বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনীতিমুক্ত একাডেমিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি একটি সময়োপযোগী জোরালো দাবী হিসেবে উঠে এসেছে। ক্যাম্পাসকে শুধুই একাডেমিক কাজে ব্যবহার করা গেলে এর “প্লেস অব এক্সিলেন্স” বজায় থাকবে। ‘৭৩ এর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ এবং ‘৭৬ এর রাজনৈতিক দলের বিধান এর অপব্যবহারের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের “প্লেস অব ভায়োলেন্স” বিষয়টি সম্পৃক্ত। জনগণের স্বার্থেই আইন বিধায় সময়ান্তরে আইনের সংশোধন হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার গৌরবময় অতীত ইতিহাস রয়েছে। তবে পরিস্থিতির বাস্তবতায় সম্প্রতি প্রণীত জনপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস-ভিত্তিক উক্ত আইন দু’টির সংশোধনের বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। একদিনে বা হঠাৎ করেই এ ধরনের সংশোধনের ক্ষেত্র তৈরি হয়নি। প্রায় দু’যুগ আগ থেকেই উক্ত অধ্যাদেশ সংশোধনের বিষয়ে দাবী উঠতে থাকে এবং সময়ের পরিক্রমায় এ দাবী তীব্র আকার ধারণ করছে। ক্যাম্পাস-ভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের বিপক্ষ মতামতও রয়েছে। পক্ষ-বিপক্ষ নয় বরঞ্চ বৃহত্তর স্বার্থে অন্তত পরীক্ষামূলকভাবে হলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে শুধুই একাডেমিক মুখী করার বিষয়ে ঐকমত্য হওয়া প্রয়োজন। কারণ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের দৃশ্যমান প্রয়োগ কঠিন হবে। দেশে মেধার অভাব নেই
মেধার মানসম্মত লালন করে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে এই দরিদ্র দেশেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক র্যাংকিং-এ ঠাঁই পাওয়ার আগে নিজস্ব র্যাংকিং হওয়া দরকার। ইউজিসি কর্তৃক দেশে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের র্যাংকিং করা যেতে পারে। ধরে নেই বুয়েট যদি র্যাংকিং-এ প্রথম স্থান অধিকার করে তাহলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বুয়েটকে মডেল হিসেবে অনুসরণ করতে পারে। জাপানে দেখা গেছে টোকিও এবং কিওটো বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণার স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরা হয়। সর্বোপরি, দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করাসহ উন্মুক্ত সেমিনারের আয়োজন করে কৌশলগত দিক নির্দেশনা স্থির করা যেতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:৩১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


