somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোযার বিধি-বিধান

২৩ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সৈয়দা শাহারবানু

﴿ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ٭ أَيَّاماً مَّعْدُودَاتٍ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْراً فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ وَأَن تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ ٭ شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيَ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلاَ يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴾
হে মোমিনগণ! তোমাদের জন্য রোযার বিধান দেয়া হয়েছে (ফরজ করা হয়েছে); যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকেও দেয়া হয়েছিল। যাতে তোমরা মুত্তাকী (পরহেজগার) হতে পার। রোযা নির্দিষ্ট কয়েক দিনের। তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় সেই রোযাসমূহ পূরণ করতে হবে। এটা যাদেরকে সাতিশয় কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদয়া-এক জন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা। যদি কেউ স্বঃতস্ফুর্তভাবে সৎকাজ করে তবে তা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। আর রোযা পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণ প্রসূ যদি তোমরা জানতে। রমযান মাস, এটাতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে তারা যেন এই মাসে রোযা রাখে। এবং কেউ পীড়িত থাকলে কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পুরণ করে নিবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্ট দায়ক তা চান না, এ জন্য যে, তোমরা সংখ্যা পূরণ করবে এবং তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করবে এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।
﴿أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَآئِكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ عَلِمَ اللّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ فَالآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُواْ مَا كَتَبَ اللّهُ لَكُمْ وَكُلُواْ وَاشْرَبُواْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّواْ الصِّيَامَ إِلَى الَّليْلِ وَلاَ تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ تِلْكَ حُدُودُ اللّهِ فَلاَ تَقْرَبُوهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ﴾
সিয়ামের রাত্রে তোমাদের জন্য স্ত্রী-সম্ভোগ বৈধ করা হয়েছে তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ জানেন যে তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করছিলে। অতঃপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হয়েছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেছেন। সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও এবং আল্লাহ যা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষন রাত্রির কৃষ্ণরেখা থেকে উষার শুভ্র রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। অতঃপর রাত্রি পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর। তোমাদের মসজিদে ই’তিকাফরত অবস্থায় তাদের সাথে সংগত হয়ো না। এগুলো আল্লাহর সীমারোখা। সুতরাং এগুলোর নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবে আল্লাহ তাঁর নিদর্শনাবলী মানব জাতির জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তারা মুত্তাকী হতে পারে।

