somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রহস্যঘেরা ভালবাসা

০৯ ই জুন, ২০১৯ রাত ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চিরকুট:১৬
তারিখ:২৬ জেষ্ঠ্য ১৪২৬ বাংলা
প্রিয় অপরিচিতা দোলা
পত্রের পাককালে জানাই জৈষ্ঠ্যের সমাপ্তিতে, আষাঢ় মাসের আর্বিভাবে,মেঘলা আকাশে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টির বহমান ঠাণ্ডা বাতাসের রহস্যঘেরা নিশির শুভেচ্ছা।
কেমন আছো বেদনাদায়ক ভালবাসা?
আজকাল রোজ তোমায় মনে পড়ছে। যখন তোমায় মনে পড়ে তখন আমি আমার নিকেতনের অয়ন গমনাগমন মেলে দেই। প্রেমময় দক্ষিণা বাতাস কপাট ভেদ করে আমার বাহু স্পর্শ করো তুমি হয়ে। তখন আমার হার্টবিট খুব দ্রুত হয়ে যায়। আবার যখন তোমায় নিয়ে গভীর মগ্ন হয়ে ভাবি,তখন মনে হয় হার্টবিট থাকেনা আমার সাথে। বিকেলের চায়ের কাপে তোমার অপেক্ষায় হার্টবিট আবার ধীরগতির হয়ে যায়।
তোমার কারণে হার্টবিট নিয়ে মারাত্মক ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত আমি। তোমাকে নিয়ে ভাবনার জালে
হয়তো কোন কালে আমার হার্টবিট নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থেমে যাবে। তখন কোন ডাক্তার বা কবিরাজে কাজ হবেনা তুমি ছাড়া। এ রোগের ঔষুধ আছে শুধুই তোমার কাছে।
হয়তো প্রথম মিলনেই তুমি আমার মন হরন করবে।
আমি হারাবো তোমার রূপের সুরের মোর্ছনায়।
তুমি ঠিক কখন আসবে বুঝতে বেশ সময় লেগে যাচ্ছে আমার। তর সইছেনা কখন এসে আমার লাইফটা হেল করবে তুমি?
সেই সময়ের সাথে গতি বাড়িয়ে চলেছি প্রায় আমিও।
ক্লান্তির নীলাভ মেঘ আমার আকাশে উঁকি দিতে চায়,আমি ওদেরকে দূরে থাকার ৯ নং বিপদ সংকেত জানাই। সংকেত জানানোর পরেও মাঝে মাঝে অনুভবে ওদেরকে কাছে পেয়ে যাই। সময়বর্তনী টেনে দেখি কাটারাও পালাবদলে মত্ত। বেলাভূমির সর্বত্রে পালাবদলের জয়জয়কার। শুধু আমিই আছি তোমার মন পালাবদলের অপেক্ষায়।
কল্পনার আলপনায় তোমার লাল টকটকে আঁখির আদ্রতা আমাকে কি যেন বলে যাচ্ছে কানে কানে। অনেক জ্বালাতন করবো এমন বাক্য বলে যাচ্ছো হরহামেশাই। প্রতিটি মিছিলে মিছিলে স্লোগানে স্লোগানে ধ্বনি-প্রতিধ্বনি হয়ে কখন আসবে আমায় ভালবাসার কথা শোনাতে?
আমার দেহ গঠনের প্রতিটি ইট খসে পড়বে তোমার ভালাবাসায়।
চূর্ণ-বিচূর্ণ ভুষিভূত ইটের প্রতিটি কোণা সাক্ষী হয়ে থাকবে সে ভালবাসার, অনাদি অনন্তকাল।
ভালবাসার পারাবদলে
এত ভালবাসা ছড়িয়ে দিবো
আমার মৃতুকালে তোমার বুকে রক্তক্ষরণ হবে।
তোমার আমার সে প্রেমের উপন্যাসের পান্ডুলিপি ছেপে যাবে ,কালজয়ী ঔপন্যাসিক আর কবি সাহিত্যকরা।
কোন সন তারিখে আমরা থাকবোনা,থেকে যাবে আমাদের ভালবাসার কথা সবার মুখে মুখে।
ভালবাসার খাঁটি উদাহরণ হবো আমরা।
তোমাকে নিয়ে আমার হাজারো ভাবনারা অনুভবে এসে জমা হয়েছে মগজের রক্তনালীতে।
ভিতরকার আকুতিগুলো বলে দিলুম আজ নির্দিধায়।
শব্দহীন নিশ্চলতার মাঝেও অনুভূত হও তুমি।
দিগন্তের শেষ বিন্দুর মাঝেও অনুভূব করি তোমার অস্তিত্বের আভাস।
আমি শুনতে পাই তোমার মেরোডি হৃদস্পন্দন।
নিশার অন্ধকারেও এক দীপ্তিময় বেশে অভিভূত হও তুমি।
দূর আকাশে নীলাভ মেঘে তোমায় হাতড়ে বেড়াই দিশাহীন হয়ে। মায়া নিশির আকাশে তাকিয়ে থাকি নিষ্পলক তোমায় দেখার অপেক্ষায়। রাতের নিস্তব্ধতা মনে করিয়ে দেয় তোমার কথা। ইচ্ছেরা খুন হতে চায় কোন শান্ত বিকেলে তোমাকে নিয়ে। পাশাপাশি হেঁটে পাড়ি দিতে চায় গাঁয়ের আ'ল পথ,নির্বাক হৃদয় স্বপ্ন বুনতে চায় কথাহীন। কোন এক অভিশপ্ত দুপুরে অপলক নেত্রে তোমার প্রাণে দাঁড় করাবো আমায়।
মুগ্ধতার প্রতিচ্ছবি খুজে নিতে চাই তোমাতেই।
জানতো!
দু'জন মানুষের এক হওয়ার আনন্দের চেয়ে দুটি আত্মা এক হওয়ার আনন্দই বেশি।
ভালবাসা কি?
বর্তমান নব যুগোলদের কাছে এ প্রশ্নের উত্তর হয়তো ধোঁয়াশায় পূর্ণ,আমি তো ভালবাসার মানে খুজি অন্য চিন্তায়।ভালোবাসার কোন সমাপ্তি নেই,এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যে প্রক্রিয়ায় একটি হৃদপিন্ড আরেকটি হৃদপিন্ডকে বোঝার চেষ্টা করবে।
এ আশায় হয়তো আমার কলম থেমে নেই,পবিত্র জিনিসের তুলনা শুধুই পবিত্র জিনিস।
আমার ভালবাসা পবিত্র বলেই হয়তো এখনো তোমার অপেক্ষা প্রিয় অপরিচিত দোলা।
সময় হয়ে গেছে আজ এখানেই ইতি টানার। ইচ্ছে না থাকা সত্বেও অনেক কথাই লিখেছি,হয়তো মেঘেরা ঘটা করেই তোমাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে শত বৃষ্টির শুভেচ্ছা দিয়ে। চোখের কোণায় ঘুম নামক ক্লান্তি ভীড় করেছে। শেষ লাইনে তোমার জন্য একটি প্রশ্ন রেখে গেলাম,
ভালবাসা হৃদয়য়জাত নাকি মস্তিস্কজাত?
উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।
ইতি:- তোমার নগরের একমাত্র চিরকুট লেখক
ছবি: নেট থেকে সংগ্রহ
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০১৯ সকাল ১১:১০
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্প: যে সূর্যটা রানুর জন্য উঠেছিল

