somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ললনাদুর্ঘট : গল্পের শুরু

২৪ শে মে, ২০০৭ দুপুর ২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মেজারের বিলা হওয়ার রেট জ্যামিতিক হারে বাড়তাছে, যেকোন মূহুর্তে উষ্ণ পারদ ঠাশ কইরা গিয়া ব্রক্ষ্মতালুতে হিট করতে পারে।

কইতাছিলাম হল্যাণ্ডের সেই ললনারে বিদায় দেয়ার সময়টার কথা। ট্যাঁওট্যাঁও শব্দে আইসিই ট্রেইনের দরজা বন্ধ হওয়ার সময়টার কথা! দরজা লাইগা গেলো, কাঁচের ঐপাড় থেকে দেখলাম তখনো খাড়ায়া আছে। চোখে প্রশ্ন, মাগার উত্তর কই? হাত নাইড়া বিদায় নিলাম, ট্রেইনও আস্তে আস্তে সাপের মতো মোচড়াইতে মোচড়াইতে কোলনের ডয়চেব্রুকের ওপর দিয়া হাঁটা দিলো, আর কাঁটাপাতলা দিলাম সামনে আগাইয়া ডোমের নিচ দিয়া।

মিউজিয়াম লুডভিগের এইখানে রেলিঙের উইঠা পা দোলাইয়া বইসা কতোক্ষণ মনের আনন্দে বাংলা গান গাইলাম। খুব যে খারাপ গাইছি তার প্রমাণ হইলো, গান গাইলাম অথচ কোন হালায়ই পয়সা টয়সা দিলো না। অবশ্য এমন চিপায় দেয়ারও কথা না। যাইহোক, আমার গানের প্রতিভা মোটামুটি মাঠেই মারা গেলো এই যাত্রায়। হাতের মোবাইলটা বাইর করলাম কি মনে কইরা!

"সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে,লোহার ঐ ব্রীজটা তোমার ভারে ভাইঙা না পড়লে তুমি এখন ডুসেলডর্ফ ছাড়াইছো। ঘরযাত্রা শুভ হোক তোমার"! সেণ্ড করে দিলাম ০০৩১৬...
সাথে সাথেই রিপ্লাই, "মোবাইলটা হাতেই আছিলো। ভাবতেছিলাম তুমি শর্ট ম্যাসেজ করবা। আমি খুব খুশী হইছি। তুমি কি করো"!

একই জায়গায়, একইভাবে বইসা কতোক্ষণ ম্যাসেজ ম্যাসেজ খেললাম। এখন এগুলা লেখতে গেলে পাঠক কইবেন আমি শিমুলের ছাদের কাউয়া খেদানের ধান্ধায় নামছি। থাকুক, কইয়া কাম নাই। আমি রেলিং থেকে নাইমা হাঁটা দিলাম নয়মার্কটের দিকে। পেটের ভেতরে ততক্ষণে বিলাই টম, ইন্দুর জেরীরে সমানে দৌড়াইতাছে!

তার বেশ অনেকদিন পর, হঠাত ফোন কল। হল্যাণ্ড থেকে আবার ক্যাডা ফোনায় আমারে? ধরলাম, হ্যালো কইতেই শুনি সেই চিবানি ইংরেজীতে জিগায়, "আছো কেমন"? জরুরী ভিত্তিতে ইমেইল ঠিকানা নিলো। একটু পরে মেইল চেক কইরাই দেখি কয়েক লাইনের একটা চিঠি। "আমি মনেহয় খুব শীঘ্রই জার্মানীতে আসতেছি"। ভালো তো, আসলে আসো, দেখা হইলে হবে। রিপ্লাইও করলাম এই-সেই, ইনিয়ে-বিনিয়ে।

কয়েকদিন পরে জানাইলো 'পরশুদিন' আসতেছে, সকালের ট্রেইনে। সকাল মানে সকাল সাড়ে দশটায় কোলনে নামবো। লে হালুয়া, আমার অবস্থা টাইট। এমনিতেই পুঁজিবাদীরা আমারে সহ্য করতে পারে না, তারওপর কামলায় ঢোকার আগেই যদি বাং মারি তাইলে উল্টা পোঙা নিজেরই যাইবো। সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে গেলাম স্টেশনে। ঠাণ্ডায় সব জইমা আছে, আমি খালি ঘামতাছি। বাইরে না, ভিতরে ভিতরে। শালার ট্রেইন ও আইজকাই লেইট করতে হইলো। আসে না আসে না... খাড়াইয়া আছিতো আছিই।

সাপের মতো মোচড়াইয়া ট্রেইনটা অবশেষে প্লাটফরমে ঢুকলো। থামলে পরে প্যাটপ্যাট শব্দে দরজা খুলতে থাকলো। আমি তখন ভাবলাম, মাস খানেক আগে দেখা হইছে, তাও খুব বেশী সময়ের জন্য না। চিনতে পারুম তো!

লোকজন নামতে শুরু করলো, আমার অবস্থা তখন চরমে। সবাইরেই মনে হয় চিনি। সেইরম অবস্থা একেবারে, ঘামছিও মনেহয় একটু আধটু - এমন অবস্থা হইলে আমি অনেক পরিচিত মানুষও চিনতে পারি না। মনে ভয় ঢুইকা গেলো, যদি চিনতে না পারি তাইলে কি হইবো!


-: চইলপে :-
১৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের চীন সফর, অশ্বডিম্ব।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৭

বাংলাদেশী মিডিয়া সোসাল মিডিয়াতে তোলপার
তারেক রহমানের চীন সফরে ভারত উদ্বিগ্ন।
এখন তো দেখলাম অশ্বডিম্ব।
কোন অর্থায়ন চুক্তি নেই, নতুন কোন ঋন দিবে না
বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোন চুক্তি বা মামুলি সমঝোতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম গেল ছালাও গেল

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌর বিদুৎ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১৮


আমি বিটিভি দেখতে ভালোবাসি। একদিন বিটিভিতে একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। এটি কোনো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ছিল না। সেখানে তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী/মন্ত্রী সোলার বিদ্যুৎ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×