পিয় নীলা,
অ-নে-ক ভালবাসা তোমার জন্যে। অনেকগুলি দিন তোমার সাথে কথা বলতে না পারার কষ্টে আমার হৃদয় জর্জরিত। কষ্টের তীব্রতা নিয়েই লিখছি। মোবাইলে তুমি আমার কাছে জানতে চেয়েছিলো তোমাকে কিভাবে সাজাবো? নীলা, দেখো,আমার মেঠো পথের দুধারে কত না ছোট ছোট গাছ আছে, যাদের নাম জানি না আমরা, যাদের বেড়ে ওঠা নিতান্তই অনাদরে আর অবহেলায়। এদের ক্লীষ্ট পাতার জীর্ণ হৃদয় জমিনে শরতের যে শিশির বিন্দু ক্ষণকালের জন্যে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আমাদের নয়ন কেড়েছে, তার একটা ফোঁটা অতি সন্তপনে তুলে এনে তোমার ললাটের ঠিক মাঝখানে বসিয়ে দেবো। নাম না জানা হরেক রকম বনফুলের একটা মালা পরিয়ে দেবো তোমার গলায়। তারপর দেখবো, তোমাকে হৃদয়ের সবটুকু ভালবাসার দৃষ্টি মেলে।
নীলা তোমার সাথে শকুন নিয়ে কথা হচ্ছিল। তুমি খুবই কষ্ট পাচ্ছিলে, বিরক্ত হচ্ছিলে।
ভাবছিলে সব ভালবাসার মানুষেরা যখন ভালবাসার কথা বলে,মান-অভিমানের সাগরে ভাসে, সংসারের সীমিত সীমানার রেখা আঁকে আমি তখন শুকুন নামের নিকৃষ্ট পাখির কথা বলি। এ কষ্টের তীব্রতা আমিও বুঝি।
নীলা তুমি কি একবার ভেবে দেখেছো শুকুনের সব বৈশিস্টগুলি আজ মানুষের মধ্যে ঢুকে গেছে। মানুষ আজ আর মানুষ নয়,নামের মানুষে পরিনত হয়েছে। এ ব্যপারে তোমাকে একটা গল্প বলবো,সম্পূর্ণ কাল্পনিক নিছক। আমারি তিক্ত হৃদয়ের গভীরে এর জন্ম। আশা করি এটা নিয়ে তোমার আর কোন অভিযোগ থাকবে না। একদিন জগতের সব শুকুনেরা ঈশ্বরের কাছে তাদের নালিশ দিয়ে গেল। একটা বুড়ো শুকুন কাঁপতে কাঁপতে বলল-প্রিয় ঈশ্বর আমরা আর খাবার পাইনা। সবমানুষেরা আমাদের খাবার খেয়ে ফেলছে। তারা কেন, ভেড়া ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়লে নাম মাত্র চিৎকিসা করে তারাতারি খেয়ে ফেলে। একটা হৃষ্ট-পুষ্ট তরুণ শুকুন তার কথা কেড়ে নিযে বলতে বলতে লাগলো মান্যবর ইশ্বর,মানুষ অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে চলছে। মাঠ,ঘাট,পতিত জমি,আবাদী জমির উপর তারা ইমারত গড়ে তুলছে। তাই দু-চারটা গরু-ছাগল যা মারা তারা ফেলে দিচ্ছে নদীতে,ভেসে যাচ্ছে,আমরা আর খেতে পারছিনা। দেখুনতো অাপনার সৃষ্ট নদীগুলোর উপর কি নিদারুণ নির্যাতন চালাচ্ছে। অন্য সব শকুনেরা মাথা তুলে সমর্থণ দিচ্ছে।
ঈশ্বর ভারী গলায় জবাব দিলো,আমি সব জানি। ওরা যখন সব হতে চাচ্ছে বিশেষ করে অনেকদিন থেকে ওরা চমৎকার শকুন হয়ে গেছে। ঠিক আছে আমি তোদের প্রজাতিকে তুলে নিচ্ছি। বুড়ো শকুনটা বড়ই মিনতি করে,বলল আমি বিলুপ্তি হতে চাইনা,হি প্রিয় ঈশ্বর। ঈশ্বর বললো,যা,যাবার আগে তুই খাবার পাবি। সব শকুনেরা উড়াল দিলো আকাশের ঠিকানায় হঠাৎ দেখলো একটা গরু নদীর বুক বেয়ে ভেসে চলছে। ক্ষুধাকাতর বুড়ো শকুনটা ধীরে ধীরে নেমে এল মৃত গরুটার শরীরে- পেট পুরে খেলো। শরীরের ভার নিয়ে আর উড়তে পারলো না। কয়েকবার চেষ্টা করলো উড়ার। তারপর পড়ে গেল নদীর পানিতে। ভেসে গেলো। মরার আগে কেঁদে কেঁদে নদীটির পানি দু'ফোটা বাড়িয়ে দিলো। নীলা আমার কল্পনার তুলিতে আঁকা গল্পটা এখানেই ইতি টানছি।
নীলা, আরেকটুখানি বলি। জানো মাত্র ক'দিন আগেও পশুপতি শেঠ একটা প্রায় মৃত ছাগল পালপাড়া আর জেলেদের সবাইকে দিয়ে খাইয়ে দিলো।
মতি চাচা বাধা দেওয়ায় কি তুলকালাম কান্ডই না বাধিয়ে দিলো।
আজকে আর তোমাকে কষ্ট দিবো না নীলা। উত্তরের আশায় গুনে যাবো দিন-ক্ষণ-মুহূর্ত। অ-নে-ক আদর,অনেক ভালবাসা তোমার জন্যে।
ইতি
তোমার রবি।
এই লেখাটা অামার শ্রদ্বেয় কলেজ স্যার ভীম চন্দ্র সানা(অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজ,কুমিল্লা) এর "কালের কূলে" গ্রন্থ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তার স্মরণে আজ আমি এই লেখাটি দিলাম। আশা করি,বুঝতে পারছেন,কি বলা হয়েছে। ধন্যবাদ পড়ার জন্যে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




