somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাইফুল্লাহ আবিদ
ইসলামী আন্দোলন করলেই যদি রাজাকার হতে হ তাহলে আমি রাজাকারই হতে চাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অর্থই যদি হয় আওয়ামী লীগের গোলামী করা তাহলে লাথি মারি সে চেতনাকে। সংবিধানের আইন যদি হ কুরআন বিরোধী তাহলে চুলায় যাক সে সংবিধান।

চোখের আড়ালের অপ্রিয় সত্য। চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ (২য় পর্ব)

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট বাচ্চাদের প্রতি অন্যরকম এক পবিত্র ভালবাসা থাকে প্রায় প্রতিটি মানুষের মনে। আমি নিজেও শিশুদের প্রতি অনেক বেশি দুর্বল। বিশেষ করে তিন/চার বছর বয়স থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের ভীষন ভাল লাগে আমার। ছোট ছোট বাচ্চাদের প্রজাপতির মত ছুটে চলা, একটু ভাব জমাতে পারলেই হঠাৎ এসে কাধের উপর ঝাপিয়ে পরা ভীষন আকর্ষন করে আমাকে।
কিন্তু এ মানবিক আচারন নামক মুখোশের অন্তরালেই অনেক সময় লুকিয়ে থাকে পাষবিক বাস্তব সত্য। শিশুদের প্রতি ভালবাসাকে পুজি করেই কিছু কিছু লোক পেতে রাখে ছলনার ফাঁদ। সাধারনত, কিছু কিছু মানুষের মাঝে শিশুদের আকর্ষন করার এক অস্বাভাবিক ক্ষমতা থাকে। এদের আচারনগত কারনে সব ছোট ছোট বাচ্চারা এদের চারপাশে ঘুরঘুর করে। তাদের এ অস্বাভাবিক ক্ষমতার কারনে শিশুদের পিতা-মাতাও এসব লোকদের অনেক বেশি পছন্দ করেন। নিজের সন্তানদের সোপর্দ করার মত আস্থার জায়গা খুজে পান তারা। কিন্তু এ আস্থার গোলাপি আবরনের নিচে যে কাল সাপ লুকিয়ে থাকতে পারে তা এসব পিতা- মাতারা একবারের জন্যও চিন্তা করেন না।
ছোট ছোট শিশুদের এক্সট্রা কারিকুলাম এ্যাকটিভিটিস এর উপর জোর দেয়া হয়ে থাকে বিশ্বব্যপী। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, নাচ-গান, এবং নানা রকম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করানো হয়ে থাকে শিশুদের। ছোট বাচ্চাদের উপর পর্দার বিধান ফরয না হওয়ার কারনে ইসলামিক ফ্যামিলির অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করানোর ব্যপারে জোর দিয়ে থাকেন। কিন্তু আপনার ছোট্ট মেয়েশিশুটিকে এসব অনুষ্ঠানের সময়ও কেউ নানা কৌশলে অস্বাভাবিক স্পর্স করে কি না তা কি কখনই খেয়াল করেছেন??
মাফ করবেন। আমি কিছু ছবি দেখেছি যেখানে গার্লস স্কুলের খেলার শিক্ষক, প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরনকারীর হাতে ছোট ছোট মেয়েদের স্পষ্ট সেক্সুয়াল অ্যাবিউজের স্বীকার হতে দেখেছি।
আমার চোখে ভারী চশমা থাকলেও চারপাশে খেয়াল করার অভ্যাসটাকে কোনদিনই আমি এড়াতে পারি নি। মাঝে মাঝেই দেখা যায় টেইলার্সের দোকানে কিংবা কাপড়ের দোকানে কাপড়ের মাপ দেয়ার প্রয়োজনে ছোট্ট মেয়েটিকে দোকানদারের হাতেই তুলে দেয়া হয়। অথচ কাপড়ের মাপ দেয়ার ছলে দোকানদার শিশুটিকে কিভাবে স্পর্স করল তা হয়ত পিতা মাতার চোখের আড়ালেই থেকে যায়। আমি একদিন দেখেছিলাম একটি শিশুর ভয়ার্ত চাহনি।
আধুনিক মায়েরা তো একটু বেশিই অ্যাাডভান্সড। কর্মক্ষেত্রে তো তাদের যেতেই হবে। কারন মাষ্টার্স ডিগ্রি তো আর চুলার জাল ঠেলার জন্য তারা অর্জন করেননি। তো, এসব আধুনিক মায়েরা প্রায়ই নিজেদের শিশু সন্তানদের একা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে বাধ্য হন। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন যানবাহনে তো উঠতেই হয়।
আমাদের অঞ্চলে এক সময় টাউন সার্ভিস নামে একটা বাস ছিল। ঐ বাসটি এসব কর্মজীবী মায়েদের জন্য আস্থার স্থান ছিল। কারন বাসের হেলপাররা ছিল খুবই ভাল। বাসে উঠার সময় কোন শিশু যাতে পরে না যায় সে ব্যপারে এরা ভীষন সতর্ক থাকত। অধিকাংশ সময়ই হেলপার নিজে নিচে নেমে শিশুদের বাসে তুলে দিত। মাঝে মাঝেই আমি খেয়াল করতাম। আর ক্লাস ফোর/ফাইভের ছাত্রীদের দেখলে হেলপাররা কিভাবে ধরে বাসে উঠায় তা দেখে মাঝে মাঝেই শিউরে উঠতাম। অথচ বাবা-মা হয়ত জানতেও পারতেন না যে তাদের পরম আস্থার বাস হেলপারের দ্বারা তার আদরের মেয়েটি কিভাবে অ্যাবিউজের স্বীকার হচ্ছে।
আমি জানি না, কয়জন পিতা-মাতা প্রতিটি বিষয়ে সতর্ক। হয়ত অনেকেই আছেন। কিন্তু বাহ্যিক দৃষ্টিতে অনেক সচেতন ব্যক্তির মাঝেও আমি খুজে পেয়েছি ভয়ঙ্কর অসচতেনতা।
আমি কখনই সব মানুষকে খারাপ বলি না। অবশ্যই এমন কিছু মানুষের অস্তিত্ব এখনও আছে যাদের কাছে শিশুরা সত্যিই নিরাপদ। কিন্তু সেই নিরাপদ ব্যক্তিটি কে তা কিন্তু খুজে বের করতে হবে বাবা-মা কে ই। আর নিজের শিশুকন্যার নিরাপত্তা নিয়ে অবশ্যই একটু বেশি ভাববেন।
-
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্তর্দহনের ওপারে প্রশান্তি

