somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সত্যিকারের এক সিনডেরেলার গল্প

২৩ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট্ট দু অক্ষরের নাম তার 'সুমি'। বছর আঠেরো আগে জন্মেছিলো এক অজ পাড়াগায়ে। জন্মের পর পরই মাকে হারায় সে। মায়ের মৃত্যুর ৪০ দিন না পেরুতেই নতুন মা নিয়ে আসেন বাবা। নতুন মা ছোট্ট মেয়েটার দেখভাল তো দূরের কথা দু চোখেই দেখতে পারেনা তাকে। ছোট্ট মেয়েটার জায়গা হয় দাদীর কোলে। দাদীও হত দরিদ্র। নিজে খেতে পায়না, এই বাচ্চাকে খাওয়াবে কি?
বাবা যেন পুরোপুরি ভুলেই যায় ওকে। মাঝে মধ্যে ওর যাও বা দু একবার নতুন মা ও বাবার সাথে দেখা হয়েছে, তাতে দূর্ব্যাবহার ছাড়া এতটুকু স্নেহও জোটেনি ওর কপালে। ৯/১০ বছর বয়সে ওর দাদী ওকে নিয়ে আসে আমাদের বাড়িতে। সেই থেকে ছোট্ট সুমী বড় হতে থাকে আমাদের সাথে। ভীষন চুপচাপ, শান্ত ভদ্র এমন একটা ভালো মেয়ে সত্যিই বুঝি খুঁজে পাওয়াই দুস্কর কঠিন এ জগতে।

বাসার সবার সাথে নীরবে মিলে মিশে চলে সে। কোনো দাবী দাওয়া নেই, সদা হাস্যমুখী, মৃদুভাষী। মাছ, পাখী, বাগানের ফুলগুলোর সাথে সাথে বাসার ডালমেশিয়ানটা তার সবচাইতে প্রিয় বন্ধু। সবার দিকে ওর সমান নজর। মনুষ্যজাতির অতি প্রিয়জনদের কাছে আঘাত পেয়ে সত্যিকারের ভালোবাসার সন্ধান পেয়েছে বুঝি সে এই বোবা প্রাণীগুলোর মাঝেই। তাই তো তাদের সাথে ওর দারুণ সখ্যতা। ওকে দেখলে সত্যিই সেই রুপকথার গল্পের সিনডেরেলাকেই মনে পড়ে। ছোট্টবেলার বই এর পাতা থেকেই বুঝি উঠে এসেছে সেই সিনডেরেলা, ঠিক আমাদের বাসাতেই।

মা নেই। দাদীও মারা গেছেন। বাবা থেকেও নেই। কেউ নেই ওর এই পৃথিবীতে একদম নিজের আপনজন। তাই আমরা একদিন ঠিক করলাম এই সিনডেরেলাকে একটা রাজকুমার এনে দিতে হবে। দুখী এই সিনডেরেলা পাক ওর নিজের মত করে একটা সংসার। পাক একটা পরিবার। ওর রাজকুমারের ভালোবাসা ভুলিয়ে দিক ওকে আজীবনের কষ্ট ও দুঃখ।
অনেক খুঁজে পেতে এক রাজকুমার যোগাড় করা হলো। আমাদের বাসায় তখন বিয়ের ধুম!! আমি ও কয়েকজন হই হই করে বিয়ের শপিং এ বের হলাম।

কনের জন্য বিয়ের শাড়ী, গয়না, সাজুগুজু কিচ্ছু যেন বাদ না পড়ে সেদিকে আমাদের সজাগ নজর।

ওর মা বাবা থাকলে যা করতো তা না পারি আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টার ত্রুটি যেন না ঘটে।

কেনা হলো বরের পান্জাবী, শ্বাসুড়ীর শাড়ী, অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের পোষাক আষাক। :)
বিয়ের দিন সাজিয়ে দিলাম ওকে আমি বিউটিশিয়ান।:P

চুড়ি আবার তার ভীষন প্রিয়!!!

আমার পাল্লায় পড়ে সাজুগুজু করে সে মহা টায়ার্ড!!:(

বর আসলেন, গেট ধরা হলো। বরের দুষ্টু বন্ধু দুই টাকায় মুড়িয়ে দিলো এক হাজারটাকার একটা নোট। গেট ধরাদেরকে বোকা বানাতে।

বর রাজকুমার নিয়ে আসলেন সিনডেরেলার জন্য লাল টুকটুক বিয়ের শাড়ী, নাকের ফুল আর জরির মালা, তোয়ালে সাবান আরও কত কিছু!!

