somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খাদ্য উদ্বৃত্ত বনাম খাদ্য সংকট: সরকারের নির্লিপ্ততা

২৯ শে মে, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রেক্ষিত ১: বাঙ্গালী খাদ্য হিসেবে ভাত ছাড়া অন্য কিছু যেন ভাবতেই পারে না। তাই ভাতের যোগান নিশ্চিত করতে বাঙ্গালী স্মরণাতীকাল থেকে ধান চাষ করে আসছে। আর ধান চাষের কথা বলতে গেলেই চোখের সামনে সোনালী মাঠ ভেসে উঠে। বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ন। আর দেশ আজ যে খাদ্যে সস্ব্যং সম্পূর্নতা অর্জন করেছে তার পিছনে ধান চাষের অবধান সবচেয়ে বেশী। কিন্তু ধান চাষের সাথে যেসকল কৃষক জড়িত সেসকল চাষী ধানের নায্যমূল্য না পেয়ে আজ নিদারুণ কষ্ট আর অসহায় দিন যাপন করছে। এবছর প্রতিমন ধান উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৭৫০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে ধানের বাজারে মূল্য ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। মনপ্রতি লোকসান ২০০টাকার মত। কিন্তু দেখার কেউ নেই, যেন শোনার কেউ নেই।

প্রেক্ষিত ২: পার্বত্য চট্রগ্রামের বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় গত মার্চ মাস থেকে চলছে তীব্র খাদ্য সংকট। জুম চাষ নির্ভর এ এলাকায় এ বছর জুম চাষ সফল না হওয়ায় এই খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানকার মানুষ পাহাড়ি জঙ্গলের আলু খেয়ে এতদিন তাদের খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছিলেন কিন্তু এখন সেই পাহাড়ি আলুও নেই।

প্রেক্ষিত ৩: সরকার প্রতিমন ধান ৯২০ টাকা দরে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ধানক্রয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তা সমগ্র দেশের মোট উৎপাদনের এক চতুরাংশ মাত্র। তাছাড়া, ধান ক্রয়ের জন্য যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে তা সাধারণ কৃষকের পূরণ করে সরকারের নির্ধারিত দামে ধান বিক্রয় করা সম্ভব নয়। তাই সরকার নির্ধারিত দামের সুফল কৃষক পর্যন্ত পৌছাবে না। মাঝখানে মধ্যবর্তী সিণ্ডিকেট কিছু মনাফা করবে। সরকার কিছু কিছু দেশে চাল রপ্তানী করার কথাও ভাবছে। কিন্তু চাল রপ্তানীর সুফল কি চাষীরা ভোগ করতে পারবে নাকি মধ্যবর্তী শ্রেনীর ব্যবসায়ীরা তা ভোগ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠবে তা ভাবার বিষয়।

ফলাফল: খাদ্যে স্বয়ং সম্পন্ন হওয়ার পরও একদিকে সরকারের সঠিক নীতিমালা আর সমন্বয়ের অভাবে একদিকে যেমন কৃষক তার উৎপাদিত খাদ্য শষ্যের দাম না পেয়ে সর্বসান্ত হচ্ছে, অন্য দিকে পাহাড়ি এলাকার লোকজন খাদ্য সংকটে হাহাকার করছে। অথচ সরকার চাইলেই ভুর্তকী দিয়ে বেশী দামে ধান ক্রয় করে একদিকে যেমন কৃষককে রক্ষা করতে পারে, তেমনি সংগ্রহকৃত চাল খাদ্য সংকটে পতিত এলাকায় সরবরাহ করে খাদ্যভাব দূর করতে পারে। শুধু প্রয়োজন সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন ও তার বস্তবায়ন।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১৭
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×