
“মরে গেলাম গো, কেউ আমারে বাঁচান।”
রাত সাড়ে ন’টা। মহাসড়কের পাশ ধরে হাঁটছিলাম আমি আর মৃদুল। মৃদুল আমার বাল্যবন্ধু। অনেকদিন পর তার সঙ্গে দেখা। সুখ-দুঃখের আলাপ করছিলাম দু’জন; এমন সময় আমাদের কথাবার্তায় ব্যাঘাত ঘটল, চিৎকারটা কানে এলো।
“কী হলো?” মৃদুলকে জিজ্ঞেস করলাম।
“কিছু তো বুঝতে পারছি না,” মৃদুল বলল।
অন্ধকারে পথঘাট কিছু দেখা যাচ্ছে না। পেছনে লাইট মারলাম। একটা ভ্যান উল্টে পড়ে আছে। আমরা দৌড়ে সেখানে গেলাম। অটোরিকশার সাথে ধাক্কা লেগে ভ্যান উল্টে গেছে; ভ্যানের চালক নিচে চাপা পড়ে আছে, লোকটা নার্সারির চারা নিয়ে গিয়েছিল বেচতে; বোধহয় বেচতে পারেনি, সেগুলোও তার ওপরে।
মৃদুল, অটোঅলা আরও দু’জন ভ্যানটাকে পাশ ফেরাল, চারাগুলো সরাল আর আমি লোকটাকে টেনে বের করলাম। পা অনেকটা কেটে গেছে। রক্ত বেরোচ্ছিল অঝোরে। লোকটাকে পাঁজাকোলা করে অটোতে তুলে একজনকে বললাম, “আশপাশে কোনো ফার্মেসী আছে কি না; সেখানে নিয়ে যান। আমরা আসছি।”
“ভ্যানটা কোথায় রাখা যায়?” স্বগতোক্তি করলাম। একজন রাস্তার পাশেই রাখতে বলল। আমি বললাম, “চুরি হয়ে যেতে পারে। অন্য কোথাও?”
“বাজারে রাখা যায়”, একজন বলল। আমি, মৃদুল আর একজন ভ্যানগাড়ি ঠেলে বাজারে এক নিরাপদ স্থানে রাখলাম।
“বনকুয়া” বাজারে তখন ভিড় জমে গেছে। লোকজন আহত লোকটাকে দেখতে এসেছে। পা থেকে রক্ত মুছে সেখানে ব্যান্ডেজ করা হলো, ব্যথানাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হলো; দেওয়া হলো ইঞ্জেকশনও। লোকটা তখনও ব্যথায় কাতরাচ্ছে।
লোকটার বাড়ি কৈয়াদি। তার বাড়িতে ফোন দেওয়া হলো; বলা হলো দুর্ঘটনার কথা। তারা বলল শীঘ্রই আসছে।
লোকটা কাঁদছে তো কাঁদছেই। কিছুতেই তাকে থামানো যাচ্ছে না। এ কান্না শুধু ব্যথার নয়; এ কান্না একটা পরিবারের দীর্ঘশ্বাস! এ পরিবারের ইদ কাটবে কীভাবে? রাস্তা দিয়ে আসার সময় চারাগাছগুলো আবার চোখে পড়ল, মনটা ডুকরে কেঁদে ওঠল।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৪ সকাল ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



