লিখতেই হল!!! প্রতিবাদে নজরুল কলম ধরেছিলেন আমাকে কিবর্ডে টাইপ করতে হল।
এভাবে আর কতো দিন চলবে?এবার একটা নতুন শার্ট কেন!
দোস্ত সামনের সপ্তাহেই ভার্সিটির টিউশন ফি দিতে হবে।কিভাবে কিনব বল?কথাটা বলেই একটা দির্ঘশ্বাস ফেলল রুধির।
আমি বুঝিনা তুই কিভাবে চলিস!
চলতে হয় রাহাত।চলতে হয়।এখনো বাবার পকেটের টাকায় চলিস তো তাই বুঝতেছিস নাহ টাকা রোজগার করা কতটা কঠিন।বাবা-মা ছোট বেলা থেকে অনেক ত্যাগ আর অনেক কষ্ট করে তোকে বড় করেছে শুধু তই ভালো থাকবি বলে।
তা ঠিক।
তোর বাবা গত দুই ঈদে কোন পাঞ্জাবী কেনেনি,পুরানো জুতা আর সেই বটম নষ্ট হওয়া নকিয়া ১২০০ দিয়েই দিন পার করছেন!তুই তো বললি সেদিন।
হু।
কেন তিনি পাঞ্জাবী কেনেন নি জানিস,কিম্বা নতুন মোবাইল?বারতি খরচ হবে ভেবে।তাহলে তুই একটু চিন্তা করে দেখ তোকে পড়ানোর জন্য নিজের প্রয়োজনটা বিসর্জন দিচ্ছেন।এরপর ও তুই বুঝিস না?
দোস্ত আসলে বুঝি,কিন্তু কিছু করার নেই।মাসের শেষে খুব কষ্ট লাগে বাবার কাছে টাকা চাইতে।খুব ইচ্ছা করে টিউশনি করে আর কতো জমাব।ইচ্ছে হয় চাকরি করি কিন্তু চাকরি করে পড়ার মতো শারীরিক অবস্থা আমার নেই।চেষ্টা যে করি নাই তা না।পারি নাই।
ও।সরি রাহাত।
বাবা সামান্য চাকরি করে,তাতে সংসার আর ছোট বোনের পড়ার খরচ চালাতে হয়।রুধিরকে নিজের খরচেই পড়তে হয়।মাধ্যমিক আর উচ্চ-মাধ্যমিক এ ভালো রেজাল্ট করেও কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তি হবার সুযোগ হয়নি রুধিরের।তাই একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়য়েই পড়তে হচ্ছে তাকে।রেজাল্টের উপর ছাড়ে ভর্তি হওয়ায় তার টিউশন ফি একটু কমেছে।একটা কলসেন্টারে চাকরি করে ৮,০০০ টাকা পায়।৩,০০০টাকা ঘড় ভাড়া আর ১,০০০ টাকা খাওয়ার খরচ।৪ মাস পরপর তাকে টিউশন ফি দিতে হয় ১৫,০০০টাকা।বেশির ভাগ সময় হেটেই চলাফেরা করে রুধির।কারন প্রতি মাসে তার হাত খরচ ২৫০টাকা।বাবা হয়তো মাঝে মাঝে টাকা পাঠায় সেটাও খুব সামান্য।
নতুন একটা চাকরি খুঁজছে রুধির।অনেক চেস্টাতেও হচ্ছেনা।গত মাসের সেমিস্টার ফাইনাল দেওয়া হয় নাই রুধিরের!।ভ্যাট এর কারনে বর্ধিত ফি সে দিতে পারেনি।তাই একটা সেমিস্টার গ্যাপ দিতে হোল তাকে!!!তাহলে সে কি তার মৌলিক অধিকার টুকু ও ভ্যাটের কারনে নষ্ট করে দিবে??
রাতঃ৯.২৩।১০/০৯/২০১৫
এখানে একটা ডেমো হিসাব দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



