
মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেরা আর কিছু পারুক না পারুক , খুব সুন্দর করে গুছিয়ে নিজের স্বপ্ন গুলোকে কবর দিতে পারে । স্বপ্ন থেকে এদের দূরত্ব যোজন যোজন মাইল । মহাজাগতিক গ্রহগুলোর মত, এরা স্বপ্নের ঠিক সমান দূরত্বে থেকে আবর্তিত হয় । ক্রাইসিস নামক অধ্যায়ে এদের বিচরণ সবচেয়ে বেশি । এ অধ্যায়ের প্রতিটা পাতা নম্বর সহ প্রতিটা লাইন এরা গড় গড় করে বলে দিতে পারবে ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় যে ছেলেটা বন্ধুদের বলে তোরা দেখে নিস চাকরির প্রথম মাসের বেতন দিয়ে আমি ডি.এস.এল আর কিনব, পড়ালেখা শেষ করে ৫ সংখ্যার একটা বেতনের চাকরিও পেয়ে যায় । যার অযুত স্থানীয় অঙ্ক ৬ বা ৭ । স্বপ্নের এত কাছে থেকেও সে সবপ্নগুলোকে ছুতে পারে না । ছোট বোনের বিয়ের বয়স হয়েছে । তার জন্য বাড়ীর কাজটা শেষ করা জরুরি । এক সময় বাড়ীর কাজ শেষ হয় , বোনেরও বিয়ে হয় । দিন শেষে দেখে, কারো দ্বায়িত্ব নেবার সময় তার ও যায় যায় । এক সময় ভাবে , থাক নিজে তো পারলাম না , পরের জেনারেশনের যেন এই ক্রাইসিস এর মধ্য না পড়ে সেইটা ইনশিউর করি ।
এরা ব্যানসনের প্যাকেটে ডারবি নিয়ে অনায়াসে দিন চালিয়ে দেয় । খুব কাছের বন্ধুটিও জানে না প্যাকেট প্যাকেট ব্যানসন , কিভাবে সম্ভব । এর রহস্য জানে শুধু হলের গেটের ওই আধা বয়স্ক দোকানদার মামা । গেলেই , একটা অমলিন হাঁসি দিয়েই , সযত্নে সিগারেটগুলো ব্যানসন এর প্যাকেটে ভরে দেয় ।
ভাল লাগার মানুষটি দৃষ্টিসীমার খুব কাছে থাকা স্বত্বেও একসাথে পথ চলার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে না । পিছে আবার বাবার স্বপ্নটা মাটি না হয়ে যায় ।
প্রচন্ড শীতের রাতে কাঁপতে কাঁপতে যে মানুষের হলের বাইরে দাড়িয়ে সারা রাত মোবাইলে কথা বলেছে, যার মন খারাপ থাকলে সে অস্থির হয়ে উঠত কিভাবে তার মন ভাল করা যায় , যার একফোঁটা চোখের জল দেখলে সে নিজে কেঁদে ফেলতো , সেই প্রিয় মানুষটির চোখে জলের ফোয়ারা থাকা স্বত্বেও, হাসিমুখে তাকে বিদায় দেয় ।
মাস শেষে টিউশনির ২০০০ টাকার বদলে যখন ১৫০০ টাকা দিয়ে আন্টি বলেন , বাবা এ মাসে একটু সমস্যা এটাই রাখ , তারা মিষ্টি হেঁসে বলে, না আন্টি সমস্যা নেই । এ মাসে বেতন না দিলেও তো হত । অথচ ঐ ৫০০ টাকা দিয়ে ছোট বোনের জন্য একটা থ্রি পিস কিনে পাঠাবে বলে ভেবে রেখেছিল ।
এরা পারে , এদের পারতে হয় ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




