
প্রেক্ষিত ২: পার্বত্য চট্রগ্রামের বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় গত মার্চ মাস থেকে চলছে তীব্র খাদ্য সংকট। জুম চাষ নির্ভর এ এলাকায় এ বছর জুম চাষ সফল না হওয়ায় এই খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সেখানকার মানুষ পাহাড়ি জঙ্গলের আলু খেয়ে এতদিন তাদের খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছিলেন কিন্তু এখন সেই পাহাড়ি আলুও নেই।
প্রেক্ষিত ৩: সরকার প্রতিমন ধান ৯২০ টাকা দরে ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু ধানক্রয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তা সমগ্র দেশের মোট উৎপাদনের এক চতুরাংশ মাত্র। তাছাড়া, ধান ক্রয়ের জন্য যে মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে তা সাধারণ কৃষকের পূরণ করে সরকারের নির্ধারিত দামে ধান বিক্রয় করা সম্ভব নয়। তাই সরকার নির্ধারিত দামের সুফল কৃষক পর্যন্ত পৌছাবে না। মাঝখানে মধ্যবর্তী সিণ্ডিকেট কিছু মনাফা করবে। সরকার কিছু কিছু দেশে চাল রপ্তানী করার কথাও ভাবছে। কিন্তু চাল রপ্তানীর সুফল কি চাষীরা ভোগ করতে পারবে নাকি মধ্যবর্তী শ্রেনীর ব্যবসায়ীরা তা ভোগ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠবে তা ভাবার বিষয়।
ফলাফল: খাদ্যে স্বয়ং সম্পন্ন হওয়ার পরও একদিকে সরকারের সঠিক নীতিমালা আর সমন্বয়ের অভাবে একদিকে যেমন কৃষক তার উৎপাদিত খাদ্য শষ্যের দাম না পেয়ে সর্বসান্ত হচ্ছে, অন্য দিকে পাহাড়ি এলাকার লোকজন খাদ্য সংকটে হাহাকার করছে। অথচ সরকার চাইলেই ভুর্তকী দিয়ে বেশী দামে ধান ক্রয় করে একদিকে যেমন কৃষককে রক্ষা করতে পারে, তেমনি সংগ্রহকৃত চাল খাদ্য সংকটে পতিত এলাকায় সরবরাহ করে খাদ্যভাব দূর করতে পারে। শুধু প্রয়োজন সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন ও তার বস্তবায়ন।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



