somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি এসেছি, তুমি জানো তো?

২২ শে নভেম্বর, ২০০৬ রাত ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাশিয়ার সামারা শহরের ছোট ছোট মেয়েরা যখন স্কুলের পাঠে কিংবা এলোমেলো খেলাধুলায় ব্যস্ত, এই মেয়েটা তখন টেনিস কোর্টে একমনে টেনিস খেলছে। ছয় বছর বয়সী মেয়েটির টেনিসের প্রতি এরকম টান বাবা-মার মনে নতুন আনন্দের ঢেউ এনে দেয়। মেয়েকে বিশ্বজয়ী টেনিস তারকা হিসেবে কল্পনা করতে খারাপ লাগে না তাদের। মেয়েটির তো তখনো এতোসব ভাবার বয়স হয়নি, সে বরং খেলাটাতে মজা পেয়ে যায়।
টেনিসের প্রতি, বিশেষত মহিলা টেনিসের প্রতি রাশিয়ানদের আগ্রহ কুর্নিকোভার গ্লামার আর শারাপোভার গ্লামার ও পারফর্মেন্সে অনেক বেশি গাঢ় হয়ে উঠেছে এতোদিনে। ছয় বছর বয়সের সেই মেয়েটারও বয়স বেড়ে হয়েছে পনের। প্রিয় শহর, জন্মস্থান সামারার গণ্ডি পেরিয়ে এক পা এক পা এগুতে এগুতে ইতিমধ্যেই সে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছে বিশ্ব টেনিস অঙ্গনে। কুর্নিকোভা-শারাপোভাদের মতোই লাস্যময়ী সুন্দরী এই টিনএজার টেনিস তারকা জুনিয়র টেনিসের র্যাংকিংয়ে নিজের করে নিয়েছে প্রথম স্থান। ওর নাম আনাসতাসিয়া পাভলু্যচেনকোভা।
পনের বছর বয়সটা পাভলু্যচেনকোভার জীবনে মধুময় হয়ে ধরা দিয়েছে। ধরা দিয়েছে বলাটা বোধ করি ভুল হবে। বলা উচিত, 1991-এর 3 জুলাই জন্ম নেয়া এই মেয়েটি 2006-এ টেনিস দুনিয়াকে জানিয়ে দিয়েছে_ সে কে এবং কী করতে চায়। এইতো, গতবছরই যে পেরুতে পারেনি প্রথম রাউণ্ডের বাধা, সে-ই এ বছরের চ্যাম্পিয়ন! আর টেনিসের সবচেয়ে মর্যাদাকর আসর গ্রান্ডস্লাম জগতে পা রাখার দ্বিতীয় বছরেই একক ও দ্বৈতে পাঁচটি গ্রাণ্ডস্লামে চ্যাম্পিয়নও কিনা পাভলু্যচেনকোভা! এ বছর গ্রাণ্ডস্লামে ওর সাফল্য ঈর্ষণীয়। ইউএস ওপেনের আগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চ্যাম্পিয়ন ও রোনাল্ড গেরোসে রানার্স আপ। আর দ্বৈতে শ্যারন ফিচম্যানকে সঙ্গী করে বছরের প্রথম তিনটি গ্রাণ্ডস্লামেরই শিরোপা জয়।
হাসিখুশি মেয়ে পাভলু্যচেনকোভার বড় বৈশিষ্ট্য হলো, ও সবসময়ই লড়াকু মেজাজে থাকে। যেকোনো প্রাথমিক বিপর্যয়কে সামলে উঠে, প্রতিপরে মনোবলে চিড় ধরিয়ে, হাজারো দর্শককে অবাক করে দিয়ে হারতে বসা ম্যাচ বের করে আনার অনবদ্য মানসিক দৃঢ়তা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে ওর। ধরা যাক সদ্য জেতা ইউএস ওপেনের ফাইনাল ম্যাচটির কথা। প্রতিপ অস্ট্রিয়ান তামিরা পাজেকের বিরুদ্ধে এই ম্যাচটি কতণ স্থায়ী হয়েছিল, জানো? পাক্কা তিনঘন্টা! প্রথম সেটে 3-6 ব্যবধানে যখন সহজ হার মেনে নিল সে, তখনো যেসব সমর্থক তার প েছিল, দ্বিতীয় সেটের শুরুতেই পায়ে ব্যথা পেলে সেই সমর্থকদের মাথায় হাত দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। বেচারারা অপো করছিল, এই বুঝি না লড়েই নিজেকে সরিয়ে নেয় পাভলু্যচেনকোভা, তাতে যাচ্ছেতাই হারার চেয়ে ইনজুরির উপর কিছুটা দায় চাপানো যাবে!
বছরটাকে নিজের করে রাখতে ইতিমধ্যে পাওয়া সাফল্যই যে তৃপ্তিদায়ক নয়, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মধ্যে যে বীরত্ব আছে, তার ইঙ্গিত দিয়ে টেনিসে আসা পাভলু্যচেনকোভা মাঠে নামে এবং দ্বিতীয় সেট জিতে নেয় 6-4 গেমে। আর প্রতিপও দৃঢ়চেতা হওয়ায় হাড্ডাহাড্ডি এই লড়াইটি এতো দীর্ঘস্থায়ী হয়। শেষমেষ 7-5 এ ওর অদম্য লড়াইয়ের কাছে হার মানতে বাধ্য হয় তামিরা পাজেক।
পেশার খাতিরে খেলা নয়, টেনিসটাকে বেশ উপভোগ করে 66 কেজি ওজনের এই ডানহাতি রুশ টিনএজার। ওর কোচ এস ভি পাভলুচেনকোভ। সিনেমা, নাচ আর মিউজিক ভীষণ প্রিয় ওর। পাভলু্যচেনকোভা এ বছর এ পর্যন্ত 49টি একক ম্যাচে জিতেছে, হেরেছে 6 ম্যাচে। আর দ্বৈতে 5 ম্যাচে হারলেও জিতেছে 34টিতে।
জুনিয়র টেনিসের গণ্ডি পেরিয়ে পূর্ণাঙ্গ টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে অনেক বড় হয়ে উঠতে চায় আনাসতাসিয়া পাভলু্যচেনকোভা। ও এসেছে টেনিস বিশ্বে, ও নেমেছে টেনিসকোর্টে নিজের জীবনটাকে, নিজের স্বপ্নগুলোকে নিজের মতো করে সাজিয়ে তুলতে। অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা, মানুষের প্রতি টান-মমতা-শ্রদ্ধাবোধ আর আত্মসম্মানবোধ বোধ ওর সঙ্গী। তোমরা ওকে চিনো তো? দেখেছো তো ওর খেলা?



