somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইফুল্লাহ আবিদ
ইসলামী আন্দোলন করলেই যদি রাজাকার হতে হ তাহলে আমি রাজাকারই হতে চাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অর্থই যদি হয় আওয়ামী লীগের গোলামী করা তাহলে লাথি মারি সে চেতনাকে। সংবিধানের আইন যদি হ কুরআন বিরোধী তাহলে চুলায় যাক সে সংবিধান।

বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিংঃ এক ভয়ংকর মরন ব্যধির নাম

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

র‍্যাগিং শব্দটি মূলত পরিচয়ের সাথে জরিত। পরিচয় মানব সভ্যতার শুধুমাত্র একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই ন বরং একটি অপরিহার্য অংশ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র্যাগিং বলতে কি পরিচয় বুঝানো হয়? না কি অন্য কিছু?? সে প্রশ্নের উত্তরই খুজছি আমি।
কোন নতুন পরিবেশে যখন একটি ছেলে বা মেয়ে আসে তখন সেখানে বসবাসকারী লোকদের কাছ থেকে একটু সিম্পেথি কিংবা ভালবাসা আশা করা দোষের কিছুই নয়। তাছাড়া কোন নতুন পরিবেশে এসে স্বাভাবিকভাবে কোন ভুল করাও অস্বাভাবিক নয়। নতুন পরিবেশে এসে কোন ভুল করা অসম্ভবও নয়। বরং ভুল করাই স্বাভাবিক।
কিন্তু এ সামান্য ভুলের প্রতিদান হিসাবে মানসিক টর্চার কি আসলেই কাম্য??
লেখার প্রয়োজনেই আমার একটু ফিরে যাওয়া দরকার ইতিহাসের পাতায়। লেখার অনাকাঙ্খিত সম্প্রসারন এড়াতে আমি খুবই সংক্ষেপে ঘুরে আসতে চাই র‍্যাগিং এর ইতিহাস থেকে। র‍্যাগিং সংস্কৃতি সূচনা হয় সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে গ্রিক কালচারে। আর অষ্টাদশ সতাব্দীতে এর অনুপ্রবেশ ঘটে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যধির মত লেগে আছে এ র্যাগিং। যা আক্রান্ত করেছে আমাদের বাংলাদেশকেও।
যাহোক, ইতিহাস লেখা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং র্যাগিং এর নামে কি হয় তা একটু পর্যালোচনা করাই শুধু উদ্দেশ্য। আমি স্পেশাললি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে লিখতে চাই না। তবে বাংলাদেশের প্রতিটি পাথর কনাও জানে যে র্যাগিং সবচেয়ে বেশি হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ই সম্পূর্নভাবে র্যাগিং মুক্ত নয়।
আমি জানি যে আমি এমন কোন ছেলিব্রেটি নই যে আমার লেখা কোন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের নজরে পরবে। তবুও বলছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোনক্রমেই এ ব্যধি নির্বিঘ্নে ছড়িয়ে পরতে দেয়ার দায় এড়াতে পারেন না। কারন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি চাইলে একদিনের মধ্যেই র‍্যাগিং নামক কার্যত মানসিক টর্চারকে সম্পূর্নভাবে বিদায় জানাতে পারেন। আমি জানি না বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকরা এ র‍্যাগিং এর পক্ষে কি না। জানি না শিক্ষকদের ভূমিকা এখানে কেনই বা নীরব দর্শকের মত।
আমার বিশ্বাস মাত্র কয়েকজন ছাত্রকে র‍্যাগিং এর দায়ে বহিস্কার করলেই এ প্রথা উঠে যেত। অতি উদ্ধত আচারনের কিছু ছাত্র বা ছাত্রীর সিট বাতিল করলেই আবাসিক হলগুলো র‍্যাগিং মুক্ত হত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নামক মানব যন্ত্ররা আদৌ তা করবেন কি???
হ্যা, পরিচিতি অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু এটা কোন ধরনের পরিচয়ের সিস্টেম যে একটা মেয়েকে রুমভর্তি মানুষের সামনে মঞ্চে নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে, “তুমি কি খুলতে পারো??” এটা কোন ধরনের পরিচয়ের পদ্ধতি যে ইকবাল নামের ছেলেটিকে মঞ্চে উঠিয়ে তার নামকে বিভক্ত করে অর্থাৎ ইক বাল বলতে বাধ্য করা হবে?? এটা কোন ধরনের পরিচয়ের পদ্ধতি যে আস্তে নাম বলার অপরাধে পর্দানশীল মেয়েটিকে গলা ফাটিয়ে চিল্লিয়ে নিজের নাম বলতে বাধ্য করতে হবে??
পরিচিতির অর্থই কি একটি মেয়েকে ধরে এনে তার চোখের পানি ফেলতে বাধ্য করা?? পরিচয়ের অর্থই কি ভার্সিটিতে নতুন ভর্তি হওয়া ছেলেটিকে দিয়ে জোর খাটিয়ে একজন সিনিয়র মেয়েকে আপত্তিকর কথা বলতে বাধ্য করা??
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নতুন ছেলেটি বা মেয়েটি আপনাকে সালাম না দিলেই তাকে র্যাগ দিতে হবে? আপনিই যদি সদ্য ভর্তি হওয়া ছেলেটিকে নিজ থেকে সালাম দেন তাহলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে?? কেন এ সিস্টেম যে সালাম শুধু জুনিয়ররা সিনিয়রদের দেবে?? জুনিয়রদের সালাম দিলে কি কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে?? সালাম হল ইসলামী কালচার। এটা কোন অহংকার প্রকাশের মাধ্যম নয়। মহানবী (স) নিজে ছোট বড় সবাইকে সালাম দিতেন। তাই এ সালাম নিয়ে কোন রকম অহংকার করবেন না দয়া করে। বেছে বেছে শুধুমাত্র সিনিয়রদের সালাম দেয়া মোটেই ইসলামী সংস্কৃতি নয়।

অনেক জ্ঞানী আবার বলতে চান যে র‍্যগ না দিলে ছেলে মেয়েরা বেয়াদব হয়ে যায়। আমি জানি না যে আপনি কয়জন ছেলে মেয়েকে র‍্যগ দিয়ে ভদ্র বানাতে পেরেছেন। যদি কাউকে ভদ্র বানাতে পেরে থাকেন তাহলে নিশ্চিত থাকুন, যে ছেলেটি বা মেয়েটি এমনিতেই ভদ্র ছিল। তাকে ভদ্র বানানোর কৃতিত্ব আপনার নয়।
অনেকে আবার বলে থাকেন যে র‍্যাগ দিলে সিনিয়র আর জুনিয়রদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক থাকে। হ্যা, এটা সেসব জুনিয়র আর সিনিয়রদের ক্ষেত্রে সত্য যারা সবাই র‍্যাগিং এর পক্ষে।
আমি জানি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০% শিক্ষার্থী র‍্যাগ দেয়ার পক্ষে। আমার এ ঠুনকো যুক্তি হয়ত তাদের যুক্তির সামনে টিকতে পারবে না। বালুর বাধের মতই ভেঙ্গে চুড়ে সমুদ্রের বিপুল জলরাশির সাথে মিশে যাবে।
আমি আমি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়া সত্তেও র‍্যাগিং এর চরম বিরোধী। আমি মনে করি মানুষকে শিক্ষা দেয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় হল স্নেহ আর ভালবাসা। এ পদ্ধতি যদি কার্যকর না হয় তাহলে অন্য কোন উপায়ই সফল হবে না।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:০২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×