somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এ জীবন পুণ্য করো দহন দানে.....

০৫ ই জুন, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কোথায় যাবো?
কি করবো আমি?
জানিনা ........
ভাবনাগুলো সব এলোমেলো,
তালগোল পাঁকিয়ে যায়..
যেদিকে তাকাই , ধু ধু অন্ধকার!!
কোথাও কেউ নেই.........
শূন্যতার শূন্যদ্যানে ক্রম নিমজ্জিত হয়ে চলেছি....
পায়ের তলায় মাটি নেই......

জীবনের সেই চরম অন্তিম মূহুর্তটিতে আমার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো মিলি। হলের সিট ছেড়ে দেবার পর, ওদের বাড়িতে গিয়ে উঠলাম। মিলি আমাকে আশ্রয় দিলো। হয়তো সুপ্তের প্রতি আত্মিক টান থেকেই, নয়তো শুধুই বন্ধুত্বের টানে। এত কিছুর হিসেব কষতে যাইনি আমি কখনও, চাইওনি। শরীরের অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ছিলো। মানষিক ধকল, অদূর ভবিষ্যতের মুহুর্মূহু চিন্তা, দিনকে দিন মুষড়ে পড়ছিলাম আমি। এত বড় পৃথিবীতে কেউ নেই আমার আপনজন। অসীমের মাঝে সহায় সম্বলহীন ক্ষুদ্র এক আমি। নির্বাসিত বাহিরে অন্তরে....

রাতের খাবারের পর মিলির মা আমাকে ডেকে পাঠালেন উনার রুমে। ভারী পর্দা সরিয়ে ভিতরে উঁকি দিলাম। রাশভারী চেহারার মহিলাটি শান্ত স্থির চোখ দুটি তুলে তাকালেন আমার দিকে।
চমকে উঠলাম আমি!!!
বুকের ভেতর হাজারো জলপ্রপাতের কলতান।
সেই চোখ, সেই চাউনী.....
হুবুহু এক!
যে চোখের দিকে তাকিয়ে একদিন আমার পুরো পৃথিবী হয়েছিলো ওলোট পালট!!!! মিলির মায়ের চোখে সুপ্তের অবিকল আদল। আমি জানি, জানতাম খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার ছিলো সেটা। উনি তো সুপ্তের ফুপু হোন। চেহারায় আদলে মিল থাকাটাও খুব স্বাভাবিক। কিন্তু হঠাৎ কিযে হলো আমার! সুপ্তের মৃত্যুর পর আমার দুচোখে ঝরেনি এক ফোঁটা জল পর্যন্ত, সেই চোখে হঠাৎ শুরু অবিরাম বর্ষন ধারা। উনি একটা কথাও বললেন না, আমাকে কাঁদতে দিলেন।

মিলির মা, সুপ্তের ফুপু উনার পরামর্শে পরদিন বিকেলে গেলাম উনার পরিচিত একজন লেডি ডক্টরের কাছে। উনি সবকিছু দেখেশুনে কয়েকটি টেস্ট দিলেন, জানতে চাইলেন বাচ্চার বাবার কথা । সে সাথে নেই কেনো, ইত্যাদি ইত্যাদি?

আমি জানালাম, আমি অবিবাহিতা।
কথাটা জানাবার সাথে সাথেইএকরাশ বিরক্তি ঝরে পড়লো তার চেহারায়। স্পস্ট করে জানিয়ে দিলেন, কোনো রকম অনৈতিক কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। মুক্তি চাইলে অন্য কোথাও পথ দেখতে পারি। ক্লান্তি, শ্রান্তি, অপমান, অবষন্নতায় পুরো পৃথিবী তখন আমার সামনে দোদুল্যমান । উঠে দাড়ানোর মত শক্তিও অবশিষ্ঠ ছিলোনা দুপায়ে। তবুও চাইলাম বের হয়ে আসতে । উঠে দাড়াতে গিয়ে পুরো পৃথিবী টলে উঠলো সামনে।

কতক্ষণ, কিভাবে, কোথায় ছিলাম জানিনা। কপালে পরম মমতাময়ী এক স্নেহস্পর্শে জেগে উঠলাম এক সময়, চোখ মেলে চাইলাম না। মন চাইছিলোনা না এমন মধুর একটি স্বপ্ন ভেঙে দিতে। কবে কোনদিন ঠিক ঠিক শেষবার এমন একটি স্নেহস্পর্শী হাতের ছোঁয়ায় ঘুম ভেঙেছিলো আমার মনে পড়ে না!
প্রাণপণে চোখ বুজে রইলাম আমি।

বেশ বুঝতে পারছিলাম, দুচোখ বেয়ে প্রবাহিত জলধারায় বালিশ ভিজে যাচ্ছে। অসম্ভব কোমল কন্ঠে নাম ধরে ডাকলেন আমায়। চোখ মেলে চাইতেই দেখলাম, সেই কঠোর কঠিন মুখখানিতে স্নেহময়ী জননীর ছায়া।
আশ্বাস, নির্ভরতার প্রতিচ্ছবির এক মমতাময়ী নারী। সেই লেডি ডক্টর!!!

