ডাইরী থেকে নেয়া
লেখক-মুক্ত বিহঙ্গ(শাহিন)
২৫ ই মার্চ, ২০১২
শাহিন-কেমন আছো?
তন্বী- এইতো ভাল, বাবু। তুমি?
শাহিন-হুম, ভাল। আজকের আকাশের চাদটা কতো সুন্দর তাই না?
তন্বী-সত্যি, দারুণ।
শাহিন-ইচ্ছে করছে, ওটাকে তোমার কপালে পড়িয়ে দেই।
তন্বী-ইস, কি শখ। বাবু, তোমাকে সত্যি অনেক ভালবাসি।
শাহিন-কচু ভালবাস। আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না তো?
তন্বী- কোথাও যাবোনা। আমাদের সুখের সংসারে একটা বাবু হবে, মেয়ে হলে নাম রাখবো তানহা। তখন তুমি হবে আমার বুইড়া বাবু আর ও হবে আমার পিচ্ছি বাবু।
শাহিন-তুমি অনেক দুষ্ট। আমাকে ছেড়ে গেলে মাইর দিবো।
তন্বী- ওই বদের হাড্ডী বর। ছেড়ে যাবার কথা আর কখনো বলবে না। তাইলে তোমার সাথে আড়ি।
শাহিন-আচ্ছা বলব না।
তন্বী-এই চাদনী রাতে তোমার পাশে বসে, তোমার হাত ধরে তোমার কাধে মাথা রাখতে খুব ইচ্ছে করছে।
শাহিন- আচ্ছা রাখো।
তন্বী- একটা সমস্যা বাবু।
শাহিন-কী?
তন্বী- তুমি ৫ফুট ৮ ঈঞ্চি আর আমি যে ৪ফুট ১১ ইঞ্চি। আমি এতো খাটো কেন? এখন যে তোমার কাধে আমার মাথা রাখতে পারবো না।
শাহিন- ও এই কথা। আল্লাহ যা করেন ভাল করেন। আল্লাহ হয়তোবা চান না তুমি আমার কাধে মাথা রাখো। তিনি চেয়েছেন, তুমি আমার বুকে মাথা রাখো। বুকে মাথা রাখতেতো আর কোন সমস্যা নেই।
তন্বী-হুম, সমস্যা নেই। থ্যাংক ইউ বাবু।
শাহিন-ভালবাসায় কোন থ্যাংক ইউ নেই। সব সময় লাভ ইউ বলবে।
তন্বী-ওকে বাবু। এখন মাথা রাখি? তুমি হাত বুলিয়ে দাও।
২৫ ই মার্চ, ২০১৩
আজ আমাদের সবচেয়ে সুখের দিন। আমার আর তন্বীর ঘর আলোকিত করতে তানহা বাবু পৃথিবিতে আসবে।
তন্বীর অবস্থা বেগতিক দেখে আম্বুলেনসকে ফোন দিলাম। আম্বুলেনস আসতে একটু দেরি করছে। আমার খুব ভয় লাগছে। খুব টেনসন হচ্ছে।
অবশেষে আম্বুলেনস এসে হাজির। তন্বীকে হসপিটালে নিলাম। ডাক্তার বললো ওকে সিজার করাতে হবে। রক্তের গ্রুপ (B- ) ৪ ব্যাগ রক্ত জোগার করতে হবে। সকল ব্লাড ব্যাঙ্কে ফোন দিলাম। অবশেষে ৩ ব্যাগ রক্ত পাওয়া গেলো। আর হাতে সময় নেই।
ডাক্তার অপরেশন শুরু করে দিয়েছে।
.
.
.
.
.
বাবুর ওয়া ওয়া কান্না শুনে বুকে শান্তি ফিরে এলো। আব্বু, সবাইকে মিষ্টি দিচ্ছে। আমি ও অনেক খুশি। মেয়ে হয়েছে। যাই হক, অবশেষে তানহা বাবু এসে পরেছে। আমি আনন্দে দিশেহারা।
তাড়াতাড়ি বাবুটা কে দেখতে গেলাম।
.
.
তন্বীর এখনো সেনস ফিরেনি। ডাক্তার কে বললাম, কি হয়েছে?
ডাক্তার বললো, সে আর বেচে নেই। বাবুটা সুস্থ আছে।
কথা শুনে আমার দু চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরতে
লাগলো, অবশেষে আমি সেনস হারিয়ে ফেলি।
২৫ ই মার্চ , ২০১৪
আজ তানহার প্রথম জন্মদিন। তন্বী স্বার্থপরের মত আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু, আমি তো আর যেতে পারছিনা তানহাকে ছেড়ে। তানহা বাবুটা সত্যি ওর মায়ের মত হয়েছে। বিয়ের আগে তন্বী প্রায় সময় বলতো, আমার কাজ শুধু বাচ্চা দেওয়া, আর বাচ্চাকে খাওয়াবে, ঘুম পারাবে তুমি। এসব বলে বলে ও শুধু হাসত। তন্বী চলে যাওয়ার পর আমি আর বিয়ে করিনি। কারণ আমি যে তন্বীর দেওয়া স্মৃতি নিয়ে বেচে থাকতে চাই। আমি তন্বীকে যেরকম ভালবেসেছি , আজীবন সেরকম ভালবাসব।
(পৃথিবীর সকল তানহা বাবুদের জন্যে রইল শুভকামনা।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




