somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডাইরী থেকে নেয়া বাই মুক্ত বিহঙ্গ

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডাইরী থেকে নেয়া
লেখক-মুক্ত বিহঙ্গ(শাহিন)

২৫ ই মার্চ, ২০১২
শাহিন-কেমন আছো?
তন্বী- এইতো ভাল, বাবু। তুমি?

শাহিন-হুম, ভাল। আজকের আকাশের চাদটা কতো সুন্দর তাই না?

তন্বী-সত্যি, দারুণ।

শাহিন-ইচ্ছে করছে, ওটাকে তোমার কপালে পড়িয়ে দেই।

তন্বী-ইস, কি শখ। বাবু, তোমাকে সত্যি অনেক ভালবাসি।

শাহিন-কচু ভালবাস। আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না তো?

তন্বী- কোথাও যাবোনা। আমাদের সুখের সংসারে একটা বাবু হবে, মেয়ে হলে নাম রাখবো তানহা। তখন তুমি হবে আমার বুইড়া বাবু আর ও হবে আমার পিচ্ছি বাবু।

শাহিন-তুমি অনেক দুষ্ট। আমাকে ছেড়ে গেলে মাইর দিবো।

তন্বী- ওই বদের হাড্ডী বর। ছেড়ে যাবার কথা আর কখনো বলবে না। তাইলে তোমার সাথে আড়ি।

শাহিন-আচ্ছা বলব না।

তন্বী-এই চাদনী রাতে তোমার পাশে বসে, তোমার হাত ধরে তোমার কাধে মাথা রাখতে খুব ইচ্ছে করছে।

শাহিন- আচ্ছা রাখো।

তন্বী- একটা সমস্যা বাবু।

শাহিন-কী?

তন্বী- তুমি ৫ফুট ৮ ঈঞ্চি আর আমি যে ৪ফুট ১১ ইঞ্চি। আমি এতো খাটো কেন? এখন যে তোমার কাধে আমার মাথা রাখতে পারবো না।

শাহিন- ও এই কথা। আল্লাহ যা করেন ভাল করেন। আল্লাহ হয়তোবা চান না তুমি আমার কাধে মাথা রাখো। তিনি চেয়েছেন, তুমি আমার বুকে মাথা রাখো। বুকে মাথা রাখতেতো আর কোন সমস্যা নেই।

তন্বী-হুম, সমস্যা নেই। থ্যাংক ইউ বাবু।

শাহিন-ভালবাসায় কোন থ্যাংক ইউ নেই। সব সময় লাভ ইউ বলবে।

তন্বী-ওকে বাবু। এখন মাথা রাখি? তুমি হাত বুলিয়ে দাও।

২৫ ই মার্চ, ২০১৩

আজ আমাদের সবচেয়ে সুখের দিন। আমার আর তন্বীর ঘর আলোকিত করতে তানহা বাবু পৃথিবিতে আসবে।

তন্বীর অবস্থা বেগতিক দেখে আম্বুলেনসকে ফোন দিলাম। আম্বুলেনস আসতে একটু দেরি করছে। আমার খুব ভয় লাগছে। খুব টেনসন হচ্ছে।

অবশেষে আম্বুলেনস এসে হাজির। তন্বীকে হসপিটালে নিলাম। ডাক্তার বললো ওকে সিজার করাতে হবে। রক্তের গ্রুপ (B- ) ৪ ব্যাগ রক্ত জোগার করতে হবে। সকল ব্লাড ব্যাঙ্কে ফোন দিলাম। অবশেষে ৩ ব্যাগ রক্ত পাওয়া গেলো। আর হাতে সময় নেই।

ডাক্তার অপরেশন শুরু করে দিয়েছে।
.
.
.
.
.
বাবুর ওয়া ওয়া কান্না শুনে বুকে শান্তি ফিরে এলো। আব্বু, সবাইকে মিষ্টি দিচ্ছে। আমি ও অনেক খুশি। মেয়ে হয়েছে। যাই হক, অবশেষে তানহা বাবু এসে পরেছে। আমি আনন্দে দিশেহারা।

তাড়াতাড়ি বাবুটা কে দেখতে গেলাম।
.
.
তন্বীর এখনো সেনস ফিরেনি। ডাক্তার কে বললাম, কি হয়েছে?
ডাক্তার বললো, সে আর বেচে নেই। বাবুটা সুস্থ আছে।
কথা শুনে আমার দু চোখ দিয়ে অনবরত পানি পরতে
লাগলো, অবশেষে আমি সেনস হারিয়ে ফেলি।

২৫ ই মার্চ , ২০১৪
আজ তানহার প্রথম জন্মদিন। তন্বী স্বার্থপরের মত আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু, আমি তো আর যেতে পারছিনা তানহাকে ছেড়ে। তানহা বাবুটা সত্যি ওর মায়ের মত হয়েছে। বিয়ের আগে তন্বী প্রায় সময় বলতো, আমার কাজ শুধু বাচ্চা দেওয়া, আর বাচ্চাকে খাওয়াবে, ঘুম পারাবে তুমি। এসব বলে বলে ও শুধু হাসত। তন্বী চলে যাওয়ার পর আমি আর বিয়ে করিনি। কারণ আমি যে তন্বীর দেওয়া স্মৃতি নিয়ে বেচে থাকতে চাই। আমি তন্বীকে যেরকম ভালবেসেছি , আজীবন সেরকম ভালবাসব।

(পৃথিবীর সকল তানহা বাবুদের জন্যে রইল শুভকামনা।)
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×