হিটলার বিংশ শতকের তিরিশের দশকে জার্মানির ক্ষমতায় যাওয়ার পরেই স্কুল পর্যায়ের সমস্ত পাঠ্যবইতে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। আগের যা কিছুকে উচিত/ভালো লেখা থাকতো তার বহু কিছুকেই অনুচিত/খারাপ হিসেবে পাঠ্য করেন। প্রথম শ্রেণী থেকে পাঠ্যবইতে লেখা থাকতো, জার্মানরা নীল রক্তের অধিকারী অর্থাৎ সারা পৃথিবীতে তারা একদম ব্যতিক্রম এবং সবচেয়ে অভিজাত রক্তের অধিকারী। জার্মানদের এই প্রজন্মটা বড় হয়ে উঠতে থাকে নিজেদের অভিজাত ভাবতে ভাবতে এবং বাকি বিশ্বকে নিজেদের চেয়ে কম মর্যাদা সম্পন্ন ভেবে। যেটা পর্যায়ক্রমে এখন সারা বিশ্বের মানুষ ব্লু ব্লাড হিসেবে জানে। এই প্রজন্মটাই বড় হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান সৈনিক হয়েছিল। এবং বাকি বিশ্বকে নিজেদের চেয়ে ছোট ভাবা এই মানসিকতাই যুদ্ধ করে পৃথিবী জয়ের জন্য তাদেরকে হিটলারের একান্ত অনুগত বানিয়েছিল। হিটলার তার অসংখ্য ভাষণে ‘আমরা ব্লু ব্লাড’ বলে জার্মান সৈনিকদের এবং দেশের মানুষদের যুদ্ধের পক্ষে উৎসাহ জুগিয়েছেন।
উপরের এই উদাহরণটি দিয়েছি আমার আজকের পোস্টের প্রসঙ্গে। ব্লগ লেখেন বড়রা এবং পড়েনও বড়রা। নানান ধরণের লেখার পাশপাশি এই ব্লগে সাহিত্য চর্চা হয় সবচেয়ে বেশি। এখন শিশুসাহিত্য ছোটদের পড়ার জন্য লেখা হলেও লেখেন বড়রাই। আমারও এমন শিশুদের জন্য, কিশোরদের জন্য অনেক লেখা আছে। কিন্তু আমি ঠিক বুঝতে পারছি না ব্লগে এগুলো পোস্ট করা উচিত হবে কি না ? সম্মানিত ব্লগাররা বিরক্ত হবেন কি-না? শিশু সাহিত্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। শিশুরা কি পড়ছে, তাদের মননে কি ঢোকানো হচ্ছে সেসবের উপর নির্ভর করে তাদের মনোজাগতিক বিকাশ ঘটে। যেহেতু ভালোমন্দ বোঝার ক্ষমতা এবং ন্যায় অন্যায় বিচার করার ক্ষমতা শিশুদের খুব নাজুক থাকে, অর্থাৎ মাত্র তৈরি হতে শুরু করে সেজন্য তাদের যা পড়ানো হয় সেটা খুব শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। উপরের ওই উদাহরণটা দিয়েছি শুধু এটা বোঝানোর জন্যই যে একটি জাতির জন্য শিশু সাহিত্যের গুরুত্ব কতটা ! আর শিশু থেকে বড় হয়ে সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনা বিকাশে তো সাহিত্যের অবদান অপরিসীম। তাই শিশুতোষ লেখা পোস্ট করবো কি-না সেটা আজকের পোস্টে আমি সবার কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চাই।


সাথে একটি ছড়া
খোকার বোয়াল
এমন করে ডাকিস যে তুই
খোকার নামটি ধরে !
জানিসনা তুই খোকা এখন
বোয়াল সভার ঘরে !
উড়ন্ত ওই শ্বেত হাতিটা
আকাশ বাতাস বেয়ে,
খোকার সভায় গান গেয়ে যায়
তবলা ডুগি পেয়ে।
বনের যত পঙ্খীরাজ আর
বাঘ, সিংহ, শেয়াল,
সার বেঁধে যায় মস্ত খেলায়
ধরতে বিরাট বোয়াল।
বোয়াল মাছের সভায় তখন
খোকার জমিদারী,
আসলে আসুক দস্যুরা সব
ভীষণ নজরদারি।
খোকন সোনার বোয়াল মামার
ইয়া বড় দাড়ি,
তাইনা দেখে কুমিরছানা
খেলো গড়াগড়ি।
বি.দ্রঃ- ছবিগুলো অন্য একজন ছড়াকারের, গুগোল থেকে পাওয়া।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




