প্রমাণ।
তাই সবার প্রতি আমন্ত্রণ রইলো। আসুন আমাদের সাথে হাত মেলান। চলুন সবাই মিলে স্থাপন করি এই ভাস্কর্য।

এইখানেই স্থাপিত হবে সেই ভাস্কর্য।

আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?
তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে।

আসুন জেগে উঠি। বাংলা মাকে বলি, “মা তোমার ছেলেরা তোমার সাথেই আছে”।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×