আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন, আমাদের দৈনন্দিন সুস্থ জীবন যাপনে মাছের গুরুত্ব কতটুকু ?
চায়নারা মাছের গুরুত্বকে ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারে। ওদের প্রবাদে আছে “কাউকে একটি মাছ দাও, সে ওই দিনের জন্য সুস্থ ভাবে বাঁচবে । আর যদি তাকে মাছ সম্পর্কে জানাও, তাহলে সে সারা জীবনের জন্য সুস্থ ভাবে বাঁচবে।“
আমরা যখন জানি যে “১০০ গ্রাম মাছ যেখানে প্রায় ২০০ কিলো ক্যালরি শক্তি বহন করে, ১০০ গ্রাম মাংস সেখানে ১১০-১২০ কিলো ক্যালরি শক্তি বহন করে” তখন আমরা অবাক না হোয়ে পারিনা । এজন্যই হয়তোবা চিকিৎসকরা রোগীদের বলেন মাছ, মাংস, দুধ , ডিম খান অর্থাৎ আগে মাছ ।
আরও অবাক করার বিষয় মাত্র ১০০ গ্রাম মাছ আমাদের শরীরের দৈনিক মোট আমিষের চাহিদার অর্ধেকই পূরণ করে। এছাড়াও মাছের লিভার ও অয়েল হৃদরোগীদের জন্য অনেক উপকারী ।
এবার দেশিও ছোট মাছের প্রসঙ্গে আসি। কি বললে দেশিও মাছ সম্পর্কে সব চেয়ে বেশি প্রশংসা করা হবে তা আমার জানা নেই । ১০০ গ্রাম মলা মাছ যেখানে প্রায় ২০০০ মাইক্র গ্রাম ভিটামিন এ বহন করে ১০০ গ্রাম অন্য যেকোনো কার্প জাতীয় বা বিদেশীও মাছ মাত্র ১০০ মাইক্র গ্রামই ভিটামিন এ বহন করে না । এছাড়াও Ca, Fe ইত্যাদির চাহিদাও মলা প্রভৃতি মাছ গুলো পূরণ করে থাকে । কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয় আমরা জীবন রক্ষাকারী এই ছোট মাছগুলোর গুরুত্ব অনুভব করছি না বিধায় এরা খুব দ্রুত বিলুপ্তির মুখে । হোক না তাতেই বা কি আসে যায় , আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে আমরা কোন ভাবেই পরাস্ত নই, মলার বিকল্প হিসেবে ধারের কাছে তো চশমা আছেই !
২০১২ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ ওই বছর প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন করে । এই পরিমাণকে যদি কেজিতে রূপান্তর করে ১৬ কোটি দিয়ে ভাগ করা হয় তাহলে হিসাব পাওয়া যায় যে এদেশের মানুষ প্রতি বছর ১৮ কেজিরও বেশি মাছ প্রতি বছর খায় যেখানে স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা গুলো প্রতি বছর ন্যূনতম ১৮ কেজি মাছ খাওয়ার জন্য সুপারিশ করেছে। সুতরাং হিসাব অনুযায়ী আমরা অণুকুলেই আছি । কিন্তু সত্যিকার ঘটনা কি তাই ? একমাত্র সরকারী দলের লোক ছাড়া আমরা কি সকলে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব যে আমরা সকলেই আমাদের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি ?
সত্যিকার ঘটনা হচ্ছে যথেষ্ট মাছ উৎপাদন হচ্ছে ঠিকই কিন্তু সকল শ্রেণির মানুষের হাতের নাগালের বাইরে এই উৎপাদিত মাছ । আর এও সত্য যে দেশিও ছোট মাছের বিকল্প এই উৎপাদিত মাছ গুলো হতে পারে না ।
এটা আর কোন তাজা খবর নয় যে বাংলাদেশের নদী, নালা , খাল , বিল গুলোতে ছোট মাছের সংখ্যা দিন দিন কমে
আসছে । এর জন্য বাংলাদেশের আমজনতা দায়ী । কিন্তু আমি যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা গরীবের কথা যারা কিছু না খেয়ে অর্থের জন্য মানুষকে কিছু দেয় ।
আমি তিস্তা পাড়ে এমন মানুষকে মাছ বিক্রি করতে দেখেছি যে নদীতে অল্প কিছু মাছ পেয়েছিল সে ডাল ভাত আর নুনের জন্য তা বিক্রি করে দিয়েছিলো । তিস্তাকে বলা হয় উত্তরাঞ্চলের মা , সেই আজ মৎস্য শূন্য হওয়ার পথে । তিস্তা তো শুধু বাংলাদেশের একটি উদাহরণ মাত্র । আজ দেশের যেকোনো নদীর পাড়ের মানুষই দিন দিন মাছ খাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ।
এই সমস্যা সমাধানে আমরাই এগিয়ে আসতে পারি ।
Volanteer Workers Group-Sarver of Aquatics(Join us).
বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
