
যেকোনো আন্দোলন সফল হতে হলে রক্ত অনিবার্য। কম বেশি সেটা নির্ভর করে স্থান, সময়, বিষয় এবং উভয় পক্ষের নিষ্ঠা ও নিষ্ঠুরতার উপর। রক্ত ঝরবেনা এমন প্রতিজ্ঞা করে আজ পর্যন্ত কোন আন্দোলন, প্রতিবাদ সফল করা যায়নি, যাবেও না। কেন যায়নি তার ব্যাখ্যা করা বাহুল্য। জগত সম্পর্কে যার কিঞ্চিৎ ধারণা আছে তথা মানুষের আচরণ সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান আছে তাদের সবার কাছেই ব্যাপারটা বোধগম্য। প্রশ্ন হোল, প্রকৃতপক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, সবচেয়ে বেশি দ্বিধায় ফেলে দেয়া প্রশ্ন এবং বারবার নিজেকে জিজ্ঞেস করার প্রশ্ন আপনি কোনদিকে, কোন পক্ষে বা কোন অবস্থানে যাবেন? গতিশীল জীবনে আমরা অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে থাকতে পারিনা। কোন একটা পথে আমাদের চলতেই হয়।
ঘটনা নিজের সাথে ঘটলে বা নিজ সত্তা সংশ্লিষ্ট হলে প্রশ্নের কোন অবকাশ নেই। কিন্তু বিষয়টা যদি হয় সার্বজনীন তখনই প্রশ্নের পর প্রশ্নের আবির্ভাব। আপনার জন্য যেটা মঙ্গল একই সময়ে সেটা অন্যের জন্য অমঙ্গল। আবার আজকের মঙ্গল অন্য সময়ের ভয়ংকর বিপদ। তাহলে কোন বিষয়টা, কোন মাত্রাটা সিদ্ধান্তের সাথে সবচেয়ে বেশি সংশ্লিষ্ট, কোনটা আমাদের বর্তমান কাজ বা চিন্তার নির্ধারক হয়ে দাঁড়ায়? অবধারিতভাবে একটা ছাড়া আর কোন উত্তর দেখিনা আমি। সময়, সময় এবং সময়। সময়ের গতির মত পরম বিশ্বস্ত এবং একই সাথে চরম বিশ্বাসঘাতক আর কিছুই পাবেন না আপনি। অতএব, আমাদের সময়ের কথা শুনতেই হবে। আপনি, আমি যেটাই এতদিন লালন করে এসেছি, আজকের দিনে যদি সময় মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে নিজের অজ্ঞতার জন্যই হোক বা নিরাপত্তার জন্য হোক নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকাটাও মন্দ বলে পর্যবসিত হবে। তাছাড়া ছুরির ফলায় বেশিক্ষণ স্থির থাকাও যায়না।জন্মের আজন্ম দোষ হিসেবে আমার সামান্য কিছু কথা ছিলো, এই ব্যাপারে। যেটা যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যেকোনো সময়ের কাজের প্রেক্ষিতে আমি বলি। ফিদেল কাস্ত্রোর ব্যাপারে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন রকম লেখা পড়ে, মতামত শুনে সেই কথাগুলো আমার আবার স্মরণে এলো।
“ শত বছরের পুরনো কয়েকজন ভাই বোন জন্ম নিয়েছে আমার। একই দেহ থেকে কারো শুধু মাথা, কারওবা ভ্রুন হয়েছে শুধু । পূর্ণ একজনকে কোলে নিয়ে জানলাম সে আমার জমজ। জন্মের উপর তার হাত নেই তাই সে এই ঘরে জন্ম নিয়েছে আর জন্ম নিয়েই শয়তান আখ্যা পেয়েছে। কিন্তু তার মনের উপর তো তার নিজের মন আছে। তাই শয়তানি না করে সে ভাল কাজে লিপ্ত হয়েছে। তার ভাল কাজ; অপরের মাঠের হিসেবে। নিজের ঘরের মাঠে কিন্তু তার এই কাজটাই শয়তানি। অর্থাৎ শয়তানদের হিসেবে সে শয়তানি করছে আর মানুষের হিসেবে সে একজন ভাল শয়তান। জন্মের কি আজন্ম দোষরে ভাই, কোন ঘরেই কোন কাজেই তার শয়তানের মত শয়তান নামটা ঘুচলোনা! সবাই জানে মৃত্যুর উপরও তোর হাত নাই,তুই ভেবে চলিস আছে। আমি দেখতে চাই মরার সময় কোন শয়তান বা মানুষ তোকে বাঁচায়!”
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




