somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

welcome বোন..................!

০৮ ই মার্চ, ২০১৪ রাত ২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দুই বছর আগের কথা। মা-বাবা গল্প করছেন মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে। আড়াল থেকে এই গল্প শুনে ফেলে শিশু সামিয়ারা খাতুন। তখন সে ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। নিজের বিয়ের কথা শুনে ফেলেছে—বিষয়টি সে বাড়ির কাউকেই বুঝতে দেয়নি। ছুটে গিয়েছে বিদ্যালয়ে। সব শুনে তার সহপাঠীরা বিয়ে বন্ধের অভিযানে নামে। তারা সফল হয়। এই গল্প এখন বিদ্যালয়ের সব মেয়েকে সাহস জোগায়। ইতিমধ্যে তারা আরও কিছু করেছে।
সামিয়ারার বাড়ি রাজশাহীর পবা উপজেলার চর তারানগর গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুস সামাদ। মায়ের নাম সখেনা বেগম। পড়ে চর খিদিরপুর নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
তারানগর গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। পাশের গ্রাম চর খিদিরপুরে রয়েছে আরেকটি। কিন্তু মাধ্যমিক শ্রেণীতে পড়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সে জন্য পঞ্চম শ্রেণী পাস করার পরই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। এলাকায় এটাই নিয়ম হয়ে গিয়েছিল। কয়েক বছর আগে ‘বঞ্চিতি বদল’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চর খিদিরপুর গ্রামে একটি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় চালু করেছে। সংগঠনের সদস্যরা গ্রামের মেয়েদের বিয়ে না দিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করেন।
বঞ্চিতি বদলের পরিচালক মুরাদুজ্জামান বলেন, এত প্রচার-প্রচারণা চালানোর পরও ষষ্ঠ শ্রেণীর একজন ছাত্রীর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে—ফোন করে বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী তাঁকে জানায়। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সীমা খাতুনকে ফোন করে এ বিষয়ে একটি পরামর্শ দেন। তাঁর কথামতো সীমা খাতুন বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সামিয়ারার বাড়ি উপস্থিত হন। শিক্ষার্থীরা সামিয়ারার বাবাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। তারা তাঁকে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক বোঝায়। তিনি বুঝতেই চান না। তারপর তারা বোঝানোর চেষ্টা করে মেয়ে লেখাপড়া শিখলে তার কী সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের পরিবারে জমির কাগজ পড়ার মতো কোনো মানুষ নেই। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র পড়ে দেওয়ার মতোও কেউ নেই। মেয়েটা শিক্ষিত হলে এই সমস্যা থেকে তাঁকে রক্ষা করতে পারবে। কেউ তাঁকে বোকা বানিয়ে জমি লিখে নিতে পারবে না।
আবদুস সামাদ বলেন, মেয়ের বয়স বেশি হলে পাত্র পাওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীরা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করে, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের যোগ্যতাও বাড়বে। তখন হয়তো রাখাল পাত্র পাওয়া না গেলেও একজন যোগ্য পাত্র পাওয়া যাবে।
একপর্যায়ে আবদুস সামাদ মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে রাজি হন। তবে তিনি শর্ত দেন, ছেলের বাবা যদি আপত্তি না করেন, তাহলে তিনি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেবেন। সীমা খাতুন সামিয়ারার সহপাঠীদের নিয়ে ছোটেন ছেলের বাড়িতে। তাঁর বাড়িও একই গ্রামে। সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীরা একইভাবে ছেলের বাবাকে চেপে ধরেন। অবশেষে তিনিও সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।
সামিয়ারা এখন চর খিদিরপুর বিদ্যালয়ে পড়ছে। এখন তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে একটা বাল্যবিবাহের ঝড় তার ওপর দিয়ে গেছে। সামিয়ারাও বিষয়টি প্রায় ভুলে গেছে।
কিন্তু সামিয়ারার বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তিনি মেয়েকে নিয়ে এখনো চিন্তায় রয়েছেন। কারণ, তাঁর নয় বিঘা জমি ছিল। নিজের জমিতে চাষবাস করেই তাঁর সংসার চলত। কিন্তু পদ্মার ভাঙনে এখন তাঁর জমি দুই বিঘার নিচে নেমে এসেছে। জমি ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মনোবলও প্রায় ভেঙে পড়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই গ্রামে গিয়ে তাঁকে অন্যের জমিতে কাজ করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, এভাবে তিনি আর পেরে উঠছেন না। তাঁর আরও ছোট দুটি মেয়ে রয়েছে। একটা তৃতীয় ও একটি শিশু শ্রেণীতে পড়ে। ছেলেটা এখনো বিদ্যালয়ে যাওয়া শুরু করেনি। তাঁর কথা হচ্ছে, বড় মেয়েটা তো একটু কিছু শিখল। এখন ছোটদেরও তো কিছু শেখাতে হবে। আস্তে আস্তে খরচ বাড়বে। অন্যের জমিতে কাজ করে বাড়তি খরচ আর মেটাতে পারবেন না। তখন বড়টাকে হয়তো আর ধরে রাখতে পারবেন না।
তবে সামিয়ারার সাহস দেখে বিদ্যালয়ের অন্য মেয়েরাও এখন সচেতন হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি সামিয়ারার মতো করেই তারা তাদের আরেক সহপাঠীর বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে দিয়েছে। মেয়েটির নাম রানু পাখি। সে বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। তারা রানু পাখির বাবাকে বোঝাতে সমর্থ না হয়ে এবার বঞ্চিতি বদলের পরিচালককে ডেকে নিয়ে যায়। রানুর বাবা যখন কিছুতেই বুঝতে চাইছেন না, মুরাদুজ্জামান তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে ছাপা ‘রোজিনার জীবনে অন্য রকম পাওয়া’ শীর্ষক প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন পড়ে শোনান। এতে কাজ হয়। রানুর বাবা মহির উদ্দিন রাজি হয়ে যান। সামিয়ারার পথ ধরে আরও একজন শিশু বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পায়।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×