somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপহরণ

২০ শে মার্চ, ২০২৫ ভোর ৬:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত বৃহষ্পতিবার রাতে আমাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। সময় তখন রাত চারটা। আমি অপিষ থেকে এসে সেহরীর খাবার আয়োজন করছিলাম। তখনই সরওয়ার এবং আরো তিনজন রুমে ঢুকে আমাকে তাদের সাথে যেতে বলে। যেতে না চাইলে আমাকে অপমান করে নিয়ে যাবে বলে। চারজনের একজন সরওয়ার এর কর্মচারী এবং চেলা। তাকে দিয়ে গুন্ডামি করায়। আর দুইজন বাপ ছেলে তারা সওদি নাগরিক। সরওয়ার হল আমার ওয়াইফ এর আপন ফুফাতো ভাই।

সরওয়ার এর জন্মের আগে তার বাবা মারা যায়। কুকুরে কামড়িয়েছিল এবং মৃত্যু। সরওয়ার বড় হয় তার বড় মামার কাছে, মানে আমার শ্বশুর এর তত্তাবধানে। তার মায়ের অন্যত্র বিয়ে দেয়া হয় এবং গার্ডিয়ান ছিল আমার শ্বশুর। সে বেড়ে উঠে আমার শ্বশুর এর কাছে, তার সমবয়সি হল আমার শালা বাবু। তারা একসঙ্গে বেড়ে উঠে।

শালাবাবু একটা গাড়ি কিনেছিল, তারকাছে তখন ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিলনা তায় আমার নামে কেনা। পরে সেটা সরওয়ার এর কাছে বিক্রি করা হয় এবং সে চালাতে থাকে কিন্তু গাড়ির টাকা পরিশোধ করেনি। বরঞ্চ শালা বাবুর দোকান থেকে বাকিতে মাল নিয়ে দেয়না। এদিকে গাড়িও দেয়না।

গাড়ি চালায় তার কাছে ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই। সে গাড়ির কাগজপত্র আপডেট করেনা, ফিটনেস পেপার আপডেট হয়না, ইন্সুরেন্স করায়না। ফলে যেদিকেই যায় রাস্তায় ক্যামরাতে ধরা পরে যায় এবং আমার নামে ফাইন চলে আসে। সেই টাকা আমার একাউন্ট থেকে অটোমেটিক কেটে নিয়ে যায় সরকারে অন্যদিকে সরওয়ার দিতে টালবাহানা করে। দেয় কিন্তু অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।

বারবার তাগাদা দিচ্ছি লেনদেন ঠিক করে গাড়িটার নাম ট্রান্সফার করার জন্য। কিন্তু করবেনা। এদিকে আমি আছি বিপদে, কিছু হলে আমার নামে কেইস হবে। শেষমেশ বড় এক্সিডেন্ট, ভাগ্য ভাল গাড়ির নামে মামলা না হয়ে ওর আইডির উপর হল। বিরাট অংক জরিমানা হল। আমি তায় তাকে লাষ্ট ওয়ার্নিং দিলাম গাড়ির ব্যাপারে কিছু একটা করতে। না হলে আমি গাড়ি চুরির কমপ্লেইন করব। সে ক্ষেপে গিয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় দূর্ব্যাবহার করল।

আমি সেই মধুর ভাষা শালা বাবুকে ফরওয়ার্ড করে দিলাম। শালাবাবু আর দেরী করেনি, সাথেসাথে একজন পরিচিত সওদি ধরে সরওয়ার এর ওয়ার্কশপে গিয়ে গাড়ি নিয়ে আসছে, একটু ধস্তাধস্তি হল কিন্তু গাড়ি নিয়ে আসছে। সরওয়ারও আরেকজন সওদি নিয়ে আমাকে তুলে নিতে আসল। ১৩.০৩.২০২৫ ভোর রাতে। সে যাবার কথা শালা বাবুর কাছে কিন্তু তুলে নিতে আসল আমাকে।

বললাম কোথায় নিয়ে যাবা?
বলল শাহাবুদ্দিন এর কাছে, গাড়ির ব্যাপারে একটা ফয়সালা করব
বললাম এখন সেহরি টাইম, আমি খাব। অপিষ থেকে মাত্র আসলাম
সে বলল, আমি খাওয়াব চলেন
আমি বললাম আমি তোমাদের গাড়িতে যাবনা, অন্য গাড়ি নেয় যাব। তোমরা সাথে আসো, আমি রেডি হয়ে হাঁটা দিলাম, রাস্তায় একটু নির্জনতা আসলে তারা ধাক্কা দিয়ে আমাকে গাড়িতে তুলে নেয়। তখনো তারা আমার মোবাইল নেয়নি, আমি শালা বাবুকে ফোনে বললাম তোমার ওখানে আমরা আসছি, আমাকে জোর করে তুলে নিয়েছে। সে বলল পুলিশ কল করেন। আমি করিনি, জাষ্ট বসে রইলাম। তারা একটা পানির বোতল এগিয়ে দিল সেহরি হিসেবে। আমি নেইনি, ভাবলাম কোন নেশা মিক্স থাকতে পারে। সেহরী আর খাওয়া হলনা।