রোযার প্রকারভেদ
১। ওয়াজিব ( যা পালন করা প্রতিটি প্রাপ্ত বয়ষ্ক মুসলমানের জন্য অবশ্য কর্তব্য)।
২। হারাম (যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য)।
৩। মুস্তাহাব ( যা পালন করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়)।
৪। মাকরুহ ( যা না করাই ভাল তবে করলে গোনাহ নেই)।

ওয়াজিব রোযাসমূহ
১। রমযান মাসের রোযা।
২। মানত কৃত এবং প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে ওয়াজিব হওয়া রোযা।
৩। রমযান মাসের ক্কাজা রোযা।
৪। কাফফারার রোযা।
৫। এসতিজারি রোযা। ( কোন ব্যক্তি যদি মজুরির বিনিময়ে মৃত ব্যক্তির জন্য রোযা রাখতে রাজি হয় )।
৬। এতেকাফের তৃত্বীয় দিনের রোযা।
৭। হজ্জের কোরবানির পরিবর্তে রোযা।( যদি হজ্জি কোরবানি করতে না পারে, তার পরিবর্তে তিনটি রোযা হজ্জে থাকা কালিন এবং সাতটি রোযা হজ্জ থেকে ফিরে আসার পর)।
৮। পিতার ক্কাযা রোযা বড় ছেলের উপরে ওয়াজিব।

হারাম রোযাসমূহ
১। ঈদুল ফিতর দিনের রোযা (১ শাওয়াল)।
২। ঈদুল আযহার দিনের রোযা (১০ যিলহাজ্ব)।
৩। যে দিন সর্ম্পকে জানা নেই যে তা শাবানের শেষ দিন না রোযার প্রথম দিন। সে দিন যদি ১ম রোযার নিয়তে রোযা রাখা হয় তাহলে সেটা হারাম রোযা হবে।
৫। গোনার জন্য মানতের রোযা।
৬। ১১, ১২ এবং ১৩ ই জ্বিলহজ্বে যে ব্যক্তি মিনায় থাকে।
৭। চুপচাপ থাকার রোযা।(কারও সাথে কথা বলবো না এ নিয়তে রোযা রাখা)।
৮। পরস্পর দুই দিন রোযা।
৯। সন্তান মুস্তাহাব রোযা রাখলে সেটা যদি পিতা মাতার কষ্টের কারণ হয়।
১০। স্ত্রীর মুস্তাহাব রোযা যদি স্বামী নিষেধ করে থাকে।
মাকরুহ রোযা
১। আশুরার দিনে রোযা রাখা।
২। যে দিন সর্ম্পকে সন্দেহ থাকে যে তা আরাফাত-দিবস (৯ যিলহজ্ব) না কি ঈদুল আযহার দিবস (১০ যিলহজ্ব) সে দিনের রোযা।

মুস্তাহাব রোযা
হারাম ও মাকরুহ দিবসগুলো ব্যতীত বছরের অন্যান্য দিনের রোযা মুস্তাহাব।

যে দিনগুলোতে রোযা রাখার অত্যাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
১। প্রতি আরবি মাসের প্রথম ও শেষ বৃহষ্পতিবার।
২। প্রতি আরবি মাসের ১৩,১৪, ও ১৫ তারিখের রোযা।
৩। পুরো রজব মাসের ও শাবান মাসের রোযা এবং এ দু’ মাসের কয়েক দিনের রোযা এমনকি একদিনের রোযাও।
৪। যিলহজ্ব মাসের ২৫ ও ২৯ তারিখের রোযা।
৫। যিলহজ্ব মাসের ১ তারিখ হতে ৯ তারিখের (আরাফা দিবসের) রোযা।
৬। গাদীরে খুম দিবসের রোযা (১৮ ই যিলহজ্ব)।
৭। ১ম ও ৩য় মহরমের রোযা।
৮। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জন্মদিবসের (১৭ ই রবিউল আওয়াল) রোযা।
৯। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর নবুয়্যত ঘোষণা দিবসের (২৭ রযব) রোযা।
১০। নববর্ষের রোযা।
