(অনন্ত জলিল এবং বৃষ্টির ভালবাসা)
-আমি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবো বৃষ্টি,কাঁদছো কেন?তোমার চেয়েতো আমারি কষ্ট বেশী। কারন তুমি হয়তো বা শুধু আমাকে হারাবে আর আমি সারে সাতশত কোটি মানুষের প্রত্যেককেই হারাবো।
-আমি তো আর সারে সাতশত কোটি মানুষকে চাইনি। আমিতো শুধু তোমাকেই চেয়েছি।
-চেয়েছো সত্য। কিন্তু কেন জানি মনে হল সেই চাওয়া মধ্যে একটা অপূর্ণতা বিরাজ করছে, 'বৃষ্টি'।
-দয়া করে বলবা কি জন্যে মনে হল চাওয়ার মধ্যে অপূণতা বিরাজ করছে?
-না সেটা আর মনে করতে চাই না। জেনে শুনে কষ্ট বাড়াতে চাইনা। সেই ছোটকাল থেকে আমার জীবনটা শুধু কষ্ট্ই কেটেছে। আমার যখন ৫বছর ছিলো,আমার বাবা মারা যায়। তবুও সেই কষ্টটাকে ভুলে মা,বোনকে নিয়ে ভালই কাটছিলো সংসার। কিন্তু বোনটার যখন ১৫ বছর হয়েছে,তখনই ও একটা বখাটে ছেলেকে ভালবেসে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করে। আর মা এটা সহ্য করতে পারেনি। হার্ট অ্যাটাক হয়। তারপর মা সুস্থ হয় ঠিকই,কিন্তু সে আর এখন আগের মত হাটতে পারেনা,আগের মত আমাকে আর আদর করতে পারে না। পারবেই বা কিভাবে মার তো হাত-পা প্যারালাইসট হয়ে যায়। গত বছর আমাকে এতিম করে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। ভালবাসা নামে নাকি স্বর্গ আছে,সেটা হুমায়ন স্যারের বই পড়ে জেনেছি। আর যেই আমার হৃদয়ে ভালবাসার প্রতি আকাঙ্ক্ষা জেগেছে,সেই তুমি আমাকে ভালবাসতে আহব্বান করলে। আচ্ছা একটা কথা ভেবে দেখতো,তুমাকে আমি চিন্তাম না,জান্তাম না তার পরও তোমাকে আমি ভালবেসেছি। আর তুমি আমাকে এখন পরিপূর্ণ ভাবে চিনো,আমাকে ভালবাস বল! তারপর ও তুমি আমাকে কেন ভালবাসতে পারো না। আসালে যেই মানুষটিকে এত বিশ্বাস করেছি,তার আচরন যদি এরকম হয়,তবে আমি কাকে বিশ্বাস করবো?
-তুমি আমাকে অনেক বলেছো। আমি আজ তোমার কথার কোন প্রতিবাদ করবো না।
-তুমি অনেক ভাল অভিনেত্রী,তাই না,বৃষ্টি।
-প্লিজ বল,কী হইসে।
-তোমার স্যাটিসফ্যাকশনের জন্যে কয়জন লাগে?
-মানে?
-কাল রমনার মেঠো পথ ধরে হাটছিলাম। ল্যাকের পাশে চোখটা আটকে যায়। সেখানে একটা কাপল বসা। তারপর খুব কষ্ট লাগলো। সেই কাপলের মেয়েটা কেন তুমি হতে হবে।অাচ্ছা,এত স্বার্থপর হইলা কি করে?
-তুমি আমাকে ভুল বুঝেছ। আমি কাল একটা ছেলের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম কিন্তু প্রেম করতে নয়। ও আমাকে লাইক করতো এবং আমিও ওকে আগে পছন্দ করতাম। কাল ওকে স্টেটলি না করে দিয়ে এসেছি আর ওকে আমার হৃদয় থেকে ব্লক করে দিছি। কারন তুমাকে দেখার পর থেকে তোমাকে ভালবাসতে চেয়েছি।
-কই তুমি তো আমাকে ভালবাসার পরও,অনেকের সাথে ফাইজলামি করছো,মোবাইলে কথা কইছো।
আমাকে ভালবেসে অনেকের সাথে পার্কে ও গেছ। কিন্তু আমি তো তোমাকে রিয়েলি ভালবাসছিলাম।ভালবাসাকে আমি কলংকিত করবো না। আমি তোমার দেওয়া কষ্ট গুলো সহ্য করতে করতে হাপিয়ে উঠেছি,তাই আমি চলে যাচ্ছি। আমার ট্রেন চলে এসেছি,বৃষ্টি ।ভাল থেকো,সুখে থেকো,তোমাকে আমি পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে গেলাম।
(আচ্ছা প্রশ্ন জাগে না! অনন্ত জলিল কিভাবে মারা গেল। এই রহস্যের উদঘাটন করবে কে? কেউ কি বলতে পারবেন কিভাবে মারা গেল?)
গল্প:লাস্ট ডেস্টিনেশন অফ অনন্ত জলিল।
লেখক: শাহিন ইসলাম
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ১০:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




