ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের জন্য জিজ্ঞাসাবাদকালে শ্রমিকরা আঙ্গুল তুলেছে মালিকের দিকে। তারা বলছে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অনেকগুলো শর্ত মানতে রাজি হচ্ছে না ব্যবস্থাপনা এবং মালিকপক্ষের কেউ কেউ। অনেক সময় কাজ করেও তারা সময়মত মজুরি এবং চুক্তিতে স্বীকৃত বিভিন্ন সুবিধার কোনটাই পাচ্ছে না। অন্যদিকে মালিকপক্ষ বলছে এসব অভিযোগের কোনটাই সত্যি নয়। বরং কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলই উস্কে দিচ্ছে এসব অস্থিরতা। তারা চাইছে ইন্ডাস্ট্রির মধ্যেকার প্রতিযোগিতাকে ধ্বংস করে দিতে।
শ্রমিকেরা যেসব অভিযোগ করছে তার সবটাই সত্য কিনা তা জানি না আমি। তবে, এটা স্পষ্ট যে, ডেনমার্কে সবাই ভালো নেই (শেক্সপিয়ারের হ্যামলেটের ঢঙে)।
আমি এই সুযোগে বলতে চাই, এই শিল্পে ‘ন্যূনতম মজুরি’র অনুপস্থিতি শ্রমিকদের হতাশ ও অসুখী করে তুলছে। পাশাপাশি তাদেরকে বাইরের উস্কানিতে প্ররোচিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। আমি বুঝি না তৈরি পোশাক শিল্পখাতের মালিকরা কেন তাদের শ্রমিকদের দিনপ্রতি ন্যূনতম এক ডলার মজুরি দেয় না। মালিকরা কিভাবে আশা করে ন্যূনতম মজুরি ছাড়াই শ্রমিকরা ঠিকমত কাজ করবে। ব্যাপারটা কত ভয়ঙ্কর তা বোঝা যায় যদি চাল, তেল, শাকসবজির মতো প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম বিবেচনায় নেয়া হয়। আমি এখানে দুধ বা মাছের মতো আমিষের কথা উল্লেখই করছি না। হ্যাঁ, রমজান মাসে খাদ্য রেশনিংয়ের চমৎকার উদ্যোগ আমাদের চোখে পড়েছে। যদিও, বাস্তবতার তুলনায় এ ব্যবস্থা অপ্রতুল। তারপরও এই পদক্ষেপটা চালিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ তাদের কারখানার মধ্যেই ন্যায্য দামের ভর্তুকির দোকান প্রতিষ্ঠার কথা গভীরভাবে বিবেচনা করতে পারে, যেখান থেকে শ্রমিকরা তুলনামূলক কমদামে তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য কিনতে পারবে। এই দুই সংস্থা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে একটি কার্যকর কর্মপন্থা ঠিক করতে পারে যেখানে টিসিবি মূল ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়া, সরকার নিজে আরো বেশি উদ্যোগী হয়ে তৈরি পোশাক খাতের নেতাদের সঙ্গে বসে বিবাদ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে, সব পক্ষের সম্মতিতে তারা একটি নিষ্পত্তিমূলক ব্যবস্থা চালু করতে পারে, যে ব্যবস্থায় কোনো ধরনের সহিংস আচরণ ছাড়াই বিবাদ নিষ্পত্তি সম্ভব হবে। পাশাপাশি, শ্রমিকদেরও আরো দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। গুজব ও বাইরের উস্কানিতে অপ্রয়োজনীয় সহিংসতা ও ভাঙচুর বন্ধ করতে হবে।
তৈরি পোশাকখাতের অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহে সরকারকে আরো বেশি উদ্যোগী হতে হবে। লবিংয়ের কাজটা গোটাটাই বেসরকারি খাতের হাতে ছেড়ে দেওয়া ঠিক না। ঘানা ও মালির কারণে আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে সেটা পুষিয়ে নিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দকে রাজী করানোর উদ্যোগ নিতে হবে। এই দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ‘ওয়েজ অ্যান্ড মিনস’ সাব-কমিটির চেয়ারম্যান জিম ম্যাকডারমেটকে নতুন অংশীদারিত্ব আইনের (এনপিডিএ) সুবিধা থেকে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও অ্যাপারেলস পণ্য পাঁচটি ক্যাটাগরি থেকে বাদ দিতে প্ররোচিত করেছে। আফ্রিকার দেশগুলোকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, এনপিডিএ’র অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার তাদের কোনো ক্ষতি করবে না। আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর কাছে স্পষ্ট করতে হবে যে, তাদের জন্যে প্রকৃত হুমকি চীন (জানুয়ারি ২০০৯-এ যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তামূলক উদ্যোগ প্রত্যাহার করার পর), বাংলাদেশ নয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে জানাতে হবে যে, এই আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বব্যাপী চরম দারিদ্র্য হ্রাস করা এবং বাংলাদেশকেও এই তালিকায় অন্তর্ভূক্তি করা প্রয়োজন।
তৈরি পোশাক খাত নিয়ে সামনে আমাদের কিছুটা খারাপ সময় পার করতে হবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরো বেশি পরিকল্পনা ও সমন্বয় প্রয়োজন। সরকারকে একইসঙ্গে উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের সাহায্যে কাজ করতে হবে যেন তারা আসন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকার পাশাপাশি উন্নতি করতে পারে। উভয়পক্ষেরই এখন এ সহায়তা প্রয়োজন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


