somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৪

১৮ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ২

ফিরে দেখুন আমাদের ইতিহাস - ৩

আগের পোস্টসমূহের ধারাবাহিকতায় -

শরনার্থী



আনুমানিক এক কোটি মানুষকে পাকিস্তানী হানাদার এবংতাদের এদেশীয় দোসরদের গনহত্যা, লুটপাট থেকে বাঁচতে এবং মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে নিজের মাতৃভূমি ত্যাগ করে প্রতিবেশী ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। ভারতের সরকার এবং জনগন আশ্রয়, খাদ্য এবং চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল। পাশাপাশি জাতিসংঘ ও আরো কিছু আন্তর্জাতিক সংগঠনও সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক শিশু এবং বৃদ্ধ অপুষ্টি ও রোগে মারা যায়।



শরনার্থীদের পরিসংখান:
পশ্চিমবঙ্গ : ৭৪,৯৩,৪৭৪
ত্রিপুরা : ১৪,১৬,৪৯১
মেঘালয় : ৬,৬৭,৯৮৬
আসাম : ৩,১২,৭১৩
বিহার ও অন্যান্য : ৮,৬৪১
সর্বমোট : ৯৮,৯৯,৩০৫

জাতিসংঘের শরনার্থী বিষয়ক হাই কমিশন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে স্বল্প সময়ে দেশ ত্যাগের এই সংখ্যাকে সর্বোচ্চ বলে আখ্যা দেয়।

মুক্তিবাহিনী


মুক্তিবাহিনী ছিল সাহস এবং দৃঢ়তার প্রতীক। আধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত ও সুপ্রশিক্ষিত পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও যুবকদের সমন্বয়ে গঠিত স্বল্প প্রশিক্ষিত মুক্তবাহিনীর বীরোচিত সংগ্রাম সমগ্র পৃথিবীকে অবাক করে দিয়েছিল । প্রধানত পাকিস্তান সেনাবাহিনী ত্যাগী বাংলাদেশী সদস্যরাই মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিল।



২৫শে মার্চের গনহত্যা শুরুর পর পরই সেনাবাহিনীর বাঙ্গালী সদস্যদের নেতৃত্বে ই.পি.আর, পুলিশ ও সাধারণ জনতা প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। কিন্তু পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর আক্রমনের মুখে তাদেরকে পিছু হটে ভারত ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান নিতে হয়েছিল।

৪ঠা এপ্রিল, প্রাথমিক প্রতিরোধের সাথে সম্পৃক্ত কিছু বাঙ্গালী সেনা কর্মকর্তা সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় একত্রিত হন একটি সমন্বিত লড়াই শুরুর উদ্দেশ্যে। তারা কর্ণেল এম. এ. জি. ওসমানিকে প্রধান করে মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনা গ্রহন করেন।

১১ই জুলাই মন্ত্রীপরিষদ সমগ্র দেশকে একজন করে সেক্টর কমান্ডারের নেতৃত্বে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করেন।



মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী:


সর্বাধিনায়ক : কর্ণেল এম. এ. জি. ওসমান


প্রধান স্টাফ অফিসার : লে: ক: এম. এ. রব


উপ-প্রধান : গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার

সেক্টরসমূহ:
সেক্টর: ১

সেক্টর কমান্ডার:

মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল - জুন),

মেজর রফিকুল ইসলাম (জুন - ডিসেম্বর)
সেক্টর সীমানা: চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং মুহুরী নদীর পূর্বতীরবর্তী এলাকাসমূহ।
সদর দপ্তর: হরিণা।

সেক্টর: ২
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর খালেদ মোশারফ (এপ্রিল - সেপ্টেম্বর),

মেজর এ. টি. এম. হায়দার (সেপ্টেম্বর - ডিসেম্বর)
সেক্টর সীমানা: নোয়াখালী, কুমিল্লার কিছু অংশ, ঢাকা শহর এবং ফরিদপুরের পূর্বাঞ্চল।
সদর দপ্তর: মেঘালয়।

সেক্টর: ৩
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর কে. এম. শফিউল্লাহ (এপ্রিল - সেপ্টেম্বর),