সব রকমের সহযোগীতার আশ্বাস দিলেন তিনি। জানালেন তার জীবনের অতীত কাহিনী। হাজার হাজার শিশুর জন্মদাত্রী তিনি আজ অথচ নিজের কোল চিরশূন্য জীবনের কোনো এক অতীত ভুলে। তিনি বললেন, খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে। আমার সিদ্ধান্তকেই যে কোনো মূল্যে স্বাগত জানাবেন তিনি। অনেক ভাবনার পরেও আমি কিছুতেই পারলাম না, নিজের কাছে হেরে যেতে।

আমি খুব ভেবেচিন্তেই ডিসিশান নিলাম। আমার সন্তানকে আমার জঠরে বড় করে তুলবো আমি। ওকে দেখাবো পৃথিবীর আলো। সুপ্ত নেই , খুব অবিবেচকের মত চলে গেছে সে আমাকে একা ফেলে, সাথে ফেলে গেছে তার ভালোবাসার অর্পন, অমূল্য অর্ঘ্য!!! সেই অর্ঘ্যটুকু নিয়েই বাকীটা জীবন বেঁচে থাকবো আমি। আমি মানিনা কোনো নিয়ম, সংস্কার, সমাজের রীতিনীতি ভূতভবিষ্যৎ। এ সমাজ, সংসার, নিষ্ঠুর পৃথিবী কি দিয়েছে আমাকে? উত্তরে শুধুই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশাল এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন! তোমার ওপর কোনো অভিমান নেই আমার সুপ্ত! তোমাকে আমি মুক্তি দিলাম সকল দায়বদ্ধতা থেকে।


খুব ভোরে, চেনা শহরটা ছেড়ে পা বাড়ালাম দূরের অজানায়। চেনা, পরিচিত গন্ডি, মানুষজন, লোকালয়, পারিপার্শ্বিক আবহাওয়া সব কিছু ছেড়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলা।
সঙ্গী শুধু আমার ভেতরে বেড়ে ওঠা একটি ক্ষুদ্র সত্বা, বিধাতার অমূল্য অর্ঘ্য, তিল তিল করে নিজের মাঝে বেড়ে ওঠা আত্নজ। তাকে নিয়ে লড়বো আমি !!



জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকার লড়াই!!!!

শেষ....


আমার গল্পের নায়িকার নাম বলা হয়নি। ধরা যাক ওর নাম রাত্রী! আর রাত্রীর জন্য একটা গান .......
যে কটাদিন তুমি ছিলে পাশে

আর আমার এই লেখাটা উৎসর্গ করছি আমার এক প্রিয় পাগলাভাইয়া মাইনাচ ভাইয়াকে । ভাইয়া সব সময় ভালো থেকো তোমার মজার মজার পাগলামীগুলো নিয়ে।:)

আর

এইটা কামরুল হাসান শাহী ভাইয়ার জন্য আমার গাওয়া দুই লাইন :)

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১২ সকাল ১০:২৯
১৬৮টি মন্তব্য ১৭২টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঢাকার দুই মেয়র মজা নিচ্ছেন না তো?

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:৩৫



একজন তার প্রোফাইলে লিখেছেন "এবারের নির্বাচনের পর রাস্তা ঘাটে, চায়ের টঙ দোকানে লীগ শুভাকাঙ্ক্ষীদের যখনই বলি, ভাই কনগ্রেচুলেশন!
জবাবে তারা বলেন "ভাই মজা নিচ্ছেন"

আমাদের দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা এখন মজার নেওয়া স্টাইলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের বাড়ি (ছবি ব্লগ)

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১:৪৯



আজ ছিলো আব্বার কুলখানি।
আব্বা মারা গেছে চল্লিশ দিন হয়ে গেছে। আজ গ্রামে গিয়েছিলাম। আমার কিছু বন্ধুবান্ধব গিয়েছিলো সাথে। খাওয়ার আয়োজন ছিলো- সাদা ভাত। গরুর মাংস। মূরগীর মাংস।... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্নো-পাউডার (অনুগল্প ১)

লিখেছেন নাদিয়া জামান, ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ৮:৫৩

লিলাবালী লিলাবালী বর ও যুবতী ..... উচ্চস্বরে মাইকে গান বাজছে। বর পক্ষের আনা উপহার সামগ্রী দেখতে কনের ঘরে পাড়ার মহিলাদের ভীড় লাগলো। মেয়েটি ও চোখের কোনা দিয়ে দেখার চেস্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চন্দ্রমল্লিকা ও এক বুলবুলির উপাখ্যান ( ছবি ব্লগ)

লিখেছেন জুন, ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:২৫


ক্রিসেন্থিমাম বা সংক্ষেপে মাম যাকে আমরা বাংলায় বলি চন্দ্রমল্লিকা। সারা পৃথিবী জুড়ে দেখা গেলেও অসাধারন শৈল্পিক রূপের এই চন্দ্রমল্লিকার আদি নিবাস কিন্ত পুর্ব এশিয়া আর উত্তর পুর্ব ইউরোপ। ১৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবরে ফুল দেয়া বা পুষ্পস্তবক অর্পন সুন্নত কোনো কাজ নয়ঃ

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:৩৬

ছবিঃ অন্তর্জাল।

কবরে ফুল দেয়া বা পুষ্পস্তবক অর্পন সুন্নত কোনো কাজ নয়ঃ

আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় বিদ্যমান এমন অনেক কাজ রয়েছে যেগুলো সচরাচর পালন করতে দেখা গেলেও সেগুলো মূলতঃ সুন্নত কাজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×