somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিসেস ইসলামরা বদলায়না (গল্প)

২৩ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ১২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



২৪ মার্চ ২০১৮, মিসেস ইসলাম এর ফেইসবুক ষ্ট্যাটাস। এর পর আর কোন ষ্ট্যাটাস দেয়া হয়নি আজ পর্যন্ত। তার আগের ষ্ট্যাটাস দিয়েছে ১৬ই মার্চ এবং তার আগের ষ্ট্যাটাস ছিল ২৩ই ফেব্রুয়ারী।

বুঝায় যাচ্ছে ফেইসবুকে তিনি নিয়িমিত নন। কিছু পারিবারিক ছবি পোষ্ট করা ছাড়া আর কোন কাজে ব্যবহার হয়না এই ফেইসবুক আইডি। এবং তাতে খুব একটা কমেন্টও থাকেনা। দু'চারটা কমেন্ট হয়তো থাকে আর ২০/২৫ লাইক।
একটা নারিকেল গাছ। তার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মিসেস ইসলাম। ২৪টা লাইক আর দুইটা হার্ট বা লাভ। একটা দিয়েছে আফরিন রিপা আর অন্যটা নুর ফাতেমা রুমা।

কমেন্ট পড়েছে দুইটা একটা করেছে সাহেদ হাসান, সে লিখেছে, " আপু পিকটা দেখে অতীত এর কথা মনে পড়ে, যেন বয়সটা ১৮-২২ আনন্দ, ফুর্তি,ঘোরাঘুরি,,,,,," তাকে রিপ্লাই দেয়া হয়েছে, "Thanks my dear brother."
মেহনাজ এস তানি কমেন্ট করেছে, "আপু আপনাকে সেই ২০০৫-২০০৬ এ যেমন দেখেছিলাম আপনি এখন ও তেমনি আছেন... :)" তার জবাব পাওয়া গেছে,"মনের দিক থেকে আমি সে রকমই আছি।"

শুক্রবার সহ ঈদে টানা পাঁচদিন ছুট শাহেদ এর। ছুটির সময়গুলো কাল হয়ে দাঁড়ায় যেন। কোন কাজে ব্যস্ত থাকলে দিনগুলো ভালই যায় তার। বৃহষ্পতি তার অপিষ হাফছুটি আর শুক্রবার বন্ধ। এই সময়টাতে তার খুব ভয়। খুব একটা আড্ডা, বন্ধু-বান্ধব এসব মেনটেইন করেনা সে। সময় পেলে ব্লগে কিছু লেখার চেষ্টা করে, ইউটিউবে মুুুভি দেখে ইত্যাদি। পুরোনো ফেইসবুক আইডিটা ডিএকটিভ করে রেখেছে, নতুন একটা আইডি খুলেছে ছদ্ম নামে। সেখানে সে একা। কাউকে ফ্রেন্ড লিষ্টে ইন করেনি। ব্লগে যেসব লেখে সেখানেও পোষ্ট করে রাখে, যদি প্রয়োজন হয় তাহলে সংরক্ষণে থাকল সেই সুবাদে।

ছুটির দিনগুলোতেই হানা দেয় কালবৈশাখি ঝড়গুলো শাহেদ এর মনে। সেটাকে সে খুব ভয় পায় আবার ভালও লাগে। মাঝেমাঝে ইচ্ছে করেই এক ঘোরের মাঝে ঢুকে যায় শাহেদ। ফিরে যায় সেই নিকট অতীতে। মনোজগতে নিয়ে আসে স্মৃতিগুলো। একাএকা রাস্তায় হাঁটা, শরীর কেঁপে উঠা, দম নিতে গিয়ে আটকে যাওয়া, কোন একদিকে তাকিয়ে থেকে চোখ দিয়ে অনর্গল পানি ঝরা, খেতে গিয়ে খেতে না পারা ইত্যাদি উপসর্গগুলো উপভোগ করে সে। এগুলো এখন তার একান্ত নিজস্ব সম্পত্তি। চাইলেও ভাগ দেবেনা কাউকে আর। ভাগ করা মানে অনুভূতিগুরো নষ্ট হয়ে যাওয়া। সেই অনুভূতি কিছুতেই হাতছাড়া করবেনা সে।

