somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এসো সচেতনতার ঘর বাঁধি.......

১৩ ই আগস্ট, ২০১৪ রাত ৮:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষের মধ্যে মমতা আর করুনার অস্তিত্ব অবশ্যই থাকে। নইলে মানুষ আর মানুষ থাকতে পারে না। তখন সে শুধু Homo sepiens -ই হতে পারে। আপনি শুনে হয়তো বলবেন, আপনি মানুষের মধ্যে মমতার কথা বলছেন তো, এ আর নতুন কি কথা। শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হোয়ে গেছে। এ কথার মর্ম উপলব্ধি না করে আপনার মনে যদি এমনি ভাবনা আসে তবে থামেন, আপনার কাজে আপনি চলে যান। আমি জানলেও আমার মন ক্ষুণ্ণ হবে না।

আমি যে মমতার কথা বলছিলাম তা বিভিন্ন রকমের হতে পারে। যেমন- নিজের প্রতি মমতা, নিজের পরিজনদের প্রতি মমতা, নিজ রাষ্ট্র তথা নিজ জাতির প্রতি মমতা। মমতার এই লেভেল এক মানুষ হতে অন্য মানুষে অবশ্যই ভিন্ন হতে পারে। যে উদারতার শিখর পেরিয়ে উপড়ে উঠতে থাকে সে এই মমতার লেভেলও এক এক করে ডিঙিয়ে যায়। এই লেখাটি থেকে আমি আমার লেভেলের পরিচয় দিতে চাচ্ছি না বরং আমি নিজে ভাবতে এবং অপরকেও এ বিষয়ে ভাবাতে চাই।

আমরা কেউই স্বীকার করতে পারবনা যে আমাদের নিজ সন্তানদের প্রতি কোন মমতা নেই। মমতার এই বন্ধন যুগ যুগ ধরে প্রবাহমান এবং এর প্রবাহ অনাদিকাল ধরে নিশ্চয়ই চলবে। আমার মমতা আমার সন্তানদের প্রতি, আমার সন্তানের মমতা হবে তার সন্তানদের প্রতি-এভাবেই তো চলতে পারে এই ধারা। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি সবার এই মমতা সমষ্টিগত ভাবে ভবিষ্যৎ কোন প্রজন্মের প্রতি গড়িয়ে যায় কিনা। অবশ্যই যায়। কিন্তু আমরা এভাবে ভাবতে পারি না, তার কারণ আমাদের চিন্তার সীমাবদ্ধতা। আমরা নিকটকে দেখি। নিকটের রাস্তা কোন ভবিষ্যতের দিকে গড়ায় তা নিয়ে ভাবি না।

আমাদের নিজ সন্তানদের প্রতি যদি মমতা থাকে তাহলে আমাদের নিশ্চয়ই কামনা করা উচিত যে আমাদের সন্তানও যেন তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটা ভালোর জগতে নিয়ে যেতে পারে। তার জন্য আমাদেরকেই ভাবতে হবে, আজ থেকে এবং এই ক্ষণ থেকেই।

যদিও আমি এখনও কোন বাবা নই তবুও আমার আগামী প্রজন্ম ভাল একটা পৃথিবীতে বসবাস করুক এটা আমি চাই। আপনারও যদি আগামী প্রজন্মের প্রতি করুণা থাকে তবে আপনিও এটা চাইবেন। এখন বাকি থাকল কর্তব্য। এই কর্তব্যর কথা বলার জন্যই আমাকে এত কিছু বলতে হল। কি এই কর্তব্য? একটা ভাল দেখে বিয়ে করা? না, তা নয়। ভাল পৃথিবীর জন্য আমাদের পরিবেশ বান্ধব হওয়া প্রয়োজন। আমাদের প্রকৃতিকে প্রকৃতির মতো চলতে দেয়া প্রয়োজন।

আমি মাৎস্য বিজ্ঞানে অধ্যয়নরত একজন ছাত্র। নদীর প্রতি মমতা আমার বিদ্যার স্বভাবজাত। আমি নদীকে ভালবাসি কারণ ও আমার মাতারও মাতা, আমার পিতামহী। তাঁকে আমি প্রেম করি, কারণ সে সারা জীবন কোনও মহৎ উদ্দেশ্য সামনে রেখে ছুটতে চায়। মরুভূমির নিষ্ঠুরতাকে সে তাঁর বুকের সুধা দিয়ে সিক্ত করে। সে তাঁর সন্তানদের অন্নের সংস্থান করে, তাঁর অপদার্থ সন্তানরা তাঁকে স্বীকার করুক বা না করুক। দেশ নদীর কন্যা সমান হয়। নদী কতভাবে তাঁর কন্যাকে অলংকৃত আর সৌন্দর্য মণ্ডিত করে। আমরা সেই মহান মাতার কণ্ঠ রোধ করে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করি না, আমরা এমনি আসুরিক স্বভাবের। আরও হাস্যকর আর নির্মম যে আমরা তাঁর স্নেহ সুধাকেও কেটে ভাগ করতে চাই।

আমি নদীর গুরুত্ব সম্পর্কে আপনাদেরকে গভীরভাবে ভাবাতে চাই। নদী কীভাবে একটি অঞ্চলকে মরুভূমি হোয়ে যাওয়ার থেকে রক্ষা করে, আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন? আসুন ছোট্ট একটি পরিক্ষা করে বিষয়টি বুঝি। শুকনো জল শূন্য কোন জায়গায় ছোট্ট একটি নালা করুণ। এবার ঐ নালা জলপূর্ণ করুণ। দেখবেন ঐ নালার কিনারা থেকে শুরু করে অল্প কিছু দূর পর্যন্ত মাটি সিক্ত হোয়ে গিয়েছে। এবার একই ভাবে নদীর কথা ভাবুন। নদী তাহলে কতদূর পর্যন্ত একটি এলাকাকে সিক্ত রাখতে পারে। আর একটি এলাকা সিক্ত থাকার অর্থ কি আমার মনে হয় তা আপনাকে বোঝানোর দরকার নেই। তবুও বলছি। একটি এলাকার ভূমি সিক্ত থাকলে ঐ এলাকার জলবায়ু আর্দ্র থাকে আর সহজেই ঐ ভুমিতে গাছপালা জন্ম নিতে পারে। আর যে এলাকাতে পর্যাপ্ত গাছপালা থাকে সে এলাকাতে নিয়মিত বৃষ্টিপাত হয়। এবার বুঝলেন তো নদী কীভাবে কোন এলাকাকে মরুভূমি হতে দেয় না। (চলমান)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালিদ বিন ওয়ালিদের জুলুমের বিরুদ্ধে ছিলেন বদর যুদ্ধের সাহাবী হযরত আবু কাতাদাহ আল আনসারী (রা.)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৫

প্রথমেই বলে নিতে হবে, ইসলামে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছে। মুসলমানদের যখন খুবই খারাপ অবস্থা, তখন এই বদর যুদ্ধে নবীজির নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করেন একদল মুষ্টিমেয় সাহাবী। সেই বদর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

×