
দিন কয়েক আগের কথা৷ নেপালে ভূকম্পপ্রবণতার কথা মাথায় রেখেই, বিশ্বের ভূকম্পবিদদের নিয়েই বৈঠকে বসেছিল নেপাল প্রশাসন৷ ১৯৩৪ সালের পর ১৯৮৮ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের সাক্ষী নেপাল৷ তাই আলোচনার বিষয় ছিল, আগামী কয়েকবছরের মধ্যে নেপালে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা আছে কি না৷ উত্তরে ভূকম্পবিদরা জানিয়েছিলেন, দু-এক বছর তো দূর, আগামী এক দশকেও নেপালে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা নেই৷ গত ২৫ এপ্রিল নেপালের পোখারা সংলগ্ন লামজুতে কেন্দ্রীভূত ভূকম্পের তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৭-এর বেশি৷ স্বাভাবিকভাবেই নেপাল প্রশাসনের রোষ গিয়ে পড়ে ওই ভূকম্প-বিশারদদের উপর৷
ভুল ভবিষ্যদ্বাণীর এমন ঘটনা অবশ্য নেপালেই প্রথম নয়৷ ২০১২ সালে ছ'জন বিজ্ঞানীকে নরহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করেছিল ইতালির একটি আদালত৷ তাঁদের অপরাধ, ২০০৯ সালে লাকিলায় হওয়া ভূমিকম্পের ভুল ভবিষ্যদ্বাণী৷ লাকিলার ওই ভূমিকম্পে মৃত্যু হয়েছিল ৩০০ জনের৷ ভূকম্প-বিশারদদের উপর নেপাল সরকারের চোটপাট যুক্তিযুক্ত নয়, মত ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূকম্পন-গবেষকদের৷ তাঁরা জানিয়েছেন, একদিন বা এক সপ্তাহ তো দূরের কথা, একঘণ্টা আগেও ভূমিকম্পের আগাম খবর পাওয়া সম্ভব নয়৷ বড়জোর ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড আগে জানা যেতে পারে ভূমিকম্পের আগাম খবর৷
তবে যেকোনও দেশ সেই খবর পাবে না৷ আগাম খবর পেতে হলে চোকাতে হবে মোটা অর্থমূল্য৷ যার পরিমাণ অন্তত তিন কোটি ৮৩ লক্ষ ডলার৷ এই অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট দেশে বসানো হবে এক বিশেষ প্রযুক্তি৷ যার সাহায্যে ভূমিকম্প হওয়ার ১৫-২০ সেকেন্ড আগে মিলবে সতর্কবার্তা৷ জানা যাবে সম্ভাব্য ভূকম্পের তীব্রতার মাত্রাও৷ বিজ্ঞানীদের মতে, ওই ১৫-২০ সেকেন্ডও অনেক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারবে৷ দেশবাসী সময় পাবেন নিরাপদ আশ্রয় খোঁজার৷

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