মিরুকে পাওয়া যাচ্ছেনা মোবাইলে। মোবাইল বন্ধ। প্রথম দিন ভেবেছিল হয়তো কোন সমস্যা হয়েছে পরে ব্যাক করবে। দিন গড়াতে গড়াতে যখন সপ্তাহ পার হল তখন আর অপেক্ষা করা চলেনা। ভয় এবং সন্দেহ দুটোই জেকে বসল। যোগাযোগ করা হল ফাহমিদার সাথে, মিরু'র কাজিন।

" সেকি ভাইয়া আপনি জানেননা?"
না জানিনা
'' সত্যিই জানেননা? আপনাকে বলেনি মিরু আপুু।"
আমি বুঝতে পারছিনা তুমি কী বলছ, একটু খোলশা করবে?
'' মিরু আপুুর আক্দ হয়ে গেছে গত সপ্তাহে।"

ফাহমিদার কথাগুলো বুঝে উঠতে অন্তত ত্রিশ মিনিট সময় গড়াল। এটা কী হল? গোপনে সে বিয়ে করে বসল অথচ একটুু জানালনা। মোবাইলও অফ করে রেখেছে। বিশ্বাস করতে পারছিলনা শাহেদ। অন্তত মিরু'র সাথে সরাসরি কথা হলে জানা যেত রহস্য কী? কিন্তু সেটাও কিভাবে সম্ভব? ওরতো মোবাইল অফ। পরে অনেক রিকোয়েষ্ট করে ফাহমিদার কাছ থেকেই সংগ্রহ করা গেল নতুন নাম্বার। যেটা মিরু'র বর মিরুকে উপহার দিয়েছে। একটেল এফএনএফ সিম।

হ্যালো মিরু বলছ?
মিরু'র চিনতে কষ্ট হলনা এটা শাহেদ এর কন্ঠস্বর। হঠাৎ এমন কল এর জন্য প্রস্তুত ছিলনা সে। নির্বাক, কোন জবাব দিলনা।
হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো মিরু বলছ? আমি বেশী সময় নেবনা, শুধু একটা প্রশ্ন করব, প্লিজ। উত্তরটা জানা আমার খুুব জরুরী।
"হুম বল."
তোমার কী বিয়ে হয়ে গেছে? এটা কী সত্য? প্লিজ জবাবটা আমার খুব জরুরী।
"আমাকে ক্ষমা কর। আর একটা রিকোয়েষ্ট, আমার সাথে আর কখনো যোগাযোগ করবেনা। রাখছি।"

একটা মাত্র শব্দ, "আমায় ক্ষমা কর," বদলে গেল শাহেদ এর চির চেনা জগৎ। আজ কেন যেন মিরু'কে দেখতে মন চাইল। তায় ফেইসবুক সার্চ করে পাওয়া গেল। মিসেস ইসলাম সেই আগের মতোই আছে, একটুুও বদলায়নি। মিসেস ইসলামরা বদলায়না। ঠোট কোনে হাসি ফুটে উঠে শাহেদ এর।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ১২:১২
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

**চিঠি ০৩ : ক্যাফের চিঠি** ☕️

লিখেছেন চারাগাছ, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০৫




বহু বছর পর আজ তোমাকে দেখলাম।

একটা ক্যাফেতে।

জানালার পাশের টেবিলে বসে ছিলে তুমি। সামনে একটা বই, পাশে একটা Affogato। মাঝে মাঝে কফিতে চুমুক দিচ্ছিলে, আবার বইয়ের পাতায় চোখ রাখছিলে।

আমি ক্যাফেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×