somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আরিফের কথা-১

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আরিফ আসমানের দিকে তাকিয়ে থাকে। মন ভালো থাকালে করে আবার মন খারাপ থাকলেও করে। আজ মন ভালো। ঠিক কি কারনে ভালো তা বুঝে উঠতে পারছে না। এই রিকশায় উঠার সময়ও কি যে হয়েছে রিকশওয়ালার কি জানি। খামারবাড়ি মোড় থেকে ধানমন্ডি-শুক্রাবাদ ১৫ টাকা চেয়েছে। মনে হয় চিনেনা। কিন্তু না চিনলে কিভাবে বলল ভেতর দিয়ে যাবে। আরো কোন রাস্তা আছে মনে হয় যা আরিফ চেনেনা। আকাশের দিকে তাকিয়ে কি যেন চিন্তা। আবার একা একা কথাও বলে। আর দূর থেকে কেউ দেখলে যেন পাগল না বলে তাই সবসময় একটা মোবাইলের ইয়ার ফোন সবসময় কানে দিয়ে রাখে। আজকেও তাই । তবে আজকের রিকশাওয়ালা কেমন যেন। একটু অন্যরকম। খুবই রোগা। মায়া লাগতে গিয়ে আবার মায়া লাগেনা। কারন সবসময় ওরা বেশী ভাড়া চায়। ১৫ টাকার ভাড়া সমসময় ওরা ৩০-৩৫ টাকা চায়। আর রাত বা বৃষ্টি হলে ১৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকাও চায়। সে সময় ওদের কে অনেক বড়লোক মনে হয়। ১৫ টাকা ভাড়া হলে সে যায়গাটুকু জ্যাম না থাকলে যেতে বড়জোড় ৭-৮ মিনিট লাগবে। আরিফের মাথায় মাঝে মাঝে আসে- প্রয়োজন হলে সেও রিকশা চালাবে। আবার নিজেই নিজেকে না করে। গ্রাজুয়েট হয়ে রিকশা চালায় কেমনে। কিন্তু ছোটবেলায় অনেই বাঙলা সিনেমায় দেখেছে ইলিয়াস কাঞ্চন ডিগ্রী পাশ করে অথবা ডিগ্রী পড়া অবস্থায় প্রাইভেট কার বা ট্যাক্সি চালায়। আর পড়াশোনা করে। কিন্ত আরিফ তো পাশ করে ফেলেছে। আবার এখন আর কেউ সেই পুরানো সিনেমার মত কোন বড় বিজনেসম্যান বা তার মেয়ে গাড়িতে উঠে আর কার্ড দিয়ে চাকরী দেয়না বলেই আরিফ মনে করে। আরিফের দুই ফুফাতো ভাই প্রইভেট ট্যাক্সি চালায় প্রায় বছর পাচেক হবে। মাঝে মাঝে কথা হয় ওদের সাথে। সব ব্যাপারে কথা হয়। কই কখনও তো বলে নি যে কেই তাদেরকে কার্ড দিয়ে চাকরির কথা বলেছে। কিন্তু ওরা তো আর ডিগ্রী পাশ করেনাই। একজন সেভেন-এ উঠেছিলো আর একজন পড়েই নাই। সেজন্যই হয়তো কেউ কার্ড দেয়নাই। রিকশা ভাল মতই চলছে। তবে আজব রিকশাওয়ালা। খুবই খারাপ স্বাস্থ্য। বাংলায় একে বলে লিকলিকে। সেন্ডো গেন্জি লুংগির সাথে ইন করে পরেছে। খারাপ লাগছে না। পিঠে দুইটা ফুটা আছে গেন্জিতে। লুঙ্গিতে ফুটা আছে নাকি খেয়াল করেনি আরিফ। রিকশাওয়ালা কিযেন বিরবির করে বলতে বলতে রিকশা চালাচ্ছে। তবে বোঝার চেষ্ঠা করেও বুঝতে পারলো না আরিফ। অন্য দিকে মন