১১। প্রতি আরবী মাসের দশম দিবসের পর প্রথম বুধবারের রোযা এবং প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের রোযা।

রোযা: মহান আল্লাহর নিদের্শ পালন ও তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য ফজরের সময়ের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু কাজ যা রোযা বাতিল করে তা থেকে বিরত থাকাই রোযা।
যে সকল কারণে রোযা বাতিল হয় সে গুলো হল ৯ টি যথা ঃ
১। পানাহার করলে।
২। সহবাস করলে।
৩। ইসতিমনা করলে (পুং বা হস্থমৈথূন জনিত বীর্যপাত)।
৪। আল্লাহ, রাসূল(সা.) এবং তাঁর আহলে বাইতের প্রতি মিথ্যারোপ করলে।
৫। গাঢ় এবং ঘন গুড়া যাতিয় কিছু গলায় প্রবেশ করালে যেমন: ধুলা, আটার গুটা ইত্যাদি।
৬। পানির নিচে মাথা নিয়ে গেলে অর্থাৎ ডুবিয়ে গোসল করলে।
৭। ফজরের আযান পর্যন্ত জানাবাতের অবস্থায় (যৌন কারণে অপবত্রি থাকা এবং হায়েয ও নিফাস জনিত অপবিত্রাবস্থায় বহাল থাকা ) থাকলে।
৮। পিছন দিয়ে তরল পদার্থ দিয়ে ঢুস দেয়া।
৯। ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে।

রোযার নিয়তের বিধি- বিধান ঃ
১। মনে মনে রোযার নিয়ত করার প্রয়োজন নেই অথবা আমি আগামীকাল রোযা রাখব এ কথা বলারও প্রয়োজন নেই, বরং মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন কারর উদ্দেশ্যে ফজরের সময় থেকে মাগরিব পর্যন্ত উপরোক্ত নির্দিষ্ট কিছু কাজ করা থেকে যদি বিরত থাকে তাহলেই যথেষ্ঠ। পুরো সময়টা সে রোযা ছিল এ ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য অবশ্যই ফজরের ওয়াক্তের কিছুক্ষণ আগে থেকে এবং মাগরিবের নামাযের কিছুক্ষণ পর পর্যন্ত ঐ সকল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
২। যদি কোন ব্যক্তির উপর রমযান মাসের রোযা ব্যতীত অন্য কোন রোযা ওয়াজিব হয়ে থাকে তাহলে সেই নিয়তকে সুনির্দিষ্ঠ করবে। যেমন- সে নিয়ত করবে যে সে ক্বাজা রোযা বা মানত রোযা রাখছে।
৩। যদি কোন ব্যক্তি প্রথম রোযার নিয়ত করার পর জানতে পারে যে উক্ত দিনটি রোযার সাসের ২য় বা ৩য় দিন তবু ও তার রোযা সহীহ হবে।
৪। যদি কোন ব্যক্তি ফজরের সময়ের পূর্বে নিয়ত করে নিদ্রায় যায় এবং মারিবের সময়ের পর জাগ্রত হয়, তাহলেও তার রোযা সহীহ থাকবে।
৫। দিনটি রমযানে প্রথম দিন নাকি শাবানের শেষ দিন এ ব্যাপারে যদি কারো সন্দেহ থাকে তাহলে ঐ দিনের রোযা তার জন্য ওয়াজিব নহে। বরং রমযানের নিয়তে ঐ দিন রোযা রাখা হারাম।
৬। রমযানের রোযার মত কোন সুনির্দিষ্ট ওয়াজিব রোযার ক্ষেএে যদি কোন ব্যক্তি রোযা রাখার নিয়ত প্রত্যাহার করে, তাহলে তার ঐ রোযাটি বাতিল হয়ে যাবে। তবে যে সব কাজ রোযা ভঙ্গ করে সে সব কাজ করার নিয়ত যদি সে করে কিন্তু তা সে সম্পাদন না করে তাহলে তার ঐ রোযাটি বাতিল হবে না।

রোযা ভঙ্গকারী বিষয়াদির বিধান
১। পানাহার
ক। ইচ্ছাপূর্বক ঃ রোযাদার যদি ইচ্ছা করে কোন জিনিস খায় বা পান করে তাহলে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে তা সে খাদ্যই (রুটি, পানি ইত্যাদি ) ভক্ষণ করে থাকুক বা অখাদ্যই (মাটি, গাছের রস ইত্যাদি) ভক্ষণ করে থাকুক, তা কম হোক বা বেশী হোক, এমনকি টুথব্রাশ মুখ থেকে বের করে এনে যদি পুনরায় মুখ গহবরের ভিতর ঢুকানো হয় এবং এর আদ্রতা যদি হলাধঃকরণ করা হয় তাহলেও রোযা বাতিল হয়ে যাবে। তবে টুথব্রাশের আদ্রতা যদি মুখের লালার সাথে এমন ভাবে মিশে যায় যে যদ্দরুন আর ঐ আদ্রতাকে বাহিরে থেকে আগত আদ্রতা বলা না যায় তাহলে এতে কোন অসুবিধা হবে না।
