somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পত্রমিতালী...............

১৯ শে মে, ২০১৪ রাত ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে চিঠিপত্রের আদান প্রদান বলতে গেলে প্রায় বিলুপ্তির পথে। নেই বললেই চলে। অথচ একটা সময় এই চিঠিই ছিল যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। নিজের অভিমান অনুভূতিগুলো ভালোবাসা ভালোলাগা মনের মতো করে প্রকাশ করার একমাত্র মাধ্যমই ছিল চিঠি।আর মাসের পর মাস চাতক পাখির মতো উত্তরের অপেক্ষায় থাকলে ভালোবাসা বেড়ে দশগুণ হওয়াই স্বাভাবিক।

চাই সেটা মা – ছেলের সম্পর্ক হোক, আর বন্ধু বান্ধবের সম্পর্ক হোক। আর চিঠিতে মানুষ নিজের মনের আবেগ যত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পারে, অন্য কোন পন্থায় বোধহয় তার আংশিকও প্রকাশ হয় না। চিঠির প্রত্যেকটা অক্ষরে কেমন যেন ভালোবাসা রাগ অভিমান ঠিকরে ঠিকরে পড়ে। সব কেমন জীবন্ত জীবন্ত হয়ে ওঠে।যদিও এ ব্যাপারে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই।

তবে মাঝে মাঝে মানুষটার সাথে খুব বেশী অভিমান জমে গেলে বিশাল একটা চিঠি লিখে বালিশের পাশে রেখে দেই। আবার কখনো বিশেষ কোন দিন হলেও চিঠি লিখে উইশ করি। তার অবশ্য এসব মনে থাকে না বললেই চলে। কি আর করবো , আমিই মনে করিয়ে দেই। কিন্তু দুঃখের কথা হল সে কখনো আলাদা করে উত্তর লিখে না।শুধু একবার চিঠির অপর পাশে লিখেছিল “ মাঝে মাঝে তোমার এই চিঠি পাওয়ার জন্য হলেও তোমাকে খেপাতে হবে।“

তবে চিঠি লিখতে দেখেছি আমার নানুকে । আমার একটা মাত্রই মামা। তিনি আবার থাকতেন দেশের বাইরে। তো নানুকে দেখতাম কত ছেলের কাছে চিঠি লিখতেন, আগে থেকেই একটা প্রস্তুতি নেয়া থাকতো। তাড়াতাড়ি কাজবাজ শেষ করে দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর আরাম করে চিঠি লিখতে বসতেন। কখনো দেখতাম লিখতে লিখতে কেঁদে ফেলছেন।তখন নানুকে কেউ বিরক্ত করতে পারতো না। প্রচণ্ড রেগে যেতেন। মামীর কথা আর নাই বললাম। শুধু এইটুক বলি , যেদিন বিদেশ থেকে মামার চিঠি আসতো সেদিন সারাদিন মামী ঘরের দরজা বন্ধ করে বসে বসে চিঠি পড়তেন। হাজারবার ডেকেও তাঁকে ঘর থেকে বের করা যেতো না। একদিন পর লজ্জা লজ্জা মুখ করে বের হলে দেখতাম চিঠি পড়ে কেঁদে কেটে নাক মুখ ফুলিয়ে একাকার।সেদিন কবে যেন মামীকে দুষ্টুমি করে জিজ্ঞেস করেছিলাম কি খবর এখন আপনাদের প্রেমের ? মামী মুখ টিপে হেসে বলেছিলো মোবাইল আসার পর এখন আর আগের মতো জমে না। আসলে জমে না যে তা কিন্তু না। কিন্তু মোবাইল আসার পর ভালবাসার প্রকাশটা সেভাবে হয়ে ওঠে না, পার্থক্য এই।

আমি নিজে কখনো কারো কাছে সেভাবে চিঠি লিখি নি। মনে আছে ছোটবেলায় শুধু একবার একটা চিঠি লিখেছিলাম। একেবারে প্রথম প্রথম যখন আরবিতে টুকটাক কথা বলতে শিখেছিলাম, তখন ফার্স্ট আমার এক চাচার কাছে একটা আরবি চিঠি লিখেছিলাম। আমার খুব প্রিয় একজন চাচা। সবসময় ভালো লেখাপড়ার তাকীদ দিতেন। অন্যরকম একটা বন্ধুত্ব সম্পর্ক ছিল চাচার সাথে বলে বোঝানো যাবে না। চাচা তখন দেওবন্দ পড়তেন। আর আব্বু কি এক কাজে ইন্ডিয়া যাবেন তো ঠিক হল চাচার সাথেও দেখা করে আসবেন। সেই সুবাদে আব্বুর হাতে চিঠিটা গুঁজে দিয়েছিলাম। আমার জীবনে চিঠির কাহিনী এখানেই শেষ । আর কখনো কারো কাছে চিঠি পাঠাই ও নাই, আর কেউ আমাকে চিঠি দেয় ও নি।

কিন্তু আজ হঠাত এত কথা শুধু একটা চিঠিকে ঘিরেই। বুঝ হওয়ার পর এই প্রথম কেউ আমাকে চিঠি লিখল। কখনো ভাবি নাই কেউ আমাকে চিঠি লিখবে।কি যে আনন্দ লাগছে, অনুভূতি প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপুনি । এত ব্যস্ততার মাঝে একটু সময় বের করে তুমি আমাকে দুই কলম লিখেছ সত্যিই আমি বিমোহিত। শিঘ্রই তোমার জবাবটা পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। অপেক্ষায় থাকো
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×