somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উৎসবের দিন ছিল না

২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উৎসবের দিন ছিল না
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

উৎসবের দিন ছিল না, তবু আমরা ভাই-বোন ও তাদের ছেলে-মেয়ে ছাড়াও আরো অনেকে একসাথে গ্রামে গেলাম মাকে সাথে নিয়ে। এভাবে কবে সবাই একসাথে হয়েছি খেয়ালে আসছে না। ঈদের দিনও সবার দেখাসাক্ষাৎ হয় না! দিনটা ছিল গত শুক্রবার বা জুম্মাবার (২৪.০৪.২০২৬)। বৃহস্পতিবার রাতে মেজো ভাইকে কল দেই প্রয়োজনে। সে জানায় মা খুব অসুস্থ তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে! আমাকে বাসার কাছে আসতে বলে। মা সেজো ভাইয়ের বাসায় থাকে। তাদের সাথে আমার মনোমালিন্য তাই তাদের বাসায় যাওয়া হয় না। মেজো ভাইও বলেনি মাকে দেখে আয় আমিও আগ্রহ দেখাইনি। এর আগে কতোবার যে বলেছি মেজো ভাইকে মাকে দেখতে যাবো সে ঘুরিয়েছে নিয়ে যায়নি। সেজন্য আমি আর কিছুই বলিনি। আমি আমার মেসে চলে আসি। সকাল ৯টায় মেজো ভাইয়ের কল আসে এবং বলে মা আর নেই! স্তব্ধ হয়ে যাই! ভাই বলে চলে আসতে। ফ্রেশ হয়ে দ্রুত চলে যাই মাকে দেখতে। পৌঁছে দেখি নিথর দেহ পড়ে আছে খাটে, "গুমরে কেঁদে ওঠে"। মায়ের শিথানে বুবু দোয়া পড়ছে আর কাঁদছে। অনেকে এসে দেখে যাচ্ছে।

সকাল ১১টার দিকে কাছের মসজিদে লাশের গোসল করানো হয়। যারা যারা এসেছে তারা ভেবেছে এই মসজিদেই জানাজার নামাজ হবে জুম্মার নামাজের পর কিছু হলো না! কারণ আমার সেজো ভাই এক পীরের ভক্ত তাই তার তরিকতে ভাইদের সাথে নিয়ে অন্য এলাকায় একটি মসজিদে জানাজার নামাজ আদায় করে। আমি যাইনি সেখানে। আমি বাধা দেই কিন্তু কোনো লাভ হয়নি কারণ সে মাকে সেবা যত্ন করেছে। তাই সবাই তার ইচ্ছে পূরণ করেছে। বড় বোন আর বড় ভাই গ্রামে থাকে। বড় ভাইয়ের ইচ্ছে মাকে গ্রামে কবর দেওয়া হোক। তাই তার ইচ্ছে পূরণের জন্য আমরা সবাই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এশার আগে আমরা নোয়াখালী পৌঁছে যাই ও নামাজ শেষে দ্বিতীয় বার জানাজার নামাজ হয় এবং আদায় করি এবং দাফন সম্পন্ন করি। বাবাকে তো মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় হারাই তার কোনো স্মৃতি নেই, নেই কোনো অনুভূতি।

আত্মীয় স্বজন আমাদের জন্য রাতে খাবারে ব্যবস্থা করে সবাই রাতের খাবার খাই। এক আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুমাতে যাই। রাতে আর ঘুম আসেনি কারণ মার স্মৃতিগুলো খেয়ালে আসছে আর খুব গরম হাত পাখার বাতাস খেলাম। আমি মায়ের ছোট ছেলে কাজ=কর্মে আমি সফল নই তাই সবার কাছে অবহেলিত ভীষণ। তাই সবার চোখে বোঝা ও সবার সাথে দূরত্ব বেড়ে গেছে। খুব আফসোস মা’র জন্য কিছুই করতে পারিনি বরং রাগারাগি করেছি । বুঝাতে না পেরে আমার হৃদয় জ্বালা ও হৃদয় ভাষা। সবক ভাই-বোনদের সঠিক সময়ে বিয়ে দিয়েছে ও করিয়েছে কিন্তু আমি আড়ালে পড়ে রইলাম। সবাই দায়সারা পাত্রী দেখিয়েছে কিন্তু এগোয়নি। যাইহোক সকালে ঘুম থেকে ওঠে নামাজ পড়লাম। সবার সাথে উঠানে বসে নাস্তা করলাম সে সময় একটি মুরগি ও দুটি ছানা পাশে আসে রুটি খুটে খুটে দিলাম সাথে সাথে খেয়ে নিচ্ছে ও বাচ্চাদের মুখে তুলে দিচ্ছে বেশ ভালো লাগছিল। রাস্তায় বের হলাম যাদের চিনি তাদের সাথে কথা বিনিময় হলো এটা সেটা জিজ্ঞাসা করছে। দুপুর বেলা বড় ভাইয়ের শ্বশুর বাড়িতে খাবার খাওয়ার দাওয়াত দিলো তাদের বাড়ির উঠানে বিভিন্ন রকমের গাছ। সেখানে একটি গাছে প্রচুর জামরুল ধরে আছে দেখে লোভ সামলাতে না পেরে খাবার খেয়ে জামরুল পারা আরম্ব করি। অনেকগুলো পেরে খাই একে ওকে দেই খুব আনন্দ পাই! সে মুহূর্তে ভুলে যাই দুখের কথা। তারপর বিকালে ঢাকা ফিরে আসি। মাকে আর জীবিত শেষ দেখা হলো না। তিনিও আমার প্রিয়সীকে দেখে যেতে পারলেন না! কারণ আমার তো সঙ্গিনী মিলেনি বা জুটেনি।

২৮.০৪.২০২৬
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৪
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×