somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাছের জন্য কান্না হয়!

১৮ ই জুন, ২০১৪ রাত ৮:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, আমাদের দৈনন্দিন সুস্থ জীবন যাপনে মাছের গুরুত্ব কতটুকু ?

চায়নারা মাছের গুরুত্বকে ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারে। ওদের প্রবাদে আছে “কাউকে একটি মাছ দাও, সে ওই দিনের জন্য সুস্থ ভাবে বাঁচবে । আর যদি তাকে মাছ সম্পর্কে জানাও, তাহলে সে সারা জীবনের জন্য সুস্থ ভাবে বাঁচবে।“

আমরা যখন জানি যে “১০০ গ্রাম মাছ যেখানে প্রায় ২০০ কিলো ক্যালরি শক্তি বহন করে, ১০০ গ্রাম মাংস সেখানে ১১০-১২০ কিলো ক্যালরি শক্তি বহন করে” তখন আমরা অবাক না হোয়ে পারিনা । এজন্যই হয়তোবা চিকিৎসকরা রোগীদের বলেন মাছ, মাংস, দুধ , ডিম খান অর্থাৎ আগে মাছ ।

আরও অবাক করার বিষয় মাত্র ১০০ গ্রাম মাছ আমাদের শরীরের দৈনিক মোট আমিষের চাহিদার অর্ধেকই পূরণ করে। এছাড়াও মাছের লিভার ও অয়েল হৃদরোগীদের জন্য অনেক উপকারী ।

এবার দেশিও ছোট মাছের প্রসঙ্গে আসি। কি বললে দেশিও মাছ সম্পর্কে সব চেয়ে বেশি প্রশংসা করা হবে তা আমার জানা নেই । ১০০ গ্রাম মলা মাছ যেখানে প্রায় ২০০০ মাইক্র গ্রাম ভিটামিন এ বহন করে ১০০ গ্রাম অন্য যেকোনো কার্প জাতীয় বা বিদেশীও মাছ মাত্র ১০০ মাইক্র গ্রামই ভিটামিন এ বহন করে না । এছাড়াও Ca, Fe ইত্যাদির চাহিদাও মলা প্রভৃতি মাছ গুলো পূরণ করে থাকে । কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয় আমরা জীবন রক্ষাকারী এই ছোট মাছগুলোর গুরুত্ব অনুভব করছি না বিধায় এরা খুব দ্রুত বিলুপ্তির মুখে । হোক না তাতেই বা কি আসে যায় , আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে আমরা কোন ভাবেই পরাস্ত নই, মলার বিকল্প হিসেবে ধারের কাছে তো চশমা আছেই !

২০১২ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ ওই বছর প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন করে । এই পরিমাণকে যদি কেজিতে রূপান্তর করে ১৬ কোটি দিয়ে ভাগ করা হয় তাহলে হিসাব পাওয়া যায় যে এদেশের মানুষ প্রতি বছর ১৮ কেজিরও বেশি মাছ প্রতি বছর খায় যেখানে স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা গুলো প্রতি বছর ন্যূনতম ১৮ কেজি মাছ খাওয়ার জন্য সুপারিশ করেছে। সুতরাং হিসাব অনুযায়ী আমরা অণুকুলেই আছি । কিন্তু সত্যিকার ঘটনা কি তাই ? একমাত্র সরকারী দলের লোক ছাড়া আমরা কি সকলে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব যে আমরা সকলেই আমাদের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি ?

সত্যিকার ঘটনা হচ্ছে যথেষ্ট মাছ উৎপাদন হচ্ছে ঠিকই কিন্তু সকল শ্রেণির মানুষের হাতের নাগালের বাইরে এই উৎপাদিত মাছ । আর এও সত্য যে দেশিও ছোট মাছের বিকল্প এই উৎপাদিত মাছ গুলো হতে পারে না ।

এটা আর কোন তাজা খবর নয় যে বাংলাদেশের নদী, নালা , খাল , বিল গুলোতে ছোট মাছের সংখ্যা দিন দিন কমে
আসছে । এর জন্য বাংলাদেশের আমজনতা দায়ী । কিন্তু আমি যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা গরীবের কথা যারা কিছু না খেয়ে অর্থের জন্য মানুষকে কিছু দেয় ।

আমি তিস্তা পাড়ে এমন মানুষকে মাছ বিক্রি করতে দেখেছি যে নদীতে অল্প কিছু মাছ পেয়েছিল সে ডাল ভাত আর নুনের জন্য তা বিক্রি করে দিয়েছিলো । তিস্তাকে বলা হয় উত্তরাঞ্চলের মা , সেই আজ মৎস্য শূন্য হওয়ার পথে । তিস্তা তো শুধু বাংলাদেশের একটি উদাহরণ মাত্র । আজ দেশের যেকোনো নদীর পাড়ের মানুষই দিন দিন মাছ খাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ।
এই সমস্যা সমাধানে আমরাই এগিয়ে আসতে পারি ।
Volanteer Workers Group-Sarver of Aquatics(Join us).

বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৩৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালিদ বিন ওয়ালিদের জুলুমের বিরুদ্ধে ছিলেন বদর যুদ্ধের সাহাবী হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৫

প্রথমেই বলে নিতে হবে, ইসলামে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছে। মুসলমানদের যখন খুবই খারাপ অবস্থা, তখন এই বদর যুদ্ধে নবীজির নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করেন একদল মুষ্টিমেয় সাহাবী। সেই বদর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

×