somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুনো যৌবনে একজন বিলকিস (১ম কিস্তি)

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১১:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রেলস্টেশন। শহরের সবচেয়ে ব্যস্ততম জায়গার একটি। রাত-দিন এখানে জন ও যানের পদচারনায় কোলাহল উদ্দীপ্ত থাকে। এখানে প্রিয়জনকে নিতান্তই অপরিহার্য্য কারণে বিদায় দিতে এসে প্রিয়সীরা বুকভরা চাপা কান্নায় নিজের মুখ আঁচলে লুকায়। আবার বহুদিন পরে প্রিয় মানুসের সাথে সাক্ষাতের আনন্দ ভরা নয়নে অতি উৎকণ্ঠার সহিত নির্ধারিত ট্রেনের অপেক্ষা।
এই স্টেশনে এতসব গন্তব্যে ফেরা মানুষের ভীরে, গন্তব্যহীন মানুষও আছে অনেক। যাদের ফেরার কোন তাড়া নেই। তবে উৎকণ্ঠা আছে। যুদ্ধের উৎকণ্ঠা। জিবিকার জন্য যুদ্ধ।
সারাদিনে প্রাণপণ ছোটাছোটি করেও যারা দু’বেলা পেট ভরে খাবারের বন্ধবস্ত করতে পারে না। তবে মাথা গোজার ঠাঁই এদের যথেষ্ঠ আছে। মাথা গোজার জন্য এদের বিলাসিতা নিষ্প্রয়োজন। রেলওয়ের প্লাটফর্মে পরিত্যাক্ত পেপারের আশ্রয়ে এদের আনন্দ শয্যার দস্তুর আয়োজন চলে।
বিলকিস ইদানিং স্টেশনের অদূরে পরিত্যাক্ত একটি মালগাড়ীর বগিতে ঠাই খুঁজে পেয়েছে। পাশে ওর মাও ঘুমায়। যাত্রীদের লাথি খেতে হয় না আবার বৃষ্টিতেও আপাতত নিশ্চিন্ত নিরাপদ আশ্রয়, যতদিন রেলওয়ের লোকেরা তাড়িয়ে না দেয়।
তবে ভয় আছে মাংশাসী হিংস্র পশুরূপী অমানুষ পুরুষগুলোকে। যারা ওর নোংরা কাপড়ের গন্ধে ভমি করে দেয়। কিন্তু বাড়ন্ত শরীরের পচাঁ গন্ধেও মাতাল হতে চায়। দেশি মদের তৈরি প্রণালীও না-কি সস্তা ও পঁচা ফল এবং সবজি।
বিলকিস এই স্টেশনেই নিতান্ত অযত্নে আর অবহেলায় বেড়ে উঠেছে। এখানকার সবকিছু তার জানা। প্রতিটা ইট পাথরে ওর শরীরে গন্ধ মিশে আছে। এই স্টেশনের নোংরা কাঁদা মাটিই ওর বাড়ী। ওর আপন। পরমাত্মিয়। ছোটবেলায় সারাদিন যাত্রীদের কাছে ভিক্ষা করতো। রাতে কোথাও একটি নোংরা ধূলাকালিতে লুটোপটি অবস্থা কম্বল মুড়ি দিয়ে রাতটা কাটিয়ে দিতো। ওর মাও তখন সুস্থ ছিল। নেংড়া এক ভিক্ষুকের ঠেলা ঠেলে দিত। প্রতিদিন তিনভাগের একভাগে কুঁড়ি বা ত্রিশ টাকা পেত। যেদিন কোন কিছু পেতনা সেদিন অনাহারে থাকতো। এখন সেই নেংড়া ভিক্ষুকটি আর স্টেশনে আসে না; হয়তো মারা গেছে অথবা দুরারোগ্য কোন রোগে বিছানায় পরে পরে মৃত্যুর দিন গুনছে।
বিলকিসের এখনো ভাসা ভাসা মনে পড়ে। সে ছোট সময় খুব ভাবতো, যেদিন তার মা তার জন্য কোন খাবারের টাকা যোগার করতে পারতো না সেদিন কেন এক প্লেট ভাতের বিনিময় তার মাকে অন্য ভিক্ষুকের নোংরা কম্বলে মধ্যে থাকতে হতো। কিন্তু বিলসিক এখন বুঝতে পারে। তাকে বড় করার জন্য তার মায়ের ত্যাগ। তার মুখে দু’মুঠো খাবার তুলে দেওয়ার জন্য তাকে কত সংগ্রাম করতে হয়েছে।
বিলকিসের মা এখন মরণ রোগে আক্রান্ত। তিলে তিলে মুত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। খুব কম বয়সে নিস্তেজ হয়ে পরেছে। হাড্ডিসার দেহ কোথাও একটুকরা মাংস অবশিষ্ট নেই। কোনমতে শুধু নিশ্বাসটুকু স্বচল রয়েছে। মায়ের প্রতিদিনকার মুত্যু যন্ত্রণা দেখে দেখে বিলকিসের এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। বিলকিস বিটলু কামালের মাদকদ্রব্যের খুচরা বিক্রেতা। প্রতিদিনে আশি থেকে একশত টাকা পায়। তাতে তার মায়ের চিকিৎিসা আর তার করা হয় না। বিনাচিকিৎসায় যতদিন হায়াৎ আছে বাঁচবে তারপর একদিন মরে গেলে সে জামেলামুক্ত হবে। তার জন্য তার মায়ের অবদান আর মায়ের জন্য তার কতটুকু কৃতজ্ঞতাবোধ থাকা দরকার সেটা এখানে তাকে কেউ স্বরণ করিয়ে দেয় না।
বিলকিস দেখতে কালো কিন্তু তার গোলগাল মুখের দিকে তাকিয়ে অনেক ভদ্রলোক পথচারীরা আফসুস করে। এই মেয়েটি কোন ভদ্রঘরে জন্ম নিলে নিশ্চই তার শরীরের নোংরা কালো ত্বক আর এমন কালো থাকতে পারতো না। সারাদিন রোদ্রতাপে, অযত্ন আর অবহেলায়ও কেমন তার সর্বাঙ্গে নবযৌবনের জোয়ার ঠিকরে পরছে। সেদিকে তার ভ্রুক্ষেপ নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১১:৩৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×