দিলো আরিফ। রাস্তার পাশে সিলভার এর বোল এ এক লোক জলপাই নিয়ে বসেছে এক লোক। বেশ তরতাজা। কিন্তু এই জলপাই দেখে আরিফ তার মুখে কোন জল পায় নাই। এইটা ওর নানার কথা। এই ফল দেখলেই মুখে জল পাওয়া যায়। তাই এই ফলের নাম জলপাই। রিকশাওয়ালার কোমরে বেশ শক্ত করে লুঙ্গিটা প্যাচ দেয়া আছে। ঘুর্নিঝড় আসলেও এই প্যাচ খুলবে না বলেই মনে হয়। উড়ে যেতে পারে নিচ থেকে সেইটা অন্য কথা। একটা শব্দ এবার বুঝা গেল। রিকশাওয়ালা যা বলছে সেটা কোন দোয়া না। আরিফ মনে করেছে বিরবির করে রিকশা ওয়ালা হয়তো কোন দোয়া পড়ছে আর রিকশা চালাচ্ছে। কিন্তু যে শব্দটা সে বুঝতে পেরেছে সেটা একটা বাংলা গালি। কোন কিছুর “পোলা”, আবার শুনা গেলো। “..... পোলা”। কিন্তু কি কারনে গালি দিচ্ছে, কাকে দিচ্ছে। গালি দিতে দিতে আসমানের দিকে কি যেন দেখে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হলো সে মাঝে মাঝে এমন ভাবে বেকে যায় যে মনে হয় কেউ তাকে পেটের মধ্যে ঘুসি মারছে। এই মাত্র ও একবার করেছে। মনে হয় ওনার পেটে ব্যাথা। অথবা ওনার পেট খারাপ। পেট খারাপ হলো ডাইরিয়া এবং আমাশয় এর ভালো নাম। আধুনিক ভাষায় ডাইরিয়া অথবা আমাশয় হলে সবাই বলে পেট খারাপ। হতে পারে ওর আমাশয় হয়েছে। যখন আমাশয় তার নিজের শক্তি প্রকাশ করার জন্য বাহিরে আসার তাগিদ দেয়, তখন পেট মশাই একটা গুল্লা দেয়। আর এই পেটের গুল্লাকে হাত দিয়ে থামানোর জন্য উল্টো দিকে গুল্লা দিলে আরাম পাওয়া যায়। এখন রিকশাওয়ালা দুই হতেই রিকশার হ্যান্ডেল ধরে আছে বলে হয়তো পেটে গুল্লা দিতে পারতেছে না। আর পেছন থেকে রিকশাওয়ালার চেহারাটা পুরোপুরি দেখা যাচ্ছেনা। তাই এটা বোঝা যাচ্ছেনা সে কি পরিমান গুল্লা অনুভব করছে। আল্লাহ আমাদেরকে এই অনুভব করার খমতা দেয়নি। আমরা কখনো একজন অন্য জনের ব্যাথা অনুভব করতে পারিনা। মনে মনে অনুভব করি। চিন্তায় অনুভব করি। যদি ব্যাথা অনুভব করা যেত তাহলে সর্বপ্রথম কিছু পিতা তার স্ত্রীর প্রসবের সময় কিছু ব্যাথা ধার নিতো। সবাই নিতোনা। কারন এখন এমন ঘটনা শোনা যায়, পিতা জানে যে তার স্ত্রী যে সন্তান জন্মদিচ্ছে সে তার ঊরসের নয়। কিন্তু জন্মের আগে থেকেই তার জন্য সকল কিছু করা এই পিতার ই করতে হয়। এবং সে নিজেই করে। আরিফ ও রিকশাওয়ালার ব্যাথা অনুভব করতে পারছে না। “আপনার কি হয়েছে” জিগ্গেস করল আরিফ। কেন জিগ্গেস করল। কারন খুজবে পরে। এখন মনে হলো জিগ্গেস করা দরকার তাই করল। কিন্তু উত্তর দিলে কি হবে সেটা এখন চিন্তার বিষয়। হয়তো বলবে আমার অনেক