আবারও শাড়ী পালটে বরের আনা শাড়ি পরানো হলো।:)

যাইহোক এরপর.....
কাজী সাহেব সবার আগে ধরে বেঁধে বিয়ে পড়ি্যে দিলেন আমাদের সিনডেরেলা ও রাজকুমারকে।
এরপর খানাপিনা.......:)

পোলাও......

গরুর মাংস

চিকেন তন্দুরী

সালাদ

বোরহানী

বরের আনা মিষ্টি:)



খানাপিনার পর বর আর কনেকে একখানে বসানো হলো। আমাদের সিনডেরেলা এতদিনে পেলো তার একান্ত আপনজন।সবার কাছে ওদের জন্য চাই দোয়া। আমাদের ছোট্ট সিনডেরেলাকে এত বড় করেছি আমরা । তার বাকীটা জীবন যেন সে অনেক অনেক সুখে থাকে। ভালো থাকুক সিনডেরেলা তার নতুন জীবনে! :)


এ লেখাটি বিশেষ করে ছবিগুলি এই ব্লগে দেখা আমার চোখে সেরা পাঁচকন্যা( পন্চরত্ন) সূরন্জনা আপু, পারভীন আপু, শ্রাবন সন্ধ্যা আপু, ফেরারী পাখি আপু ও জুন আপুকে উপহার দিচ্ছি। সুরো আপু, পারু আপু শ্রাবণ আপু সেই ১৬ই জুলাই থেকেই সিনডেরেলার ছবিসহ পুরো বিয়ের গল্প শুনতে চেয়েছিলেন।
বিয়ের ঝামেলা মিটতে না মিটতেই আমরা হারালাম আমাদের দেশের অনেক বড়, অসাধারণ, দূর্লভ একজন মানুষকে। হঠাৎ এত আনন্দের পর এমন প্রগাঢ় বিষাদের মূহুর্ত লেখাটা লিখতে ও মনকে রাজী করাতে এতটা সময় নিয়ে নিলো।
নতুন জীবনে ভালো থাকুক সুমী আর অন্য এক ভূবনেও অন্য এক জীবনে ভালো থাকুক আমাদের সবার প্রিয় মানুষটি। জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে, হাসি আনন্দ বেদনা এই নিয়েই তো জীবন। আমাদের এই সব দিনরাত্রী!

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১০
২০৯টি মন্তব্য ১৮৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ধর্ম অবমাননার ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১:২৯


ঢাকায় এসে প্রথম যে স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম, সেটা ছিল মিরপুরের একটা নামকরা প্রতিষ্ঠান। লটারির যুগ তখনো আসেনি, এডমিশন টেস্ট দিয়ে ঢুকতে হতো। ছোট্ট বয়সে বুঝিনি যে স্কুলের টিচাররা কোন মতাদর্শের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা দেশের শত্রু; শত্রু দেশের মানুষেরও...

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ৯:০৮

ওরা দেশের শত্রু; শত্রু দেশের মানুষেরও...

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া সূর্যোদয়ের ছবিটি এআই দ্বারা উন্নত করা হয়েছে।

ইসলামের পবিত্র আলো ওদের চোখে যেন চিরন্তন গাত্রদাহের কারণ। এই মাটি আর মানুষের উন্নয়ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের হঠাৎ ‘জামায়াত-বিরোধী’ উচ্চারণ: রাজনীতির মাঠে নতুন সংকেত, নাকি পুরোনো সমস্যার মুখোশ?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সকাল ১১:২৯

তারেক রহমানের হঠাৎ ‘জামায়াত-বিরোধী’ উচ্চারণ: রাজনীতির মাঠে নতুন সংকেত, নাকি পুরোনো সমস্যার মুখোশ?

বিএনপি রাজনীতিতে এক অদ্ভুত মোড়—অনেক বছর পর হঠাৎ করেই তারেক রহমান সরাসরি জামায়াতকে ঘিরে কিছু সমালোচনামূলক কথা বললেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এমন থাপ্পড় খাবি!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৩৩



ঘটনাঃ ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দামের পতনের সময়।
চৈত্র মাস। সারাদিন প্রচন্ড গরম। জামাই তার বউকে নিয়ে শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছে। সুন্দর গ্রামের রাস্তা। পড়ন্ত বিকেল। বউটা সুন্দর করে সেজেছে। গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এডমিন সাহেব আমাকে নিয়ে অনেক বক্তব্য দিতেন এক সময়।

লিখেছেন জেন একাত্তর, ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৯:০৯



আমার "চাঁদগাজী" নিকটাকে উনি কি জন্য ব্যান করেছিলেন, সেটা উনি জানেন; আসল ব্যাপার কখনো আমি বুঝতে পারিনি; আমার ধারণা, তিনি হয়তো নিজের দুর্বলতাগুলো নিয়ে ভয়ে ভয়ে থাকতেন; মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×