খ। ভুলক্রমে ঃ যদি কোন রোযাদার ব্যক্তি ভূলক্রমে কিছু খায় বা পান করে তাহলে তার রোযা বাতিল হবে না।

যে জিনিস পানাহারের পর্যায়ভুক্ত এবং রোযা বাতিল করে সে সব জিনিস হচ্ছে:
১। ইচছাপূর্বক দাঁতের ফাঁকে থেকে যাওয়া খাদ্য-কণিকা গিলে ফেললে।
২। মাথা ও বুকের কফ ও শ্লেষ্মা যা মুখ গহবরে চলে এসেছে তা গিলে ফেললে (সতর্কতামূলক ওয়াজিব অনুসারে )।
৩। খাদ্যের পরিবর্তে যে ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা হয় ( সতর্কতামূলক ওয়াজিব অনুসারে )
৪। রোযাদার যদি জানে যে, যে খাদ্য-কণা দাঁতের ফাঁকে রয়ে গেছে তা দিনের বেলা গলার ভিতরে চলে যেতে পারে, এমতাবস্থায় যদি খিলাল না করে এবং ঐ খাদ্য- কণা গলার ভিতর চলে যায় তাহলে তার রোযাই বাতিল হয়ে যাবে। বরং যদি তা ভিতরে নাও যায় সতর্কতামূলক ওয়াজিব অনুসাওে এ রোযার ক্বাযা তাকে অবশ্যই আদায় করতে হবে।
৫। কোন ব্যক্তি যদি প্রথম থেকেই জানে যে, শিশু বা পাখির জন্য চিবিয়ে দেওয়া এবং খাদ্যে চেখে দেখার সময় খাদ্য গলার ভিতর ঢুকে যাবে, আর এভাবে যদি ঢুকে যায়, তাহলে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে। তাকে ঐ রোযা ক্বাযা করতে হবে এবং ঐ রোযার কাফফারাও তার উপর ওয়াজিব হবে। তবে এমন হয় যে সাধারণতঃ শিশু বা পাখির জন্য চিবিয়ে দেয়া এবং খাদ্য চেখে দেখার সময় খাদ্য গলায় না ঢুকে বরং হঠাৎ করেই ঢুকে যায় তাহলে এর ফলে রোযা ভঙ্গ হবে না।
দু’ টি ক্ষেত্রে রোযাদার রোযা ভাঙতে পারে
(ক) রোযাদার যদি এতটা তৃষ্ণার্ত হয় যে তার মৃত্যুর অশস্কা হতে পারে। তাহলে সে যতটুকু পানি পান করলে তার তৃষ্ণা নিবারণ হবে ঠিক ততটুকু পানি পান করবে। তবে এতে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে। আর তা যদি রেযার মাসে হয়, তাহলে সে অবশ্যই দিনের অবশিষ্ঠ সময় রোযা ভঙ্গকারী কোন কাজ করবেনা।
(খ) রোযাদার শারীরিক দুর্বলতার কারণে রেযা ভঙ্গ করতে পারবেনা। তবে তার দুর্বলতা যদি এতটা হয় যে যা সাধারণত সহ্য করা সম্ভব নয় তাহলে এমতাবস্থায় রোযা ভঙ্গ করলে কোন অসুবিধা হবে না।
২। সহবাস
সহবাস রোযা বাতিল করে। যদি রোযাদার দিনকে রাত মনে করে সহবাস করে বা তাকে সহবাস করতে এমনভাবে বাধ্য করা হয় যে তার কোন ক্ষমতা বা স্বাধীনতাই বলবৎ না থাকে তাহলে তার রোযা বাতিল হবে না। তবে যদি সহবাসকালে স্মরণ হয় যে, তখন দিন অথবা সহবাসরত অবস্থায় তার উপর থেকে বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া হয় তাহলে তাকে অবশ্যই তৎক্ষণাৎ সহবাস করা থেকে বিরত হতে হবে। আর সে যদি বিরত না হয় তাহলে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে।
৩। পং বা হস্থমৈথুন জনিত বীর্যপাত
রোযাদার ব্যক্তি যদি পং বা হস্থমৈথুন করে ফলে তার বীর্যপাত হয় তাহলে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে।
বীর্যপাত সংক্রান্ত বিধি বিধান
ক। যদি কারো অনিচ্ছাকৃত ভাবে বীর্যপাত হয় তাহলে তার রোযা বাতিল হবে না।
