
--ভাইয়া আমার বিয়ে ।
--কি !!!
--আমার বিয়ে ।
--সত্যিই ?
--কেন , তোর কি মনে হয় আমার বিয়ে হবে না ।
-- না ঠিক তা নয় । এই সেদিন ও তো তুই ফ্রক পরে ঘুরে বেড়াতি । সেবার আমি ভাইভা দিতে যাচ্ছিলাম , ফাইলটা রেখেই বেরহয়ে পড়েছিলাম । মা বললেন, তুই রিতা কে ধর , আমি ফাইল নিয়ে আসছি । তোকে কোলে নিতেই তুই আমার গায়ে হিসু করে দিয়েছিল । মা ঘর থেকে আসতেই আমি মায়ের দিকে তাকিয়ে হেঁসে ফেলি ।
-- ভাইয়া তোর মনে আছে , তখন আমি ক্লাস ৪ এ পড়ি । বর্ষাকাল । স্কুল ছুটির পর প্রচন্ড বৃষ্টি । তুই আমাকে নেবার জন্য এলি । আমার বইগুলো তোর এক হাতে নিলি , আর আমাকে ঘাড়ে নিয়ে হাটাশুরু করলি । আমি কতকরে তোকে বলেছিলাম আমি হেঁটেই যাই । একটু বৃষ্টির পানি গায়ে লাগলেই জ্বর আসবে , তাই তুই কিছুতেই শুনতিস না ।
-- হুম , মনে আছে । আমি হসপিটালে ভর্তি । তখন তো বয়স ১৫ বছর । আমাকে অপারেশনের জন্য অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হয়েছে । রাত ৪ টার দিকে আমার জ্ঞান ফিরলে । তাকিয়ে দেখি তুই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাদছিস । মা বলেছিল , তুই নাকি সারাটা রাত এভাবেই কেদেছিলি । তোর কি মনে আছে তোর কাছে আমার কি পাওনা আছে ।
-- হুম আছে । ১৬৭টা ডিম ভাজি । মাঝে মাঝে তুই আমাকে স্কুলে রেখে আসতিস । যতদিন তুই আমাকে স্কুলে রেখে এসেছিস তার জন্য একটা করে ডিম ভাজি বরাব্দ । আর সেটা আমার শ্বশুর বাড়ী গিয়ে খাওয়ার কথা । আমার শ্বশুর বাড়ি কিন্ত ঘন ঘন আসা যাবে না । মাসে ৪ দিন আসলেই চলবে । আর আসার সময় অবশ্যই মোড়ের ঐ রফিক চাচার কাছ থেকে সকাল সন্ধ্যা আইস্ক্রিম নিয়ে আসবি । সেটা যদি শীত কাল হয় তবুও । কোথায় পাবি আমি জানি না ।
-- তুই আসবি তো আমার বিয়েতে?
--কি রে কথা বলিস না কেন , আসবি তো ?
রিতা খেয়াল করে দেখে তার ভাইয়া সাদা মেঘের মধ্য হারিয়ে যাচ্ছে । সে খুব জোরে ভাইয়া বলে চিৎকার দিয়ে ওঠে । বসন্তের প্রথম দিক । উত্তরের জানালা খোলা । সকালের রোদ উকি দেবার আগের সাদা কুয়াশা । রিতা তার চোখের জলকে সংবরণ করতে পারে না । বছর খানেক হল তার ভাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ১০:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


