somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুসলমান‌দের রোগ প্র‌তিকা‌রের পন্থার খো‌জে

২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যখন আসমানী কিতাব তেলাওয়াত করা হয় এবং উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ও ফযিলতের কারণ তালাশ করা হয়, তখন জানা যায় যে, এই উম্মত কে একটি অতি উঁচু ও মহান কাজের দায়িত্ব দেওয়া হইয়াছিল যাহার কারণে তাহাদিগকে খাইরুল উমাম অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ উম্মতের সম্মানজনক খেতাব দেয়া হইয়াছে।

দুনিয়া সৃষ্টির আসল উদ্দেশ্য হইল, আল্লহ ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহুর যাত ও সিফাতের পরিচয় লাভ করা। আর ইহা ততক্ষন পর্যন্ত সম্ভব নয় যতক্ষন পর্যন্ত মানব জাতিকে সর্ব প্রকার খারাপি ও অপবিত্রতা হইতে পাক সাফ করিয়া যাবতীয় কল্যাণ ও গুণাবলীর দ্বারা সুসজ্জিত করা না হইবে। এই উদ্দেশেই হাজারো রসূল ও আম্বিয়ায়ে কেরাম আ’লাইহিমুস সালাম কে দুনিয়াতে পাঠানো হইয়াছে এবং সর্বশেষে এই উদ্দেশ্যের পূর্ণতা দানের জন্য সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন মুহাম্মাদ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কে পাঠানো হইয়াছে এবং এই সুসংবাদ শুনানো হইয়াছে–

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي

অর্থঃ আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন কে পরিপূর্ণ করিয়া দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত কে পূর্ণ করিয়া দিলাম। (সূরা মায়েদাহঃ৩)

এখন যেহেতু উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ হইয়া গিয়াছে, সর্ব প্রকার ভাল-মন্দ বিশদ ভাবে বর্ণনা করিয়া দেওয়া হইয়াছে, একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা দেওয়া হইয়াছে, কাজেই রিসালাত ও নবুওয়াতের ধারা বন্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছে এবং অতীতে কাজ নবী ও রসূলগণের দ্বারা লওয়া হইতে ছিল তা কিয়ামাত পর্যন্ত উম্মতে মুহাম্মাদীর উপরে ন্যাস্ত করা হইয়াছে।

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّـهِ 

অর্থঃ হে উম্মতে মুহাম্মাদী! তোমরা শেষ্ঠ উম্মত। তোমাদিগকে মানুষের কল্যাণের জন্য পাঠানো হইয়াছে। তোমরা সৎ কাজসমূহকে মানুষের মাঝে প্রসার কর এবং অসৎ কাজ হইতে তাহাদিগকে ফিরাইয়া থাক এবং আল্লহ তায়া’লার উপর ঈমান রাখ। (আল-ইমরানঃ১১০)

وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ۚ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

অর্থঃ তোমাদের মধ্যে এমন জামাত থাকা চাই, যাহারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহবান করে এবং ভাল কাজের হুকুম করে ও মন্দ কাজ হইতে নিষেধ করে–এই কাজ যাহারা করে একমাত্র তাহারাই কামিয়াব। (আল-ইমরানঃ১০৪)

প্রথম আয়াতে শ্রেষ্ঠ উম্মত হওয়ার কারণ কবলা হইয়াছে যে, তোমরা সৎ কাজের প্রসার করিয়া থাক এবং অসৎ কাজ হতে ফিরাইয়া থাক। দ্বিতীয় আয়াতে নির্দিষ্ট করিয়া বলিয়া দিয়াছেন যে কামিয়াবী সফলতা একমাত্র ঐ সকল লোকদের জন্যই যাহারা এই কাজ করিতেছে।

আর শুধু এইটুকু বলিয়াই ক্ষান্ত হন নাই; বরং অন্য জায়গায় পরিষ্কার ভাবে বর্ণনা করিয়া দিয়াছেন যে এই কাজ না করা লানত ও অভিশাপের কারণ। এরশাদ হইতেছে–

لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَىٰ لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ۚ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُوا يَعْتَدُونَ ﴿٧٨﴾ كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ ﴿﴾٧٩

অর্থঃ বনী ইসরাইলের মধ্যে যাহারা কাফের ছিল তাহাদের উপর লানত করা হইয়াছিল দাউদ ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের জবানে। আর এই লানত এই কারণের করা হইল যে, তাহারা হুকুমের বিরোধিতা করিয়াছে এবং সীমা লংঘন করিয়াছে। যে মন্দ কাজ তাহারা করিত, উহা হইতে বিরত হইত না। তাহাদের এই কাজ নিঃসন্দেহে মন্দ ছিল (সূরা মায়েদাহঃ৭৮-৭৯)

 নিন্মোক্ত হাদীসসমূহ দ্বারাও উপরোক্ত শেষ আয়াতের ব্যাখ্যা আরও স্পষ্ট হইয়া যায়।

১) আ’ব্দুল্লহ ইবনে মাসঊ’দ রদিয়াল্লহু আ’নহু হইতে বর্ণিত, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগনের মধ্যে যখন কোন ব্যক্তি গুনাহ করিত, তখন বাধা প্রদানকারী ব্যক্তি তাহাকে ধমকাইত এবং বলিত যে, আল্লহকে ভয় কর। কিন্তু পরের দিনই সে তাহার সহিত উঠাবসা ও খাওয়া দাওয়া করিত যেন গতকাল তাহাকে গুনাহ করিতে দেখেই নাই। যখন আল্লহ তায়া’লা তাহাদের এই আচরণ দেখিলেন তখন একের অন্তরকে অপরের সহিত মিলাইয়া দিলেন এবং তাহাদের নবী হযরত দাউদ আ’লাইহিস সালাম ও হযরত ঈসা আ’লাইহিস সালামের যবানে তাহাদের উপর লা’নত করিলেন। আর ইহা এই জন্য যে, তাহারা আল্লহ তায়া’লার নাফরমানী করিয়াছে এবং সীমা লংঘন করিয়াছে। ঐ পাক যাতের কসম, যাহার কুদরতের হাতে মুহাম্মাদের (সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম) জান! তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ কর এবং অসৎ কাজে নিষেধ কর এবং বেওকুফ ও মূর্খ লোকের হাত ধরিয়া হক কথা উপর তাহাকে বাধ্য কর। যদি এরূপ না কর তবে আল্লহ তায়া’লা তোমাদের অন্তরগুলিকেও একে অপরে সহিত মিলাইয়া দিবেন। ফলে তোমাদের উপরও লা’নত বর্ষিত হইবে যেমন পূর্ববর্তী উম্মতগণের উপর লা’নত বর্ষিত হইয়াছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৩:২৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অশনি সংকেত

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০


কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ অপ্রতিম নামের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশের একটি জঙ্গল থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:০১



এক কাপ চা, আর ফিরে দেখা ২০০৯-এর সেই দিনগুলো

কিছু জায়গা শুধু জায়গা নয়—সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আমাদের জীবনের একটি সময়, কিছু মানুষ, কিছু অভ্যাস আর অসংখ্য ছোট ছোট স্মৃতি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবনের স্টেশনে

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৭

রেল স্টেশনে অপেক্ষা। ট্রেন আসছে। এখনো ঐ দূরে। কিন্তু তার আগমন দেখলেই আমার ভেতরে এত কন কন করে উঠে কেন জানি না। কেন এই কষ্ট বারবার হয়?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×