খ। যদি কোন ব্যক্তি এমন কোন কাজ করে যার ফলে অনিচ্ছাকৃত ভাবে তার বীর্যপাত হয়ে যায় তাহলে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে।
গ। বীর্যপাতের উদেশ্যে যদি কোন কাজ করা হয় অথচ বীর্যপাত না হয় তাহলে রোযা বাতিল হবে না।
ঘ। রোযাদারের যদি জানা থাকে যে, সে যদি দিনের বেলায় ঘুমায় তাহলেও তার বীর্যপাত হবে বা স্বপ্নদোষ হবে তবু সে ঘুমাতে পারবে। আর সে যদি ঘুমায় এবং তার স্বপ্নদোষ হয় তাহলে ও তার রোযা সহীহ থাকবে। বীর্যপাত কালে রোযাদার যদি জাগ্রত হয়, তাহলে এমতাবস্থায় বীর্যপাত বন্ধের চেষ্ঠা করা তার জন্য ওয়াজিব হবে না।
৪। মহান আল্লাহ ও মহানবী (সা.) এর উপর মিথ্যা আরোপ করা
ক। রোযাদার ব্যক্তি যদি বলা, লিখা বা ইশারা করার মাধ্যমে মহান আল্লাহ, তাঁর রাসূলের সম্মানিত স্থলাভিষিক্তগণের (সম্মানিত ইমামগণের) নামে ইচ্ছা করে মিথ্যা আরোপ করে যদিও সে তাৎক্ষনিকভাবে বলে যে, “ আমি মিথ্যা আরোপ করছি” বা সে যদি তাওবা তবুও তার রোযা হয়ে যাবে। আর সর্তকতামুলক ওয়াজিব অনুসারে হযরত ফাতেমা জাহরা (রাঃ), নবী রাসূলগণ এবং তাদের স্থলাভিষিক্তগণের উপর মিথ্যা আরোপ করার বিধান ও একই।
* তাঁদের কাজ সম্পর্কে অথবা কথা সম্পর্কে।
* প্রত্যক্ষ হোক অথবা পরক্ষ হোক।
* মিথ্যা নিজে বানাক অথবা অন্যের কাজ থেকে শুনুক। তবে যদি রোযাদার যে ব্যক্তি ঐ মিথ্যার উদ্ভাবনকারী তার উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করে তাহলে কোন অসুবিধা নেই।
* খবর হোক অথবা কারো প্রশ্নের জবাবে হোক।
* যে মিথ্যা আগে বলা হয়েছে তা সমর্থ করা; মানে এটা বলা যে, যা বলেছি সত্য বলেছি।
* আগে যে সত্য বলেছে তা অস্বীকার করা।
এ সকল ক্ষেএে রোযা বাতিল হবে না
* যদি সত্য বলার ইচ্ছা থাকে কিন্তু তা মিথ্যা হয়।
* যদি মিথ্যা বলার ইচ্ছা থকে কিন্তু তা সত্য হয়।
* কোন মিথ্যা নিয়ে আলোচনা করলে রোযা বাতিল হবে না। যেমন: রোযা অবস্থায় কেউ যদি বলে, ইয়াযিদ এই মিথ্যা কথাটি বলেছে: বনী হাশিম, ক্ষমতা নিয়ে খেলা করেছে, কোন খবরও (নবী ) আসেনি এবং কোন ওহীও (কোরআন) অবতীর্ণ হয়নি।
খ। যদি কোন রোযাদার কোন কিছু বিশ্বাস সহকারে করে যে, তা সত্য এবং মহান আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের নামে মিথ্যা কিছু উক্তি হিসাবে বর্ণনা করে এবং পরে বুঝতে পারে যে তা মিথ্যা তাহলে হবে না।
গ। যদি কোন রোযাদারের জানা থাকে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নামে কিছু বললে রোযা ভঙ্গ হয়ে যায় এবং সে যদি যে বিষয়টি মিথ্যা তা মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের সাথে সম্পর্কিত করে এবং পরে বুঝতে পারে যে, যা কিছু সে বলেছে সত্য বলেছে, তাহলে তার রোযা সহীহ থাকবে।

৫। গলার ভিতর গাঢ় ঘন ধুলা- বালি প্রবেশ করান
ক। গলার ভিতর গাঢ় ঘন ধুলা- বালি প্রবেশ করালে রোযা বাতিল হয়ে যায়; ঐ ধুলা-বালি এমন কোন বস্তু যা ভক্ষ করা হালাল, ( যেমন- আটা) অথবা এমন কোন বস্তু যা খাওয়া হারাম, (যেমন- মাটি) এতে কোন পার্থক্য নেই।
খ। যে গাঢ় ঘন বাস্প মুখবিবরে পানিতে পরিণত হয় তা এবং সর্তকতামূলক ওয়াজিব অনুসারে সিগারেট, তামাক ইত্যাদিও ধোঁয়াও যেন গলার ভিতর প্রবেশ না করে।