ব্যাথা। আমার বাবারও এই একই রকমের ব্যাথা ছিলো। বংশগত ব্যাথা। অনেক টাকা লাগবে। দিবেন? এই ধরনের কথা রিকশাওয়ালারা মাঝে মাঝে বলে। একবার এক রিকশাওয়ালা বলেছিলো। তবে আরিফ তার কথা বিশ্বাস করার মতোও ছিলো। এবং আরিফ তার সাধ্য মত ১০০ টাকা দিয়েছিলো। কিন্তু কোন এক বন্ধুর কাছ থেকে শুনেছে কোন এক রিকশাওয়ালা ছিনতাই এ সাহায্য করেছে। একটা আইফোন আর ল্যাপটপ নিয়ে গেছে। রিকশাওয়ালা একটা নির্জন জায়গায় গিয়ে বলে ভাই চেইন পইরা গেছে। তারপর থামানোর সাথে সাথে দুই জন চাকু নিয়ে এসে সব নিয়ে গেছে। তার পর থেকে রিকশাওয়ালাদের ও মাঝে মাঝে ভয় লাগে। বিশেষ করে রাতের বেলায়, নিজের চেয়ে ভালো স্বাস্থ্য এমন কোন রিকশাওয়ালার রিকশায় রাতে উঠেনা আরিফ। এই রিকশা ওয়ালা ওর চেয়ে চিকন। আবার একই আচরন দেখে আবার জিগ্গেস করল আরিফ। আপনার কি হইছে। কারে গালি দেন। পেটে কি হইছে। উত্তরের কোন তোয়াক্কা নেই উনার চেহারায়। কিন্তু রিকশার গতি একটু কমেছে বলেই মনে হলো। চাকা ৭-৮ বার ঘুরেছে হয়তো। নিজেই পেছন দিকে ঘুরে বললেন- ওয় আমারে মারে। নামায পরতে কয়। না পরলেই মারে। আজকে মিস করছি। তাই এখন মারতাছে। আরিফ কিবুঝবে তা নিয়ে কোন চিন্তাই নাই। আবার সামনের দিকে তাকিয়ে রিকশা চালাচ্ছে রিকশাওয়ালা। ততক্ষনে আরিফের মাথায় কি কি চিন্তা আসছে তা একসাথে প্রকাশ করতে পারবে না আরিফ। মাঝে মাঝে মানুষের এমন হয়। যখন ভয় আর তিন চারটি চিন্তা একসাথে মাথায় ঘুরে এবং সবগুলোই একবারে মুখের বুলির মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে বলে মনে হয় তখন ব্রেইন নিজেই সেগুলোকে ক্রম অনুযায়ী না সাজিয়ে একবারে ছুড়তে চেষ্ঠা করে। তখন চোখ তার পলক তাড়াতাড়ি ফেলে, জ্বিব্ব শুকিয়ে যায়, হতের দু-একটা আঙ্গুল কাপে, জ্বিব্বা দিয়ে ঠোট ভিজাতে হয়। আরিফের আজকে এমন লাগার কথা। কিন্তু কেন যেন সে আরো বেশী আগ্রহী হয়েছে। ভয় আছে কিনা খুজেও দেখলো না। আর কোন প্রশ্নও করে নাই আরিফ। ঠিক জায়গামত নামলো। ভাড়াও দিলো। চেহারাটা আরেকবার দেখলো। চেহারা দেখে তাই মনে হয়, কেই মাইর খেলে এই রকমই হয় চেহারা।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হায়ার সেলফ্‌

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


শীতের সময়ে রাত ১০ টা অনেক রাত। আর তা যদি হয় শহর থেকে দূরে শহরতলীতে,আবাসিক এলাকার আশপাশে,তাহলে তো কথাই নেই। রাত আটটা বাজতে না বাজতেই পাড়ার সকলে সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×