লিখেছেন ফয়সাল রকি, ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:২৭




-আপা, তোমাদের বাড়িটায় কেমন যেন একটা অশুভ ব্যাপার আছে।
-হুম, হানাবাড়ি টাইপের, না?
-সিরিয়াসলি কেমন যেন একটা অনুভূতি হচ্ছে।
-একদম বাজে বকবি না। ঢাকা শহরের আটতলা এপার্টমেন্টকে তোর হানাবাড়ি বলে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুকরের পালকে খামারে আটকে রাখা হয় কেন ?

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:০৪




পাশের সিটে বসে থাকা লোকটার হাতে মোবাইল। স্কিনে বেশ ভয়াবহ একটা খবর।
সেন্ট মার্টিনে দেড় কিলোমিটারে তিন মণ প্লাস্টিক, চিপসের খালি প্যাকেট। চোখ আটকে গেল। ভয়াবহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্যদের নিষ্ঠুরতাই যখন জীবনের সাথী

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৩১



তৃতীয় শ্রেণীর ফাইনাল দিয়েছি; এখন কাজ হলো, খামারে গরুছাগল দেখা আর বিকেলে ফুটবল খেলা। সাপ্তাহিক বাজারের দিন ছিলো, খেলায় ছেলেপেলে কম, বেলা ডোবার আগেই খেলা শেষ করে, গরুগুলোকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগীয় রাশিফল (রম্য-রঙ্গ-১৭)

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:১৩




ব্লগীয় রাশিফল যার যার ব্লগ রেজিস্ট্রেশন তারিখ-কে ধরে নেওয়া হল ব্লগীয় জন্ম তারিখ হিসেবে।

মেষ(২১ মার্চ-২০এপ্রিল) :

দিনটি শুরু হতে পারে প্রিয় ব্লগার কর্তৃক প্রসংশীয় মন্তব্যের মাধ্যমে। কোন পুরোনো পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

করোনা নিয়ে ভয় নয়। আশা ও সাহসিকতা প্রয়োজন

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৪০




মরা বাংলাদেশী ব্যথা পেলে মাগো বাবাগো করে চিৎকার করি, (সূত্র: দুর্ঘটনা, থানা ও হাসপাতাল) আর প্রকৃতি ও অদৃশ্য আঘাত হলে ঈশ্বর আল্লাহ ভগবানের দোহায় দেই বা গজব মনে করি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×