গ। যদি কোন রোযাদার ব্যক্তি ভুলে যায় যে সে রোযাদার এবং সর্তক ও মনোযোগী না হয় অথবা নিজ ইচ্ছায়র বিরুদ্ধে ধুলা-বালি, পাউডার, গুড়্াে জিনিস ইত্যাদি তার গলার ভিতর প্রবেশ করে, তাহলে তার রোযা বাতিল হবে না। আর যদি সম্ভব হয়, তাহলে হলা থেকে বের করবে।
৬। পুরো মাথা পানিতে নিমজ্জিত করা (ডুবিয়ে গোসল করা)
ক। ইচ্ছাপূর্বক ঃ রোযাদার ব্যক্তি যদি ইচ্ছাপূর্বক পুরো মাথা পানিতে ডুবায় যদিও তার দেহ পানির বাহিরে থাকে তাহলে সর্তকতামূলক ওয়াজিব অনুসারে ঐ দিনের রোযার ক্বাজা আদায় করতে হবে। তবে যদি তার সমগ্র দেহ পানিতে ডোবানো থাকে কিন্তু মাথার কিছু অংশ পানির বাহিরে থাকে, তাহলে তার রোযা বাতিল হবে না।
খ। অনিচ্ছাপূর্বক ঃ যদি রোযাদার ব্যক্তিকে বলপূর্বক পানিতে ফেলে দেওয়া হয় অথবা অনিচ্ছা সত্ত্বে পানিতে পড়ে যায় এবং তার পুরো মাথা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায় বা সে যদি ভুলে যায় যে সে রোযা রেখেছে এবং পুরো মাথা পানিতে ডুবিয়ে দেয়, তাহলে তার রোযা বাতিল হবে না।
এ সকল ক্ষেএে রোযা বাতিল হবে না
* অনিচ্ছাকৃতভাবে মাথাকে পানির নিচে নিয়ে যাওয়া।
* মাথার কিছু অংশ পানির নিচে নিয়ে যাওয়া।
* অর্ধেক মাথা একবার ও অর্ধেক মাথা আরেকবার পানিতে ডুবালে।
* যদি সন্ধেহ হয় যে তার সম্পূর্ণ মাথা পানির নিচে গেছে কি না।
গ। যদি রোযার মাসে রোযা থাকা অবস্থায় পানিতে মাথা ডুবিয়ে গোসল করে, তাহলে তার রোযা ও গোসল বাতিল হয়ে যাবে, তবে যদি তওবা করে এবং পানির নিচে থেকে গোসলের নিয়াত করে উঠে আসে তাহলে এই অবস্থায় তার গোসল সহীহ হবে কিন্তু রোযা বাতিল হয়ে যাবে।

৭। ফজরের আযান পর্যন্ত জানাবাতের অবস্থায় (যৌন কারণে অপবত্রি থাকা এবং হায়েয ও নিফাস জনিত অপবিত্রাবস্থায় বহাল থাকা ) থাকলে।
যদি জানাবাতের ব্যক্তি সকালের আযান পর্যন্ত গোসল না করে, এবং তার দায়িত্ব তায়াম্মুম করা, কিন্তু তাও যদি না করে তার কিছু ক্ষেএে রোযা বাতিল হবে।
এখন তার কিছু বিধান বর্ণনা করছি ঃ
ক। যদি ইচ্ছা করে ফজরের আযানের নামায পর্যন্ত গোসল আথবা তায়াম্মুম না করে তাহলে:
যদি রোযার মাসের রোযা হয় অথবা রোযার মাসের ক্বাজা রোযা হয়,-তাহলে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে। তবে অন্যান্য রোযার ক্ষেত্রে -রোযা সঠিক হবে।
খ। যদি জানাবাতের ব্যক্তি রমজান মাসে রোযা থাকা অবস্থায় গোসল করতে অথবা তায়াম্মুম করতে ভুলে যায়, এবং এক দিন অথবা কয়েকদিন পর মনে পড়ে তাহলে অবশ্যই ঐ রোযার ক্বাজা করতে হবে।
গ। যদি রোযাদার ব্যক্তির, ঘুমের মধ্যে জানাবাত হয় তাহলে তার তক্ষণি গোসল করা ওয়াজিব হবে না, এবং তার রোযাও বাতিল হবে না।
ঘ। যদি জানাবাতের ব্যক্তি রমজান মাসের রাত্রে জানে যে ঘুম থেকে জাগতে পারবে না, তাহলে তার ঘুমানো উচিত না আর যদিও বা ঘুমায় তাহলে ঘুম থেকে জাগতে হবে, তা না হলে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে।
হায়েয ও নেফাস শেষ হয়ে গেলে:
ক। যদি মহিলারা আযানের আগে রক্ত থেকে পবিত্র হয়:
আর ইচ্ছা করে যদি আযানের আগ পর্যন্ত গোসল না করে, তার দায়িত্ব হল তায়াম্মুকরা আর তা ও যদি না করে তাহলে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে।