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



প্রিয় আকাশ,
মাঝে মাঝে তোমার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, তুমিই সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে নিঃশব্দ প্রাঙ্গণ। তাই আমার সমস্ত অভিযোগ, অনুযোগ, ক্ষোভ, দীর্ঘশ্বাস আর অব্যক্ত আর্তনাদ তোমার দিকেই ছুড়ে দিই। তুমি নির্লিপ্ত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

দক্ষিণ কোরিয়ার 'নতুন গ্রাম আন্দোলন'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:২৭



বাংলাদেশের উন্নতি হতে হলে, গ্রামগুলোর উন্নয়ন ছাড়া উপায় নাই। গত ৫৬ বছরে আমাদের দেশের গ্রামবাসীদের উন্নয়ন খুবই কম হয়েছে। সেখানকার মানুষ অবহেলার সম্মুখীন হয়ে নিম্ন সেলারির জব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩২

বাকস্বাধীনতা নাকি বাকসন্ত্রাস?

বাকস্বাধীনতা একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বাকস্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলা নয়; অন্যের সম্মান, নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে উপেক্ষা করারও নাম নয়।

কোনো ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠী বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ইরানের নতুন শত্রু হতে চলেছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


মরুভূমির গরম বাতাস আর লোহিত সাগরের নোনা জলীয় বাষ্প যেখানে এসে মেশে, বাব এল মানদেব প্রণালীর সেই জায়গাটায় রাতের অন্ধকার নামলেই একটা অদ্ভুত নীরবতা ছেয়ে যায়। কিন্তু সেই নীরবতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×