তারু এর মন আজ খুব ফুরফুরে।বড় রাস্তার মোড়ে "ঔষধ ঘর"ফার্মেসি এর সামনে দাড়িয়ে গুনগুনিয়ে 'ও বন্ধু লাল গুলাপি' গান গাচ্ছে আর এদিক ওদিক তাকাচ্ছে।তারুর ফুরফুরা মনের কারন জরিনা আজ এগারোটায় কুদ্দুসের মেসে আসতে রাজি হয়েছে।জরিনা তারুর নতুন গার্লফ্রেন্ড।জরিনার সাথে তারুর ফেবুতে পরিচয়।প্রেম ভালবাসা এতদিন ইনবক্স আর ফোনেই হয়েছে।বেশিদিন হয় নি।অল্প কয়েকদিন।আর এর মধ্যেই জরিনা তারুর প্রেমে পাগল হয়ে ডাইরেক্ট রুম ডেটের অফার গ্রহন করে বসল।এই আনন্দে তারু আপ্লুত! আবার জরিনার চরিত্র নিয়ে মনের মধ্যে সামান্য সন্দেহও উকি দিচ্ছে।এক ডাকেই রুমে?নিজের মন কে তারু এটা বলে বোঝাল,খামখা চিন্তা করছে হয়ত কেউ আগে কখনও জরিনার হাতই ধরে নাই!
এখন বাজে ১০.৩৫। জরিনা বাসা থেকে বের হলেই তারুকে ফোন দিবে।জরিনার বাসা থেকে তারুর মেসে আসতে মিনিট পনের সময় লাগবে।ভাবল নিজেই একবার জরিনাকে ফোন দেবে।কাজটা শেষ হলে।কাজ মানে,ঐ ইয়ে।ঐটা আর কি।
অনেক্ষন ধরে ফর্মেসির সামনে দাড়িয়ে এদিক ওদিক করছে।আশে পাশে পরিচিত কেউ নেই।কিন্তু ফার্মেসির ভেতর এক এসআর ব্যাটা দাড়িয়ে আছে।কেনার সময় তারুর আশেপাশে দোকানদার ছারা আর কাউকে কল্পনা করতে পারে না।কিন্তু আজ মনে হয় কল্পনার সিমারেখা অতিক্রম করতে হবে।
একবুক নিশ্বাস নিয়ে,তারু কিছুটা সাহস নিল বুকে।ডোন্ট কেয়ার ভঙ্গিতে দোকানে ঢুকে দোকানদারকে কে বল্ল "এই যে ভাই,এক কার্টন প্রজা দেন তো"।অধিক উত্তেজনার সময় কথা উল্টোপাল্টা হয়,আর এই ব্যাপারে ফার্মেসিতে আসলে কখনও ফার্মেসি ওয়ালা প্রথম বারে ধরতে পারে না কি চাওয়া হয়েছে।আজ সামান্য বাতিক্রম ঘটল।দোকানদার ডিটেক্ট করতে পারল কি চাওয়া হয়েছে কিন্তু চোখ কপালে তুলে বল্ল "এক কার্টন??"
"না এক প্যাকেট"
ও বলে দোকানদার সরে যেতেই,ব্যাগ থেকে কাগজ কলম বের করে সেই এস আর তারুর দিকে এগিয়ে এল"ভাই আমি সেফ সাইড এনজিও থেকে এসেছি,আমাদের এনজিও সেফ প্রটেকশন নিয়ে একটি গবেষনা করছে,আপনার কি দু-মিনিট সময় হবে?"
তারুর মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল!ভারি যন্ত্রনা।এক দৌরে পালিয়ে গেলে মন্দ হয় না'ভাবল তারু।তারু সেই এনজিও কর্মীকে পুরোপুরি এভোয়েড করল।দোকানি জিনিস নিয়ে এসেছে তারু বিশ টাকা বের করে রেডি।নষ্ট করার মত হাতে একটি মূহুর্তও নেই।এই কর্ম যত তারাতারি করা যায় তত ভাল।আড়চোখে দেখে এনজিও কর্মী ওনার বাদামি চামড়ার ব্যাগ থেকে ডিজিটাল ক্যামেরা বের করছে।
তারুর মাথায় দ্বিতীয় বার বজ্র সহ আকাশ ভেঙ্গে পড়ল!তবে কি দোকানি থেকে প্যাকেট হাতবদল হওয়া অবস্হায় এনজিও কর্মী তাদের দুজনার মৃদু হাসিমুখে ছবি তুলবে?ভাবল তারু।
কোন রকমের অঘটন ছারাই প্যাকেট হাতবদল হল।তারু একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।আর কয়েক সেকেন্ড।টাকা দিতেই বাধল বিপত্তি,
"তেইশ টাকা দেন।দাম বাড়ছে।তিন টাকা খুচরা দিয়েন।এখন তো মানুষজন এক টাকার জন্যও একশ টাকার নোট দেয়"
দোকানির মুখ থেকে এনজিও কর্মী কথা কেড়ে নিলেন"ভাই আপনি যদি আমাদের সহজ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন,আমাদের এনজিওর পক্ষ থেকে অতি উন্নত মানের তিনটি ডোজের একটি প্যাকেট ফ্রি দেওয়া হবে,জনাব আপনার নাম?"
তারুর মাথায় তৃতীয় বারের মত আকাশ ভাঙল।তারু বাইরে উকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করল আসলেই উপরে আর কোন আকাশ অবশিষ্ট আছে কি না।কারন তারুর পকেটে আসলেই কোন খুচরা টাকা নেই।আছে একটি একশ টাকার নোট! এবং তারুর অনুমান করা এনজিও কর্মীর পরবর্তী প্রশ্ন দুটি হচ্ছে বাবার নাম আর স্হায়ী ঠিকানা! ঠিক এ সময় তারুকে এ কঠিন অবস্হা থেকে উদ্ধার করতে মহীয়সী নারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন জরিনা।তারুর ফোনে সশব্দে 'পোলা তো নয় সে তো আগুনেরই গোলা' গান বেজে উঠল।তারু জানে পানি আর পায়ের নিচে মাটি দু-টিই ফিরে পেল।
দোকানির দিকে প্যাকেট বাড়িয়ে দিয়ে তারু বল্ল,"ভাই,জরুরি একটা কল এসেছে,এটা একটু রাখেন আমি একটু পর আসছি"বলেই হাটা দিল। এসময় কল রিসিভ করে কানে দিয়েছে।
পেছন থেকে দোকানি টাকা নিয়ে যেতে ডাকছে।আর তারু কে পায় কে।একটা ব্যাপারে তারু খুব খুশি, আট ঘাট বাধা থাকলে ধরা পরে যাওয়ার ভয় থাকে।এখন বেশ স্মুথলি ইনোসেন্ট অ্যাকটিং করা যাবে।
ঝামেলা হইল বাড়িওয়ালা চাচা!ব্যাটার কাম নাই সারাদিন চেয়ার একটা নিয়া বাড়ির সামনে বসে থাকে।আগের টারে মামাতো বোন বলছিল এইটারে কি বলবে সেটাই ভাবছে তারু!
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ৩:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


