এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে লাল জার্সি পরে মাঠে নামবে স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া, কোস্টারিকা আর ত্রিনিদাদ-টোবাগো ।এদের যে কোনো একটি এ আসরে অসম্ভব কিছু করে ফেললে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। বিজ্ঞানীরা তো বলেই রেখেছেন লাল সঙ্গে থাকলে সাফল্যও সঙ্গী হবে!
মজার এ গবেষণাটি করেছেন ইংল্যান্ডের ডারহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব বিভাগের কয়েকজন গবেষক। এ গবেষণার ভিত্তি 2004 অলিম্পিকের চারটি ডিসিপ্লিনের গাণিতিক বিশ্লেষণ। মুষ্টিযুদ্ধ, তায়কোন্দো, গ্রেকো-রোমান কুস্তি আর ফ্রিস্টাইল কুস্তির প্রতিযোগীদের নিয়ে গবেষণা করে তারা দেখতে পান, লাল জার্সিধারীরাই সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছেন। 21 রাউন্ডের মধ্যে 16টিতেই সফল হয়েছেন তারা। সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে দেখা গেছে লাল জার্সিধারীদের সাফল্য 55 শতাংশ।ইউরো-2004 নিয়েও একই ধাচের গবেষণা হয়েছে। সেখানেও সবচেয়ে বেশি সফল লাল জার্সিধারীরাই!
বিজ্ঞানী রাসেল হিল ও রবার্ট বার্টনের মতে, লাল রঙ, আগ্রাসন আর পুরুষের দাপটের মাঝে একটা অদৃশ্য সম্পর্ক আছে। পুরুষের যৌন হরমোন লাল রঙে আকর্ষিত হয়। এটাতো সবাই জানেন, মানুষ রেগে গেলে গায়ের চামড়া রক্তিম হয়ে যায়, আর ভয় পেলে হয় ফ্যাকাসে।
তারপরও প্রশ্ন জাগে, ম্যাচে শক্তি আর দক্ষতার গুরুত্ব তো সমান, এখানে লাল রঙের ভূমিকা কোথায়? বিজ্ঞানীদের জবাব: আমাদের মনে হয়েছে, লাল রঙ জয়-পরাজয়ে ভারসাম্য আনে।
1966 বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জার্সি ছিল লাল। তারা সেবার শিরোপা জিতেছিল। 2002 বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার দাপটও লাল রঙের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। ক্লাব ফুটবলে লিভারপুল আর ম্যান-ইউও লাল জার্সিতে কম সাফল্য পায়নি। এসব দৃষ্টান্ত বিজ্ঞানীদের সিদ্ধান্তকে সঠিক ভাবালেও সংশয় কিন্তু কাটছেনা।হলুদ জার্সির ব্রাজিল কি করে লাল রংয়ের মাহাত্মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে 5 বার এবং সাদা জার্সির জার্মানি ও নীল জার্সির ইতালি কিভাবে তিনবার করে বিশ্বকাপ জিতল, লাল না ধরেও বার্সেলোনা কিসের জাদুতে মাঠ মাতাচ্ছে-- এসবের জবাব যে বিজ্ঞানীদের কাছে পাওয়া যায়নি!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



