somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অচেনা পথিক

০৪ ঠা মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মোটর সাইকেলে, খুভ বেশী স্পীড না। খামার বাড়ী মোড়ের কিছু আগে। চোখ পরল বামে ৬-৭ জন পুলিশ দাড়ানো। একজন লোক সংসদ ভবনের দিকে মুখ করে নামায আদায় করছেন। ঠিক ফুটপাথ ঘেসে। ফরমাল ড্রেসকোড। দেখতেও সুন্দর। জিন্স আর শার্ট পড়া। নামায আদায় করছেন, কেন এই খানে। আর পুলিশই বা তাকে ঘেড়াও করে রেখেছে কেন। আমি জানি এবং মানি এইসব ব্যাপারে নাক গলানো উচিত না। আবার উটকো কোন ঝামেলা চলে আসবে নিজের কাধে। তারপরও মোটর সাইকেল স্লো করলাম, থামালাম, নামলাম। হেলমেট না খুলে এগিয়ে গেলাম। ততক্ষনে লোকটির নামায প্রায় শেষ। সালাম ফিরাচ্ছেন। আমার আগ্রহ দেখে দাড়ানো এক পুলিশ জিগ্গেস করল চিনি কিনা। উত্তর কি দিবো, আমিতো চিনি না, এমনিই নেমেছি। উত্তর দিলাম, চেনা মনে হয়েছিলো, কিন্তু সামনে এসে দেখে সিউর হলাম চিনি না। তাইলে যান, ভীর কইরেন না। আমাকে হালকা করে হাত দিয়ে সরিয়ে দিলেন। আমি হেলমেট খুলে পুলিশ ভাইদের উদ্দেশ্যে জিগ্গেস করলাম কেউ কি উনার সাথে কথা বলেছেন। একজন উত্তর দিলো, অই মিয়া, দেহেন না নামায পড়তাছে, কথা কমু কেমনে। আমি উনার কাছে যেতে যেতে উনি মোনাজাত ধরেছেন। কপালে রাস্তার পিচ এর গুড়া পাথর লেগে আছে। হাতেও। আমি কাধে হাত দিলাম, ভাই এইখানে আপনি নামায আদায় করতেছেন - it is ok, I myself read it on Sahih Muslim that you could pray anywhere in the world. সারা পৃথিবীই মসজিদ। আপনি এই পৃথীবির যে কোন যায়গায় নামায আদায় করতে পারবেন। মনে হলো উনি শুনেছেন। হ্যা শুনেছেন। বিরবির করে কি যেন বলছেন। আমার দিকে হাত ইশারা করলেন এবং বুঝালেন উনি খুব আস্তে বলবেন তাই উনার মুখের কাছে আমার কান নেয়ার জন্য ইশারা করলেন। আমি আরো কাছে যাওয়ার আগেই উনি জোড়ে ই বললেন- I am praying for parliament. বলতে বলতে মোনাজাতের মাঝখানে হাতের শাহাদাত আংগুল দিয়ে উনার নাক বরাবর সংসদের দিকে ইশারা করলেন। আমি বললাম, আলহামদুলিল্লাহ। অবশ্যই এইটা আপনি করবেন, এবং আপনি যা করছেন তা ভালো But this is not the right place. Even so many people are gathering here just watch you and so many of them are making fun of you. So you should take a look around you. উনি শুনলেন এবং চোখ খুললেন। চারদিকের লোকজনদের দেখে একটু লজ্জাই পেলেন মনে হলো। দাড়ালেন। এর আগে উনি হাতের ইশারায় মুখে পানি দেয়ার জন্য বলেছিলেন, কেউ শুনেনি এবং পানিও দেয়নি। এবার উনার মোবাইল বের করলেন কল রিসিভ করার জন্য। আমি যখন এসেছি তখন থেকেই মোবাইলটা বাজতেছিলো। নামাযের মধ্যে ছিলেন বলে ধরেন নাই বলে মনে হলো। ফোন ধরলেন আর কথা বলা শুরু করলেন। পুলিশগুলো তাকিয়ে দেখছিলো। আর আশেপাশে যারা ভীর করেছেন তারাও মনে হলো অখুশি হয়ে হ্যাবলার মতো আমার দিকে দেখছে। লোকটি ফুটপাতের পাশেই একটা যায়গায় বসে কথা শুরু করলেন। কিন্তু কি বলছে শুনা যাচ্ছে না। আমি আমার মোটর সাইকেলের দিকে ফেরত আসতে আসতে পেছন ফিরে দেখছিলাম। উনি এখনও কথা বলছেন। আমি আবার গেলাম তার কাছে। এবার উনার কানের কাছে গিয়ে বললাম, সবাই আপনার দিকে দেখছে, আপনার উচিত এখান থেকে চলে যাওয়া। উনি আমার কানে কানে বললেন ভাই আমাকে আপনি একটু নিয়ে যান। সিওর, কোথায় যাবেন, আসেন আমার বাইকে। ফার্মগেট। কিন্তু আমি তো যাবো পান্থপথ। তাহলে একটু সামনেই নামিয়ে দেন। আমি বললাম হ্যা আসেন। আমি সামনের দিকে এগুলাম। উনি পেছন পেছন হাটা শুরু করলেন। কিন্তু আমি বাইকে উঠলাম আর উনি আমার বাইকে না উঠে সামনের দিকে হেটে চলে গেলেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৩
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×