আমাকে এদিক সেদিক ঘুরিয় নিয়ে গেল একটা অপিষ দোকানে যেখানে আমাকে জোর করে গাড়ি ট্রান্সফার করাবে, কিন্তু সেটা হবেনা আমি আগে থেকেই জানতাম, কারণ গাড়ির কোন ডকুমেন্ট আপডেট নাই, ইন্সুরেন্স নাই ইত্যাদি। না পেরে নিয়ে গেল তার ওয়ার্কশপে। ভেতরে একটা টুলে বসলাম সাথে মশার কামড়। মোবাইল নিয়ে নিল।

আমার শ্বশুর আসল নিতে, কিন্তু দিবেনা, আগে গাড়ি দিতে হবে তারপর। ওনি বলল ওকে ওকে রেখ দাও আমি গেলাম। শালাবাবু পুলিশ কল করে নিয়ে আসল। আমাকে উদ্ধার করা হল। আমি দেখিয়ে দিলাম কোন চারজন কিডনেপ করল। ওদেরকে গাড়িতে তুলে আমাদের দুইজন, আমি আর শালাবাবু তাদের অনুসরণ করতে বলল। নিয়ে গেল থানায়।

ওরা কম্প্লেইন করল শালাবাবুকে টাকা দিয়েছে সে টাকা নিয়ে গাড়ি দিচ্ছেনা। আমরা বললাম টাকা দেয়নি, গাড়ি দেয়না, এক্সিডেন্ট করে ইত্যাদি। ওদের সাথে সওদি থাকাতে পুলিশও একটু ওদের পক্ষে থাকার চেষ্টা করল। কিন্তু এটা গুম কেইস, এতো সহজে পার পাবেনা। পরে পুলিশ বলল মাফ করে দাও। আমরা বললাম এক শর্তে, যদি আমাদের আর কোন জ্বালাতন না করে, তারা বারবার মোবাইলে হুমকি দেয়, তুলে নিয়ে আসছে, দোকানে গিয়ে হাঙ্গামা করতে চায়।

পুলিশ তাদের লকাপে ভরে আমাদের ছেড়ে দিল, আর বলল এখন যাও, ফোন করলে এসো। বিকালে ফোন দিয়ে যেতে বলল, আমার কিছু ফিংগার চাপ নিল কিন্তু কিছুই বললনা, তারপর বলল যাও। পরে শুনি রাতে ওদের ছেড়ে দিয়েছে।

তারা আবারো ঝামেলা করার চেষ্টা করছে। আমি আছি চুপচাপ। যদি খারাপ কিছু করতে চায় তাহলে থানায় গিয়ে কমপ্লেইন করব। আমার এসব ঝামেলা ভাল লাগেনা। বিরক্ত লাগে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০২৫ ভোর ৬:৫২
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খেলাফত টিকে থাকা ও প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি না মানায় খেলাফত টিকে থাকেনি এবং খেলাফত ফিরে আসেনি

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৮



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা অপেক্ষা করছে পূর্ববর্তীদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বনলতা এক্সপ্রেস আজ থামানো হয়েছে, কাল থামানো হবে নাটক, বই, গান, কবিতা- তারপর থামানো হবে চিন্তা।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪১



বনলতা এক্সপ্রেস আজ থামানো হয়েছে, কাল থামানো হবে নাটক, বই, গান, কবিতা- তারপর থামানো হবে চিন্তা।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, এই ঘটনায় শুধু একটি সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ হয়নি;... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ক্রিস্টিকে মনে পড়ে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ৩১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৬

ক্রিস্টি,
এখন তুমি কেমন আছো, ক্রিস্টি?
কোন ভুবনে বিচরণ করছো তুমি?
কি আছে তোমার মনোলোকে?
কাকে খুঁজে বেড়ায় তোমার দুটো চোখ?
কি ভেবেই বা ক্ষণে ক্ষণে তুমি মুচকি হাসো?

অথচ-
এমনটি তো হওয়ার কথা ছিলনা।
মেধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের ১০০ দিন কেমন কাটলো ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা জুন, ২০২৬ রাত ২:৫৬


যখন এই ব্লগটি লিখতে বসেছি তার কিছুক্ষণ আগেই সংবাদে দেখলাম সরকার বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করার কথা বলে পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির খবর এখন আর নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদের দিন

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


ঐ এক ঝাক শিশুকে দেখলেই-
মনে পরে আমার শৈশবের কথা;
আমি হারিয়ে যাই, চিরচিনা পথের
ধূলি মাঝে- কতই না স্মৃতি! গুমরে
তুলে আমাকে- যার ভাষা হারিয়ে যায়;
লজ্জাবতীর মতো- মুচকি হাসি ফুরিয়ে
যায় অশ্রুসিক্ত নয়ন-... ...বাকিটুকু পড়ুন

×