কিন্ডারগার্টেন এ আদরে পড়া এই আমার বেতের সাথে ফাস্ট পরিচয় জেলা স্কুলে ক্লাশ থ্রিতে ভর্তি হওয়ার পর।এমনি কিন্ডারগার্টেন থেকে শুনে আসছিলাম সরকারি স্কুলে মোটা বেত ব্যাবহার হয়।কিন্তু তা এমন কারুশিল্পময় তা ধারনার বাইরে ছিল।
ক্লাশে সুভাস চন্দ্র স্যার সমাজ পড়াতেন।প্রতিদিন ২-৩ পেজ মুখস্ত পড়া দিতেন।মোটা বেত নিয়ে আসতেন ক্লাশে।বেতের ওপড় সাপের মত প্যাঁচানো কারুকাজ করা।পড়া একদম না পারলে ২ টা,অল্প না পারলে একটা,ক্লাশে বিশৃঙ্খলা করলে ২ টা ফিক্সড ছিল।কিন্ডারগার্টেনএ পড়া এই আমার ম্যাক্সিমাম একফুটি কাঠের স্কেলে হাতে এক দুইটি মার খেয়ে অভ্যাস আছে,কিন্তু পোড়ানো কারুকার্যময় বেতের পশ্চাৎদেশের উপর মারের এক্সপিরিয়েন্স ঐ প্রথম এবং সে অভীঙ্গতা ছিল ভয়াবহ।
স্কুলে আমি দুবার ভয়াবহ বেতের মার খেয়েছিলাম।একবার জোড়া বেত আর একবার সিঙ্গেল বেতের।স্কুল মাঠে এক বন্ধুর সাথে দুষ্টামি করত অবস্হায় স্কুলের পিওন'স্যার ডাকে' বলে আমার হাত ধরে টানতে টানতে প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে নিয়ে গেল।প্রিন্সিপাল স্যার টেবিলে রাখা জোড়া বেত নিয়ে পেটাতে শুরু করলেন!আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার শরীরে ১০-১২ টি বারি পড়ে গেল।শরীরে জোড়া জোড়া লাল দাগ।কানতে কানতে স্যারের রুম থেকে বের হয়ে কলের পাড়ে গিয়ে পানি লাগাচ্ছি,আমার বন্ধু দেখি (যার সাথে দুষ্টুমি করছিলাম) একটি আইসক্রিম নিয়ে দৌড়ে আসছে।এসে আমার ক্ষতস্থানে আইসক্রিম লাগতে শুরু করল।আমি সব ভূলে গেলাম!
যেদিন সরকার স্কুলে বেত ব্যাবহার বন্ধ ঘোষনা করলেন,আমি খুশিতে আত্বহারা হয়েছিলাম।কিন্তু ইদানিং জানতে পারলাম স্কুলে বেত ব্যাবহার চলছেই! এতদিন কাগজে যে দু-একটা বেত ব্যাবহারের ঘটনা চোখে পড়ত বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়িয়ে যেতাম।আজ আর একটা চোখে পড়ল ঠাকুরগায়ে।এভাবে চলতে পারে না।এটা সরকারি আইন অমান্য।যেসব স্যার এখনও বেত ব্যবহার করেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্হা নেওয়া উচিৎ।
আমাদের সন্তান এ দেশের সম্পদ।তাদের সঠিক ভাবে ভয় প্রহসন মুক্ত বেড়ে ওঠানোর দায়িত্ব আামাদের।তাদের হিংস্রতা দেখালে বড় হয়ে তারাও হিংস্র হয়ে উঠবে।আসুন আমাদের সন্তান এবং দেশের সম্পদকে সঠিক ভাবে গড়ে তুলি।
ধন্যবাদ

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