[রুদ্র আরিফ। খিলক্ষেত, ঢাকা । 2006]
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে নভেম্বর, ২০০৬ রাত ১:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

উপরোধের আগে

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



একটা ক্ষণ,
ক্ষীণ, তবুও অবয়,
আমাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখবে সবুজ অটবীর আলেখ্যে,
তুমি এলে,
সেই পুরোনো মায়া হয়ে।

কতকাল পরে সম্মুক্ষে দু জোড়া চোখ?
সে প্রশ্নের প্লাবনে আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি আধুনিক যুগের জন্য প্রস্তুত।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৩

২০০৯ সাল থেকে সম্ভবত সকল সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংকে বেতন হয়। এবং এই বেতন দেওয়ার পক্রিয়া ১০০% কম্পিউটার বেইস। সরকারি কর্মচারীদের বেতন সিজিএ অফিস হ্যান্ডেল করে। আর সম্ভবত আইবিবিএএস+ সার্ভার বেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫৫ বছরে কেন আরেকটা রিফাইনারি হলো না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৪


রাশিয়া থেকে তেল আনতে হলে আমেরিকার অনুমতি লাগবে। এই একটা বাক্য পড়লে অনেকে ভাববেন এটা কোনো রাজনৈতিক ভাষণের অংশ, কিংবা অতিরঞ্জন। কিন্তু এটা ২০২৬ সালের বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লেগেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আছছে পিনু ভাই

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০২


ঘরের ছোল নাকি ঘরত আছছে
পুটি, বওল, টেংরা মাছ কুটিরে?
পাতিলত ভরে পুরপুরি ছালুনের
বাসনা যেনো আকাশত উরে-
কি সখ ছোলপল নিয়ে হামি এনা
যমুনাত যামু গাওধুমি, সাতরামু;
কে বারে শুন শুন হামাগিরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২০



নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

এখানে ছবি আছে ক্লি করে দেখতে হবে, যেহেতু আমাকে ছবি আপলোডে ব্লক করেছে এডমিন।

দেশের রাজনীতিতে একটি পুরোনো প্রবণতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে- জনগণের বাস্তব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×