somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মান্তরিতের ধর্মান্তর

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ওর নাম ছিলো আন্দ্্রে, আন্দ্্রে (পারিবারিক নামটা মনে নেই)। লম্বা ট্যাং ট্যাঙে ঢ্যাঙা ধরণের একটা পোলিশ ছেলে। ভালো করে পরিচিতি বেড়েছিলো 'বিশ্বযুবদিবসে'-র সময়টাতে। আমার ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও পরে আর করা হয়নি। কিন্ত আন্দ্্রে করেছিলো।

গলায় লাল রঙের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ঝুলিয়ে আন্দ্্রে ঘুরে বেরায় কোলন-বনের বিভিন্ন জায়গায়। নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করে বিলেফিলডের পিলগ্রিম সম্মেলনে পোপের আশেপাশে থাকার অনুমতি পাওয়াতে। তাঁর অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডটাতে বিচরণ ক্ষেত্রের পরিধি উল্লেখ করা আছে, সেটা খুব আগ্রহ নিয়ে আমাকে দেখায় সে। আমি দেখি, খুশী হই, উদ্্বেলিত হই আন্দ্্রের আনন্দ দেখে।

নিজেকে সে মেসন বলে দাবী করতো, খুব বড় আর নামী একজন পাদ্্রী হবে, এই স্বপ্ন দেখতো। একদিন আমি আর ফুলি বেগম কোথায়ও যাচ্ছি। সেখানে আন্দ্্রের সাথে দেখা। এগিয়ে এসে হাত বাড়ালো, কথা বল্লো, পরিচিত হলো ফুলির সাথে। আমাকে ফুলির কথা জিজ্ঞেস করতে মেয়ে বন্ধু বলায় খুশী হলো মনে হলো। আমাকে একফাঁকে বল্লো "তোমাদের বিয়ে হলে আমাকে ডেকো। আমি তোমাদের বিয়ে পরিচালনা করবো"। আমি তাঁর কথায় দাঁত কেলিয়ে হাসি।

অনেকের মাঝেই বিশিষ্ট কিছু গুন থাকে। আন্দ্্রের মাঝেও ছিলো। সবার সাথেই হতো কিনা কে জানে, তবে ও আমাকে দেখলেই শুরু করতো তাঁর মেসনহুডের আলাপ। কখনো বিয়ে করতে পারবে না, মদ খেতে পারবে না, এটা-সেটা নানান খুঁটি নাটি নিয়ে কথা বলতো। আমার একটা সময় পর্যন্ত ভালো লাগলেও পরে ঘ্যানঘ্যান টাইপের হয়ে যাওয়ায় কাজ আছে বলে কেটে পড়তাম প্রায়শঃই।

এমনই একদিন তাঁর সাথে আমার দেখা। লম্বা আলখাল্লা পরিহিত মাথায় টুপি। আমি দেখে ভাবলাম, হইছে এবার বুঝি পুরা পাদ্্রীর দীক্ষা দিয়ে ছাড়বে আমাকে। লম্বা এক সালাম দিলো আমাকে দেখেই। এসে আমাকে একটা কার্ড ধরিয়ে দিয়ে বল্লো, "আমাদের ধর্ম হলো সেরা ধর্ম, এটা রাখো। আমাদের সংগঠনের ইন্টারনেটের ঠিকানা আছে, তুমি চাইলে দেখতে পারো"। ততদিনে আমি আন্দ্্রেকে পারলে এড়িয়ে চলি।

কার্ডের ওপর আরবী ক্যালিগ্রাফির আদলে লেখা। ওর এরকম ব্যবহারে কেমন যেনো ধাক্কা খেলাম। বিরক্ত লাগছিলো, ও ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলামকে গ্রহন করেছে। আমার হয়তো খুশী হবার কথা, অ্যাপ্রেশিয়েট করার কথা। কিন্ত পারিনি, খুব বিরক্তি তাঁর ওপর। মেন হচ্ছিলো কষে একটা চড় মারি ব্যাটাকে!

কাল আবার দেখা হলো তাঁর সাথে। আসলে প্রায়ই দেখা হয়, কিন্ত কথা আর বলা হয় না তেমন করে। আমি এড়িয়ে চলে আসি। আমাকে দেখে কিছুদিন ধরেই "হরে কৃষণা" বলে হুংকায় দেয়। কাল নিজের ক্ষোভ লুকিয়ে খুব ভদ্্রোচিত ভাবে জিজ্ঞেস করলাম,
"কিছু মনে না করলে তোমাকে খুব ব্যক্তিগত একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করি"।
- (একটু থমকে গিয়ে) হঁ্যা করো...
"তুমি কি আবার ধর্মান্তরিত হয়েছো?...
- এটা খুবই ব্যক্তিগত!
"সে জন্যই এতো ঘটা করে অনুমতি নিলাম।
- (একটু থেমে থেকে) হঁ্যা, আমি নতুন ধর্ম নিয়েছি...।

ধন্যবাদ দিলাম তাকে কথোপকথন টুকুর জন্য। আন্দ্্রে হরে কৃষণা করলেও আমার কিছু এসে যায় না, কিংবা সারাদিন চার্চ কিম্বা মসজিদে বসে জিকির করলেও আমার কিছু হওয়ার কথা না। কিন্ত আন্দ্্রের চলন-বলন কেমন জানি বিরক্তিকর ঠেকে আমার কাছে।

ও যেদিন আমার হাতে কার্ডটা ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলো, আমার নাম ইউসূফ। আমি এখন মুসলিম- সেদিনই আমার চরম বিরক্তি লেগেছিলো তাঁর ওপর। দেখা হলেই লম্বা সালাম দিয়ে নানান বিশেষনে আল্লাহ কে বিশেষায়িত করতো, আমার মেজাজ চড়ে যেতো। প্রথম দিনেই কীকরে যেন বুঝে গিয়েছিলাম সে আবার ধর্মান্তরিত হবে!!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×