খ। যদি গোসলের সময় না থাকে:
রমযান মাসের রোযা,রোযার মাসের ক্বাজা রোযায় অবশ্যই তায়াম্মুম করবে তাহলেই তার রোযা সহীহ হবে।
অন্যান্য ওয়াজিব এবং মুসতাহাব রোযার ক্ষেত্রে তায়াম্মুম ছাড়াও রোযা সহীহ হবে, কিন্তু এ নিয়াতে মুসতাহাব তায়াম্মুম করা।
২। যদি ফজরেরে আযানের সময় পবিত্র হয় আর যদি গোসল কিংবা তায়ান্মুমের সময় না থাকে তাহলে ও তার রোযা সহীহ হবে।
৩। যদি অযানের পরে বুঝতে পারে যে, আযানের আগে পবিত্র হয়েছে তাহলে ও তার রোযা সহীহ হবে।
৪। আযনের পরে পাক হলে তার রোযার বাতিল হয়ে যাবে।
৫। যদি রোযা থাকা অবস্থায় হয়েয কিংবা নেফাস হলে, যদিও তা মাগরিবের কাছাকাছি হয় তাহলেও তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে।

৮। পিছন দিয়ে তরল পদার্থ দিয়ে ঢুস দেয়া।
তরল পদার্থ দিয়ে ঢুস দেয়া যদি তা নিরুপায় হয়ে বা চিকিৎসার জন্যও করা হয় তবুও এর ফলে রোযা বাতিল হয়ে যাবে। তবে চিকিৎসার জন্য যদি সাপোজিটরী ব্যাবহার করা হয় তাহলে এত কোন অসুবিধা নেই। আর সতর্কতামূলক ওয়াজীব অনুসারে চাঙ্গাভাব আনার জন্য যে সকল সাপোজিটরী (যেমন: আফিম এবং পুষ্টির জন্য পায়ুপথে ব্যবহৃত সাপোজিটরী) ব্যবহার করা হয় সেগুলো পরিহার করতে হবে।
৯। ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে
ক। রোযাদার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে এমনকি অসুস্থতার কারণেও করে থাকে তাহলে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে।
খ। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়ে গেলে তাতে রোযা বাতিল হবে না।
ঢেঁকুর তোলা:
ইচ্ছাপূর্বক:
ক। যদি নিশ্চিত থাকে যে ঢেঁকুর তুললে গলা থেকে কিছু বেরিয়ে আসবে, তাহলে ইচ্ছা করে ঢেঁকুর তুলতে পারবে না।
খ। যদি নিশ্চিত থাকে যে ঢেঁকুর তুললে গলা থেকে কিছু বেরিয়ে আসবে না, তাহলে ইচ্ছা করে ঢেঁকুর তুললে ও কোন অসুবিধা নেই।
অনিচ্ছাকৃত ঢেঁকুর ওঠা:
ক। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঢেঁকুর ওঠার পর যদি কোন কিছু গলা বা মুখগহবরে চলে আসে তাহলে তা অবশ্যই মুখ থেকে বের করে ফেলতে হবে। আর অনিচ্ছাকৃতভাবে গলায় বা মুখগহবরে আসার পর আপনা আপনি আবার পেটের ভিতর চলে যায় তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে না।
খ। ইচ্ছা করে যদি গিলে ফেলে:
১। কোন হালাল খাবার (যেমন-ভাত, ডাল) ভক্ষণ করার পর যখন উক্ত খাবারের খাদ্য- রূপ আর বহাল নেই, ঢেঁকুর ওঠার সময় তা যদি মুখগহবরে এসে পড়ে এবং যদি ইচ্ছা করে তা গিলে ফেলা হয় তাহলে রোযা বাতিল হয়ে যাবে এবং ক্বাজা ও কাফ্ফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে।
২। যদি তা খাওয়া হারাম হয় যেমন ঢেঁকুর ওঠার সময় যদি রক্ত মুখগহবরে এসে পড়ে এবং ইচ্ছা করে যদি রোযাদার তা গিলে ফেলে তাহলে ঐ রোযার ক্বাজা অবশ্যই আদায় করবে এবং সতর্কতামুলক ওয়াজিব অনুযায়ী তাকে অবশ্যই সম্মিলিত কাফ্ফারা আদায় করতে হবে।
যে সব জিনিস রোযা বাতিল করে দেয় তার বিধান সমুহ:
১। রোযাদার যদি ইচ্ছা করে বা বাধ্য না হয়ে যে কাজে রোযা ভঙ্গ হয় সে কাজ তরে তাহলে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে তা সে জানুক আর নাই জানুক।
