somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আঁধারের ছায়াসঙ্গীরা............(১)

২১ শে জুন, ২০১১ ভোর ৪:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘুম থেকে উঠেই বাবার ঝাড়ি...'এতক্ষন কিসের ঘুম..!!! সারাদিন ঘুম আর ঘোরাঘুরি। পড়ালেখা নাই, ক্লাসে যাবি না.....' উফ্‌ফ্‌...মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেল।আর কিছু শোনার আগে বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে যেই স্কুলব্যাগ নিয়ে বেরুতে যাব...পেছন থেকে মা, 'খেয়ে যা.....' 'পারব না। পরে.....' বলেই পগারপার... মা পেছন থেকে বলেই জাচ্ছেন, 'এই ইমু, এই......' অবশ্য বাবা সামনে থাকলে এত সহজে পার পাওয়া যেত না। বেরি্যেই রুমকি আপুর সামনে....'কিরে বডিবিল্ডার, কই পালাচ্ছিস। খালা ধাওয়া করেছে নাকি......' মেজাজ এমনেই খারাপ আরও খারাপ হয়ে গেল। আপুর দিকে কড়কড়ে চোখে তাকিয়ে হাঁটা ধরলাম। পেছন থেকে আপুর হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে। রাগে দুঃখে কান্না এসে গেল। কিন্তু পাশের বাসার সুন্দরি মেয়েটার সামনে পড়ায় তাড়াতাড়ি অন্যদিকে ফিরে চোখ মুছে ফেল্লাম। না জানি আবার বাচ্চা ছেলে মনে করে বসে..... আর নিজেকে একটা ভাবে আনার চেষ্ঠা নিলাম। মেয়েটা পাত্তাই দিল না। হেঁটে চলে গেল.... মনে মনে একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করলাম। ধূরররর...সুন্দরি মেয়েগুলো এমন কেন.!!! এই যে রুমকি আপু সারাদিন খালি খোঁচায়। এমন পেইন দেয়....ইচ্ছা করে পালিয়ে বনে জঙ্গলে চলে যাই..... X(


গাধামানব


স্কুলের মাঠেই সায়ানের সাথে দেখা। আজ কি হয়েছে কে জানে.....মাথায় দেখি একটা বড়সড় আলু গজানো।আর এক হাতে কনুই চেপে ধরে আছে....আমাকে দেখেই দাঁত কেলাই হাসি দিল।আমিত পুরাই তাজ্জব.!!!! এই অবস্থায় মাণুষ হাসে কি করে। এটাই হল আমার বেস্ট ফ্রেন্ড.... 'গাধামানব'..... সবকিছুই মামলেট ওমলেট বানিয়ে দেয়........ :|

একবার স্কুল পালানোর মহৎ প্ল্যান করলাম। পালানোর আগে একটু দাড়া বলে কোথায় জানি গেল.... আসার পরে দেখি মুচকি মুচকি হাসে কিছু বলে না। স্কুল পালানোর উত্তেজনায় পাত্তা দিলাম না। পরে অবশ্য হাড়ে হাড়ে টের পেলাম... পরেরদিন স্যারের হাতে কান লাল করে তার মাশুল দিতে হল। পরে গাধাটার কাছে জানলাম, সে নাকি দারোয়ান আঙ্কেলকে বলে এসেছিল ওদের বাসার ছেলেটা আস্‌লে যেন চলে যেতে বলে। তো দারোয়ান সে তখন কোথায় থাকবে জিজ্ঞাসা করায় তার উত্তর 'কেন....আমি আর ইমু পালাচ্ছি না..!!!!!'.... :((

ইচ্ছা করছিল গাধাটাকে মেরে তক্তা বানাই। কিন্তু কি করা...বেস্ট ফ্রেন্ড বলে কথা...... /:)


গ্রীলা.......


ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'কিরে এই অবস্থা কেন..?' উত্তর না দিয়ে খিখ খিখ করে হাসতে লাগল। যতই জিজ্ঞেস করি শুধুই হাসে....মেজাজ এমনিতেই খারাপ, দিলাম এক রাম গাট্টা। গাধাটা ভ্যাবাছ্যাকা খেয়ে গেল। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, 'কি হইসে...?' ও হাসতে হাসতে যা বলল তাতে আমারই ভ্যাবাছ্যাকা খাবার জোগাড়। সি সেকশনের কবিরকে নাকি ও গ্রীলা বলে ডাকাতে কবির ওকে কোলে নিয়ে আছাড় দিয়েছে.... আমি এইখানে হাসির কি আছে তা খুঁজে না পেয়ে ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম। ও তখন বলল, 'আরে তুই যদি দেখতি....গ্রীলা ডাকার পর কবিরের অবস্থা। তো তো তো করে খালি.....' আমি আরেকটা দীর্ঘশ্বাস লুকালাম। কবিরকে সামনাসামনি গ্রীলা ডাকার মত ভয়ংকর কাজটা মনে হয় একমাত্র সায়ান গাধাটাই করতে পারে...... /:)

কবির হচ্ছে আমাদের ক্লাসের গুন্ডা টাইপ ছেলেদের সর্দার। কালো আর বেঁটে খাট হওয়ায় আড়ালে ওকে সবাই গরিলা ডাকত। একদিন আমাদের ক্লাসের একটা মেয়ে হঠাৎ মুখ ফসকে বলে ফেলল, 'এই গরিলা, শোন....' পুরা ক্লাস চুপ....আর গরিলার চেহারা দেখার মত হয়েছিল।পুরো চোয়াল ঝুলে পড়ল। আর তো তো করে বলল, 'তু..তুই আমাকে গ্রী..গ্রীলা ডাকলি..!!!!' আমরা ধরে নিলাম মেয়েটা শেষ। কিন্তু কবির কাউকে কিছু না বলে ক্লাস থেকে বের হয়ে গেল........ :-*



(চলবে.......)


[বি.দ্র.: লেখাটা লিখতে বসেছিলাম আমার জীবনের সবচে প্রিয় দুই ছায়াসঙ্গীকে নিয়ে(আমার বাবা, মা...).....কিন্তু কি যে হল.......অনেকগুলো কাল্পনিক আর বাস্তবের ছায়াসঙ্গীরা এসে চারপাশে ভিড় করল........তাই এদের সবাইকে নিয়ে কিছু একটা লেখার চেষ্ঠা করলাম.......জানিনা কেমন হবে.........]
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৩:৫৮
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×