[রং=মৎববহ] [সাইজ=4] এরই নাম প্রেম [/সাইজ] [/রং]
মাসের শেষ দিনটিতে উপমার সাথে হৃদয়ের দেখা হবেই। কোন পারিবারিক বাধা দিতে কেউ পারেনা। প্রতি মাসের 30 তারিখে উপমা এবং হৃদয়ের বিশেষ একটা দিন। বাকী দিনগুলো উপমা রাজশাহী থাকেন বলে দেখা হয়না। উপমা ঢাকায় একটা সরকারী কলেজে চাকুরী করছে বলে দু'জনের মধ্যে দেখা কম হলে ফোনে যোগাযোগ থাকে। উপমার ঘনিষ্ট বন্ধু হৃদয়। ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্ব যদিও আজকাল এখন ভাবে গাঢ় হয়না তবে উপমার ক্ষেত্রে ব্যপারটি ভিন্নরকম দাঁড়িয়েছে। হৃদয় বলে আমাকে পছন্দ করাটা তোমার পাগলামি উপমা ! হৃদয় ও হাসে উপমার কথা শুনে । হৃদয় বলে, যেদিন দেখবে আমি পৃথিবীতে ইে, সেদিন তুমি কি করবে উপমা ? -তুমি কি মৃতু্যর কথা বলছ হৃদয় ? এত তাড়াতাড়ি আমার বন্ধু মরে যেতে পারেনা ! -মানুষের মন বিচিত্রকখন কোন অবস্থায় তুমি আমি হারিয়ে যাব বা মূল্যহীন হয়ে পড়বো এটা কেউ বলতে পারবেনা। আর ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্ব অত্যান্ত কঠিন বাস্তব। কেউ এটাকে ভাল চোখে দেখেনা। উপমা মন খারাপ করে কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকে, তারপর বলে আমাদের বন্ধুত্ব কেউ নষ্ট করতে পারবেনা ! উপমার গভীর প্রতিজ্ঞা দেখে হৃদয়ের মন দূর্বল হয়ে পড়ে । ঢাকায় চাকুরী করছে উপমা। যাতায়াতের অনেক দূরত্ব। চোখে দেখা কম হলে মনের দূরত্ব কমবে এই ধারণা হয়ে হৃদয়ের। হৃদয় রাজশাহীর শহরের একজন নামকরা সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি আছে। যার উপন্যাস পাঠকের অন্তরকে নাড়া দেয়, আর সাহিত্যকে হৃদয় পেশা হিসেবে নিয়েছে। সাহিত্যিক হৃদয় রহমানকে মোটামুটি এক নামে সবাই চেনে। হৃদয় কথাশিল্পী। তার লেখা উপন্যাস গুলি জীবন ঘনিষ্ট। তাঁর সাহিত্য প্রাণ আছে, যেটা অন্যদের হৃদয়কে দোলা দেয়। বাজারে বই বিক্রি হয় প্রচুর। অধিকাংশ সময়ে রাতে ও দুপুরে সে লেখে। হৃদয় যখন লেখায় মনোযোগি হয় তখন জীবন সংসার সব তার ভুলে যাওয়া চাই। লেখালেখিতে প্রশংসা এবং সম্মাননা সে পেয়েছে। হৃদয় বিবাহিত, চার বছরের দাম্পত্য জীবন। বিয়েেেত রাজি ছিলনা এই লেখালেখির কারণে কিন্তু বাবা-মার পছন্দে সুমি নামের একটি মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সুমি সুন্দরী শিক্ষিতা এবং চঞ্চল মেয়ে, তাকে বৌ হিসেবে হৃদয় গভীর ভাবে ভালবাসে কিন্তু সুমিকে সে সুমির মত করে সময় দিতে পারেনা। বেশীর ভাগ সময় হৃদয় লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। দিনের পর দিন মাসের পর মাস সুমিকে অন্তরঙ্গ ভাবে কোথাও নিয়ে যেতে পারেনা। এতে সুমি এক সময ছটফট করে, আস্থিরতা বোধ করে এবং নিজেকে নিঃসঙ্গ বোধ করে। সুমি মাঝে-মাঝে হৃদয়ের লেখার ঘরে উঁকি মারে, দেখে মনোযোগ সহকারে কাগজ কলম নিয়ে লিখেই চলেছে' যে কারণে সুমির অভিমান হোত, একলা বিছানায় দুপুরে-রাতে ছটফট করত। কিন্তু কিছুই করার ছিলনা। একুশ বছরের তরুনী এত একা থাকার জন্য তার কষ্ট হতে থাকে। দিনের আর রাতের ব্যবধান ছিলনা হৃদয়ের কাছে।লেখালেখিতে টাকা উপার্যন করত, সেগুলো সুমির হাতে তুলে দিত সংসার খরচ এবং নিজের কেনাকাটার জন্য। সুমি সন্তান নিতে চায় ? হৃদয় বলে তোমার বয়স কম আরো দুই বছর পরে নিও, কিছুদিন যাক তখন দেখাযাবে। সুমি স্বামীকে অত্যান্ত ভালবাসত কিন্তু জীবনটা এক ঘেয়েমিতে ভরে গেছে বলে সুমি ধীরে ধীরে মানসিক, শারিরীক ভাবে পালটে যেতে শুরু করে। বাড়িতে মাঝে-মাঝে হৃদয়ের বন্ধু সজিব আসে। সজিবের সঙ্গে সুমি সময় কাটায়, গল্প করে, ছাদে যায়। বাহিরে বেড়াতে যায়, নাটক দেখতে যায়। হৃদয় সরল চোখে দেখত বলে প্রথমে কিছুই মনে করতনা। আর এতে করে অবিবাহিত সজিব সুমির সাথে বেশি ঘনিষ্ট হয়। সজিবের গানের গলা ভাল, সে গান গেয়ে গেয়ে সুমিকে শোনাত। আবার একদিন সুমিকে নিয়ে গান রচনা করল এবং সেই গানটা সুমিকে শোনাল। সুমি তন্ময় হয়ে ডুবে যায় গানের ভেতর। সজিবের বাসাতে সুমি বেড়াতে যায় দুপুর বেলার দিকে, হৃদয সেই সময় টেবিলে-চেয়ারে লিখতে বসে যায় 3/4 ঘন্ট টানা লিখে কিছুতেই উঠবেনা। সেই গান নিয়ে বসেনা তবে সেদিন বসেছিল, নিজের মনে গুনগুন করে গাইছিল ''সুমি সুমি শুধু তুমি সুমি আমার কতযে প্রিয়'' আর সেই সময় সুমির প্রবেশ। সজিবকে করল আনন্দিত আর সুমিকে করল মুগ্ধ। সুমি হেসে বলর, আপনার গান আমাকে আপনার বাসায় টেনে নিয়ে এল, দরজা খোলা দেখলাম বাসাতে কাউকে দেখছিনা ? সজিব বলে বাবা অফিস থেকে ফেরেনি আর মা গিয়েছে খালামনির বাসায়। -আমি আজ তাহলে উঠি ! সজিব সুমিকে যেতে দেয় না, দু'হাত ধরে বিছানায় নিয়ে এসে বসায় । সজিবের পুরুষালি স্পর্শে সুমির শরীরে হাল্কা আগুন ধরে তবুও চুপচাপ থাকে। হটাৎ সুমির চোখে জল আসে ? সজিব দু'হাতে জল মোছে, কিসের বিরহে কাঁদছ তুমি ? (চলবে.......)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৮:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



