মার্চ ও ডিসেম্বর এলেই পত্রিকার পাতায় ও টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যায় "শহীদ পরিবারের দুরাবস্থার" কথা -
জাতির পিতা শহীদ পরিবারের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি সহ সাহায্য পাঠিয়েছিলেন কিছু কিছু - কিন্তু জাতির পিতার মৃত্যুর পরে তা আর এগোয়নি - তারপর শুরু হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদান ও মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বাড়ানোর অপতৎপরতা -
আমার বক্তব্য : কোনো মুক্তিযোদ্ধাই সনদ নিয়ে সুবিধা লাভের আশায় মুক্তিযুদ্ধে যাননি - দেশপ্রেমের আদর্শে ও আবেগে জিবন বাজি রেখে নিরস্ত্র বাঙালি সস্বশ্র হয়েছে - হানাদার মুক্ত স্বদেশ পেতে -
আমি দৃঢ় চিত্তে বলতে চাই - মুষ্টিমেয় স্বাধিনতা বিরোধি বাদে সকলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে মুক্তিযুদ্ধকে সহায়তা করেছে বলেই নিরশ্র বাঙালিদের হাতে পৃথিবির অন্যতম শক্তিশালি পাকিস্থানি হানাদার বাহিনি মাত্র নয় মাসে প্রায় এক লাখ সস্বশ্র বাহিনি আত্মসমর্পনে বাধ্য হয় -
আমি মার্চ হতে সসেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুক্তি বাহিনির ( জাহাঙ্গির বাহাদুর ও আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে) সাথে - সপ্টেম্বর অক্টোবরে ফুফাতো ভাই মহসিন ভাই ( মেজর মহসিন) চার থানার মুজিব বাহিনির কমান্ডার হয়ে এলে কাটাপিটানিয়া ক্যাম্পে কাজ করি - যেহেতু আমি কোনো পাকিস্থানি মিলিটারি মারিনি - সেহেতু সনদ নেয়াকে যৌক্তিক মনে করিনি - আজও করিনা -
আমি মনেকরি সকল মুক্তিযোদ্ধাকে " জাতির শ্রেষ্ঠ বা বীর সন্তান" এই সনদ দেয়া সঠিক বা যৌক্তিক - কিন্তু মাসিক "আর্থিক সহায়তা" পাবে কেবলমাত্র "হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধারা" - চাকুরির বয়স বৃদ্ধির সুযোগ পাবে "হতদরিদ্র তৃতিয় ও চতুর্থ শ্রেনির মুক্তিযোদ্ধারা" - সন্তানদের লেখাপড়া, ভর্তি ও চাকুরির সুবিধা পাবে "হতদরিদ্র অসহায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা" -
এই সব সুবিধা সকলের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত রাখায় অমুক্তিযোদ্ধারা জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহনে আগ্রহি হয়ে ওঠে - প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষে করে, রিকসা চালায় জুতা সেলাইর খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয় প্রতিনিয়ত -
তা ছাড়া যারা ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্থান সরকারের আজ্ঞাবাহক ছিলো - তারাই ১৭ ডিডেম্বর সদ্য স্বাধিন বাংলাদেশ সরকারের নিতি নির্ধারক বনে গেলো - তারা নিজেরা যেমন সুযোগ বুঝে সনদ বাগিয়ে নিয়েছে - তেমনি মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের দোষরদেরও সনদ দিতে ভুল করেনি -
যে কারণেই ৬২ হাজার মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে প্রশ্ন বা অভিযোগ উঠেছে - যার মধ্যে খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাও রয়েছে -(সূত্র : প্রথম আলো, ০৮ অক্টোবর, ২০১১ খৃঃ এবং ০৭ সেপ্টেম্বর,২০১৬ খৃঃ)
আমি পুনর্বার মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি "মহাজোট" সরকারের কাছে বিনত আবেদন জানাই -সকল মুক্তিযোদ্ধাকে " জাতির শ্রেষ্ঠ বা বীর সন্তান" এই সনদ দেয়া সঠিক বা যৌক্তিক - কিন্তু মাসিক "আর্থিক সহায়তা" পাবে কেবলমাত্র "হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধারা" - চাকুরির বয়স বৃদ্ধির সুযোগ পাবে "হতদরিদ্র তৃতিয় ও চতুর্থ শ্রেনির মুক্তিযোদ্ধারা" - সন্তানদের লেখাপড়া, ভর্তি ও চাকুরির সুবিধা পাবে "হতদরিদ্র অসহায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা" -
প্রকৃতরা মুক্তিযোদ্ধারা সুবিধা পাচ্ছে কোথায় ??? পাচ্ছে ক' জনায় ??? পাচ্ছেতো সনদধারিরা !!!!! সেখানেইতো জাতির আপত্তি ??? জাতির প্রশ্ন ???? সনদধারি কোটিপতিরা মাসে দশ হাজার টাকা পাবে ??? সনদধারি সচিবের সন্তান, নাতি, পুতি শিক্ষার ও চকুরির সুযোগ পাবে ??? প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রিকসা চালায়, বস্তিতে থাকে, বিনা চিকিৎসায় মুকৃতিযোদ্ধা ও তার পরিবার ধুকে ধুকে মরে - (পত্রিকায় খবর বেরয় টেলিভিশন দেখায় সচিত্র) - এখানেই জাতির আক্ষেপ -
সবার আগে প্রয়োজন “স্বাধিনতা বিরোধিদের তালিকা প্রকাশ করা” । তারা সংখ্যায় কম । হাতে গোণা । মুক্তিযোদ্ধাতো স্বাধিনতা বিরোধিরা বাদে গোটা জাতি । মুক্তিযোদ্ধা কেবল ভারতে যাওয়ারাই নয় (এক কোটি) । দেশের অভ্যন্তরে সাড়ে ছয় কোটির হাজার হাজার লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করে দেশকে হানাদার বাহিনির হাত থেকে রক্ষা করেছে প্রতি নিয়ত । মুষ্টিমেয় স্বাধিনতা বিরোধিরা বাদে প্রত্যেকটি স্বাধিনতার পক্ষের মানুষ - আবাল বৃদ্ধ বনিতা - যে যে ভাবে পেরেছে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য সহযোগিতা করেছে । যার ফলে বিজয় এতো তরান্বিত হয়েছে । আমার বাড়িতে দাদী, আমার মা, আমার চাচী, আমার ফুফুরা এমন কোনো দিন নেই (খুব কম দিন বাদ গেছে) কম বেশি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে ভাত তরকারি রান্না করে খাওয়ান নি ? স্বরূপকাঠী (পিরোজপুর) মুক্তিবাহিনি কমান্ডার ছিলেন চাচাতো ভগ্নিপতি জাহাঙ্গির বাহাদুর ও ডেপুটি কমান্ডার চাচাতো ভাই আবু বকর সিদ্দিক । ক্যাম্প বলদিয়া (বিন্না) হাই স্কুল আমাদের বাড়ির কাছে । আবদারটা আমাদের বাড়িতেই বেশি ছিলো । সেপ্টেম্বর - অক্টোবরে এলো ফুফাতো ভাই মহসিন (এখন মেজর মহসিন) চার থানা মুজিব বাহিনি কমান্ডার হয়ে। বেড়ে গেলো আমাদের বাড়ির ভাত তরকারি ডাল রান্নার আয়োজন । দাদা, আব্বা, চাচা, ফুফা, বস্তা বস্তা চাল আনতেন। টিন ভরা সরিষার তেল ও কেরসিন তেল এবং লাউ আর মুশর ডাল এনে রাখতেন।
এদরে মতো প্রতিটি মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ৯:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