মেজর এ. এন. এম. নুরুজ্জামান (সেপ্টেম্বর - ডিসেম্বর)
সেক্টর সীমানা: সিলেট, কুমিল্লার কিছু অংশ, ঢাকা জেলার উত্তরাঞ্চল এবং কিশোরগঞ্জ।
সদর দপ্তর: মানতলা (সিলেট)।

সেক্টর: ৪
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
সেক্টর সীমানা: সিলেটের কিছু অংশ
সদর দপ্তর: খোয়াই।

সেক্টর: ৫
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর মীর শওকত আলী
সেক্টর সীমানা: সিলেটের কিছু অংশ, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই এর পশ্চিমাঞ্চল।
সদর দপ্তর: শিলং।

সেক্টর: ৬
সেক্টর কমান্ডার:

উইং কমান্ডার এম. কে. বাশার
সেক্টর সীমানা: রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও।
সদর দপ্তর: পাটগ্রাম (রংপুর)।

সেক্টর: ৭
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর নাজমুল হক (জুলাই - অাগষ্ট),

মেজর কাজী নুরুজ্জামান (অাগষ্ট - ডিসেম্বর)
সেক্টর সীমানা: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া।
সদর দপ্তর: তরঙ্গপুর।

সেক্টর: ৮
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল - অাগষ্ট),

মেজর এম. এ. মনজুর (অাগষ্ট - ডিসেম্বর)
সেক্টর সীমানা: যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর এবং খুলনার কিছু অংশ।
সদর দপ্তর: কল্যাণী।

সেক্টর: ৯
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর এম. এ. জলিল
সেক্টর সীমানা: বরিশাল, পটুয়াখালী এবং খুলনার কিছু অংশ।
সদর দপ্তর: হাসনাবাদ।

সেক্টর: ১০
এই সেক্টরটি নৌ-কমান্ডোদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল।

সেক্টর: ১১
সেক্টর কমান্ডার:

মেজর এম. এ. তাহের (অাগষ্ট - নভেম্বর),

স্কোয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহ (নভেম্বর - ডিসেম্বর)
সেক্টর সীমানা: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহের কিছু অংশ।
সদর দপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।

[চলবে.....]
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:২১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাসালসুল (অনন্ত পশ্চাদগমন), প্রথম সৃষ্টি ও ‘আকল’: কুরআন-সুন্নাহর আলোকে একটি সতর্ক অনুসন্ধান

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৭


ভূমিকা
সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের অন্যতম প্রাচীন প্রশ্ন হলো,সবকিছুর শুরু কোথায়? যদি প্রতিটি সৃষ্ট বস্তুর অস্তিত্বের জন্য তার আগে আরেকটি সৃষ্ট বস্তুর প্রয়োজন হয়, এবং সেই নির্ভরতার ধারা কখনো শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরিয়ম খাতুন জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৮



মরিয়ম খাতুন। মাত্র ১৯ বছরের একটি মেয়ে। ৭৫ বছরের বুইড়া পাঁঠা গাজী নজরুলের লালসার শিকার হয়ে জীবন থেকে ছুটি নিয়েছে। শুধুমাত্র একটি ছোটখাটো চাকুরী সুপারিশের জন্য গিয়েছিল। তখনই ১৯... ...বাকিটুকু পড়ুন

⌛️ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৫



প্রাচীন গ্রিক দর্শনের মহান পুরুষ সক্রেটিসের আত্মানুসন্ধান বা "নিজেকে জানো" তত্ত্বটি মানুষের ভেতরের ঘৃণা, গোঁড়ামি এবং অজ্ঞানতা দূর করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। সক্রেটিসের মতে, মানুষের সমস্ত নৈতিক স্খলন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো, পকেট খালি হলো সাধারণ মানুষের!

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩


জীবনটা আজকাল বড় অদ্ভুত নিয়মে চলছে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় এক রকম থাকে, আর সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি দুনিয়াটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। গতকাল রাত বারোটা এক মিনিট থেকে জ্বালানি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যামিলি কার্ডের স্বার্থে তেলের দাম বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


দীর্ঘ সতেরো বছর পর আমরা পেয়েছি একটি নির্বাচিত সরকার । অনেকে ভালোবেসে ইহাকে জনগণের সরকার বলে থাকেন । জনগণের সরকারের উপর একটু আস্থা রাখুন । সরকারকে সময় দিন ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×