somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাদাত হোসাইন
লিখি, ফিল্ম বানাই, ছবি তুলি। বই প্রকাশিত হয়েছে ৫ টি। উপন্যাস, ছোট গল্প আর (অ)কবিতার বই। প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের নাম 'বোধ'। ২০১৩ তে জিতেছে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল এ্যাওয়ার্ড। স্বপ্নের সবটা জুড়ে গল্প। সেই গল্প বলতে চাই লেখায়, চলচ্চিত্রে, ছবি

পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ঘড়ি

০৩ রা নভেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা ঘড়ির খুব শখ।
ক্যাসিও ঘড়ি। স্টিলের সরু চেনওয়ালা ডিজিটাল ঘড়ি। হাতের কব্জির ওপর ফুলের মতন ফুটে থাকে। দেখতে কি যে সুন্দর লাগে! কি যে সুন্দর লাগে! রতনের আব্বা বিদেশ থেকে রতনের জন্য এই ঘড়ি পাঠিয়েছে। রতন টাইম দেখতে জানে না, কিন্তু সেই ঘড়ি হাতে ফুলবাবু সেজে ঘুরে বেড়ায়। আমাকে দেখলেই বলে, 'এই ঘড়ির দাম সবচে বেশি, বুঝছস?'
আমি বলি, 'ক্যান? বেশি ক্যান? ঘড়িতো ইট্টুহানি! দাম বেশি হইব ক্যান?'
রতন বলে, 'এহ! আইছে! এইডা কি বাংলা ঘড়ি পাইছ? এইডা হইল ইংরাজি ঘড়ি'।
আমি বলি, 'ঘড়ির আবার ইংরাজি বাংলা কি?'
রতন বলে, 'যেই ঘড়িতে কাটা ঘোরে, সেই ঘড়ি হইল বাংলা ঘড়ি। দাম কম। আর যেই ঘড়িতে ইংরাজি অক্ষর ওঠে, সেই ঘড়ি হইল ইংরাজি ঘড়ি। দাম বেশি'। আমি রতনের জ্ঞান গরিমায় মুগ্ধ! প্রবল মুগ্ধতা নিয়ে জিজ্ঞেস করি, 'এখন কয়টা বাজে?' রতন হাতের উল্টোপিঠে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থেকে ঘড়ি দেখল। তারপর ভাব গম্ভীর মুখে বলল, 'এগারোটা তিরিশ'। আনোয়ার চাচা ইশকুলে যাচ্ছেন, আমি দৌড়ে গিয়ে তাকে বললাম, 'ও মাস্টার চাচা, এখন কয়টা বাজে?'
তিনি বললেন, 'প্রায় দশটা বাজেরে ব্যাটা। দশটা বাজতে ইট্টু বাকী আছে। ১৫ মিনিট। ১৫ মিনিট পরেই ১০ টা বাজব!' আমি ভ্রু উঁচিয়ে কিংবা বাঁকা করে রতনের দিকে তাকাই, 'কি রে, দেখলি? তুইতো টাইমই চিনস না। আবার ঘড়িও হাতে দেস!'
রতন দীর্ঘক্ষণ কোন কথা বলল না। চুপচাপ নিচের দিকে তাকিয়ে বসে রইল। তারপর হঠাৎ মুখ তুলে রাশভারী গলায় বলল, 'তোর না কোন দিন বুদ্ধি হইব না। ইংরাজি আর বাংলা ঘড়ির টাইম কি সমান হইব কোন দিন? দামী জিনিস আর সস্তা জিনিসের দাম কি সমান হয়? এই জন্য ইংরাজী ঘড়িতে বাংলা ঘড়ির চেয়ে সবসময় বেশি টাইম বাজে'!
অকাট্য যুক্তি! এই যুক্তি ফেলে দেয়ার কোন সুযোগ নেই। একটা বেশি দামী ইংরাজি ঘড়ির আফসোস বুকে চেপে আমি রতনের দিকে তাকিয়ে থাকি।
সেদিন আম্মা হঠাৎ আমাকে বুকের সাথে জাপটে ধরে ফিসফিস করে বললেন, 'আমার আব্বুর কাছে সবচেয়ে বেশি দামী কি?' এই প্রশ্ন এবং উত্তরের খেলা আমরা মাতা-পুত্র অসংখ্যবার খেলেছি। আবারও খেল্লাম। আমি গাল ফুলিয়ে বললাম, 'তুমি'।
আম্মা বললেন, 'তাইলে আমি আমার আব্বুকে যা দিব, সেইটা কি সবচেয়ে বেশি দামী না?'
আমি কিছুক্ষণ বিভ্রান্ত চোখে তাকিয়ে থেকে উপর নিচ মাথা তুললাম। আম্মা তার আঁচলের তলা থেকে নারকেল পাতা দিয়ে বানানো এক ঘড়ি বের করলেন। তারপর আমার হাতে পরিয়ে দিতে দিতে বললেন, 'তাইলে, এইটা এখন কি? সবচেয়ে দামী ঘড়ি না?'
আমি কোন কথা বললাম না। সেই ছোট্ট আমি কি বুঝেছিলাম, জানি না। তবে চুপ করে বসে ছিলাম আম্মার কোলে। পরদিন রতনের সাথে দেখা হতেই রতনকে জিজ্ঞেস করলাম, 'তোর ঘড়িতে কয়টা বাজে?' রতন আগেরদিনের মতই বলল, 'এগারোটা তিরিশ'।
আমি বললাম, 'মাত্র এগারোটা তিরিশ? আমারটায় কয়টা বাজে জানস?'
রতন অবাক চোখে আমার হাতের দিকে তাকাল। আমার হাতে কি এটা! তারপর মুখভর্তি তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল, 'ঘ...ড়ি? এইডা ঘ...ড়ি? হুহ! তোর এই ঘড়িতে আবার বাজেও, কয়টা বাজে?'
আমি অনেকক্ষণ সেই নারকেল পাতার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রইলাম, তারপর বললাম, 'একলক্ষ এগারোটা তিরিশ বাজে!' রতন চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, 'ঘ্যাট! এতো কোনোদিন বাজে!!
আমি বললাম, 'বাজে। দামী ঘড়ি হইলে বাজে! এইটা পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ঘড়ি'।
-------------------------------------------------------------------------------
পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ঘড়ি/ সাদাত হোসাইন
৩১/১০/২০১৪
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×