somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চাকরিচ্যুতি

১৭ ই নভেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মালিবাগ থেকে গাড়িতে উঠেছি বাংলামোটর যাব। সেখান থেকে শাহবাগ। হঠাৎ স্যার ফোন দিলেন। জিগ্যেস করলেন, "কোথায় তুমি?"
"গাড়িতে।" সালাম দিয়ে বললাম আমি।
"নূর মোহাম্মদ কী করেছে জানো কিছু?" স্যার জিগ্যেস করলেন।
"না তো স্যার।" অবাক হয়ে প্রত্যুত্তর করলাম।
স্যার বললেন, "ও বাসায় গাঁজা সেবন করে। ব্যবসা করে।"
অবাক হয়ে বললাম, "কী বলেন স্যার?"

প্রসঙ্গত, নূর মোহাম্মদ অফিসের একজন কর্মী। এখানে ফুট-ফরমায়েশ খাটে।


স্যার তাড়াতাড়ি অফিসে যেতে বললেন। আমি বললাম, "একটা কাজে যাচ্ছি ঘন্টাখানেক সময় লাগবে।"
স্যার বললেন, "ঠিক আছে।"

বাংলামোটর যেতে না যেতেই স্যার আরও কয়েকবার ফোন দিলেন। ধরতে পারি নি। মেজাজ চরমে ওঠে গেল। "এরা কি বোঝে না আমিও একজন মানুষ? আমারও কাজকর্ম থাকতে পারে?" স্বগতোক্তি করলাম।

নেট অন করে দেখি ম্যাডাম (স্যারের মা) হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়েছেন। ম্যাডামকে মেসেজে বলে দিলাম ঘন্টা দুই পর ফ্রি হব। তখন কথা বলব। এরমধ্যেই স্যার দিলেন আবার ফোন। বললেন, "ঘর চেক করো। তারপর ওকে চলে যেতে বলো।"
"স্যার, যাচাই-বাছাই না করেই বিদায় দেব?" আমি বললাম।

নিজের কাজ শেষে অফিসে যাচ্ছি। এরমধ্যে স্যার ৮-১০ বার ফোন দিয়েছেন। বিরক্ত হয়ে ধরি নি। রিকশা জ্যামে আটকা। স্যার আবার ফোন দিয়েছেন। ধরতেই স্যার বললেন, "কোথায়?"
"এই তো প্রায় চলে এসেছি।" আমি বললাম।
"গিয়ে ফোন দিও।" স্যার বললেন।

১৫ মিনিট লাগল। কথা বললাম স্যারের সাথে, ম্যাডামের সাথে। ম্যাডাম তল্পিতল্পা সহ নূর মোহাম্মদকে চলে যেতে বললেন। আমি বললাম, "ম্যাডাম, একটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলে হতো না?" ওনি কথা শুনলেন না। স্যারও চলে যেতে বললেন।
"এদেরকে পয়সার লোভ দেখিয়ে সব কাজ করানো যায়।" ম্যাডাম বললেন।
আমি বলতে পারলাম না, "ম্যাডাম, বেতন বাড়িয়ে দিলে হয়ত এপথে যেত না।"
নূর মোহাম্মদ চলে গেল।

নিরাপত্তাকর্মীর কাছে ভিডিও ছিল। চেক করলাম। ঘটনা সত্যি। নূর মোহাম্মদ তার এক বন্ধুকে নিয়ে ঘরে গাঁজা সেবন করেছে, ব্যবসাও করে। নিরাপত্তারক্ষীকে বললাম, "আমাকে আগে বলো নি কেন?"
সে বলল, "স্যার বলেছিলেন কোন ঝামেলা হলে তাকে যেন জানাই।"
কিছু বললাম না।

পরদিন স্যার বললেন, "সিকিউরিটি কি তোমাকে কিছু জানায় নি আগে?"
"না।" আমি বললাম।
"ও বেশি পেকে গেছে। ওকে বদলি করো।" স্যার বললেন।
স্যার জানালেন যে সিকিউরিটির সাথে নূর মোহাম্মদের একটা ঝামেলা আছে। তৃতীয় পক্ষ এখানে সুযোগ নিয়েছে। আমি যেন পুনরায় নূর মোহাম্মদের সাথে যোগাযোগ করি।

ফোন দিলাম নূর মোহাম্মদকে। ওর নাম্বার বন্ধ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:৩৩
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেয়েদের চোখে মাস্ক পড়া ছেলেরা বেশী আকর্ষণীয়

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ১১:১৪


ইংল্যান্ডের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ পরিচালিত একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মেয়েরা মাস্কহীন পুরুষের চেয়ে মাস্ক পরিহিত পুরুষদের দ্বারা বেশী আকৃষ্ট হয়। যে সব ছেলেদের চেহারা আমার মত ব্যাকা ত্যাড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সারোগেট বেবি

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১২:১৮





অন্যের পেটে আপনার সন্তান, বাড়ছে আরামে, আর আপনি মা হয়েও ঘুরছেন হিল্লি-দিল্লী। সহজ কথায় এরই নাম সারোগেট। বাবার শুক্রানু ও মায়ের ডিম্বানু নিয়ে ভ্রুণ বানিয়ে কোনো এক মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময়ের ব্যবধানে...

লিখেছেন দেয়ালিকা বিপাশা, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১২:৪০

সব আন্দোলন আসলে আন্দোলন নয়, সব দাবী, দাওয়া সত্যিকার অর্থেই কোন অর্থই বহন করে না

লিখেছেন সাখাওয়াত হোসেন বাবন, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:২৫



শাহ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালযয়ের ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলন দেখে, আমার ছোট বেলার একটি আন্দোলনের কথা মনে পরে গেলো । সেটি ছিলো আমার জীবনের প্রথম কোন আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাবিআইয়্যিআলায়িরাব্বিকুমাতুকাজ্জিবান?

লিখেছেন জটিল ভাই, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:২৩


(ছবি নেট হতে)

তোমায় ভালবেসে জীবন দিতে চাই,
সকল সময়ে তোমার চরণে দিও ঠাঁই।
জানি মোর পাপের পাল্লা অতিমাত্রায় ভারি,
কিন্তু বহুগুণ ভারিতো; করুনার পাল্লা তোমারি।
তাইতো কঠিন মাটিতে ফলাও শস্যদানা,
আবার সে মাটি হতেই দাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×