২। কোন রোযাদার যদি ভুলক্রমে রোযা ভঙ্গকারী কোন কাজ করে এবং তার রোযা বাতিল হয়ে গিয়েছে এ ধারণাবশত: সে যদি ইচ্ছা করে রোযা ভঙ্গকারী কোন কাজ করে তাহলে তার রোযা বাতিল হয়ে যাবে।
রোযার ক্বাযা ও কাফ্ফারা
ক্বাযা রোযা
যদি কেউ কোন কারণ বসত নির্দিষ্ট সময়ে রোযা না রাখে তাহলে অবশ্যই ঐ রোযাসমূহকে পরবর্তীতে রাখতে হবে। সুতরাং যে রোযাসমূহ সময় পার হওয়ার পর তার পরিবর্তে রাখতে হয় তাকে ক্বাযা রোযা বলে।
রোযার কাফ্ফারা
নির্দিষ্ট রোযা বাতিল করার ফলে যে জরিমানা (ক্ষতিপুরণ দিতে)হয় তাকেই কাফ্ফারা বলে, তা হচ্ছে নিম্নরূপ:
ক্স এক জন দাসকে মুক্ত করা।
ক্স দুই মাস রোযা থাকতে হবে যার ৩১টি পর পর থাকতে হবে।
ক্স ৬০ জন ফকিরকে পেটভরে খাওয়ানো অথবা ঐ পরিমাণ তাদেরকে দিয়ে দেয়া।
যার উপর কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে, তাকে অবশ্যই এর যে কোন একটি করতে হবে। তবে যেহেতু বর্তমানে দাস প্রথা নেই সুতরাং ২য় অথবা তৃতীয়টি করলেই চলবে। কিন্তু যদি কোনটিই তার পক্ষে সম্ভব না হয় তাহলে যতটা সম্ভব ফকিরকে খেতে দিবে যদি তাও না পারে তাহলে ইসতিগফার (আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা )করবে।
এই সকল ক্ষেত্রে ক্বাযা রোযা পালন করা ওয়াজিব কিন্তু কাফ্ফারা নেই:
১। রোযাদার যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে।
২। রোযার মাসে যদি জানাবাতের গোসল করতে ভুলে যায় এবং জানাবাতের অবস্থায় যদি এক দিন অথবা কয়েক দিন রোযা রাখে।
৩। রোযার মাসে, সকাল হয়েছে কি না এ সম্পর্কে কোন প্রকার যাচাই-বাছাই না করেই যদি রোযা ভঙ্গের কোন কাজ করে, যেমন: পানি খায় এবং পরবর্তিতে বোঝা যায় যে সকাল হয়ে গিয়েছিল।
৪। সফরের মাধ্যমে যে সব রোযা বাতিল হয়।
৫। নারীদের হায়েয এবং নাফাসের কারণে যে সকল রোযা বাতিল হয়।
৬। ইচ্ছাকৃতভাবে যদি রোযার মাসের রোযা না রাখে, অথবা ইচ্ছা করে রোযা বাতিল করে, তাহলে তার জন্য ক্বাজা ও কাফ্ফারা দুইটায় ওয়াজিব হবে।
যে সকল ক্ষেএে প্রত্যেকটি রোযার জন ্য প্রতিদিন ফকিরকে পেট ভরে খেতে দিতে হবে:
১। যদি অসুস্তার কারণে রোযা রাখতে না পারে এবং এ অসুস্ততা পরের বছর কিংবা কয়েক বছর থাকে, তাহলে শেষ বছরের ক্বাজা রোযা রাখতে হবে এবং আগের বছর গুলোর প্রত্যেকটা রোযার প্রতিদিন ফকিরকেপেট ভরে খেতে দিতে হবে।
২। কেউ যদি বার্ধক্যের কারণে রোযা রাখতে না পারে, এবং রোযা রাখা তার জন্য ক্ষতিকর এবং রোযার মাসের পরও ঐ রোযার ক্বাযা রাখতে না পারে।
৩। এমন অসুখ থাকা যে বারে বারে তৃষ্ণার্ত হয় এবং রোযা রাখা তার জন্য ক্ষতিকর ও রোযার মাসের পরও ঐ রোযার ক্বাযা রাখতে না পাারে।
যে সকল ক্ষেত্রে রোযার ক্বাযা করতে হবে এবং প্রতি রোযার জন্য ফকিরকে খাবার দিতে হবে:
১। কোন কারণ বসত যেমন: সফরে রোযা রাখে নি এবং পরবর্তী রমযান মাস পর্যন্ত ইচ্ছিকৃতভাবে সে রোযাসমূহের ক্বাযা করে নি।
২। যখন কোন সমস্যা থাকে এবং তার ইচ্ছা এটা থাকে যে সমস্যা সমাধানের পর রোযা থাকবে, এবং সমস্যা সমাধান হওয়ার পর ক্বাযা রোযা রাখার পূর্বেই আবার যদি কোন সমস্যা দেখা দেয়; তাহলে অবশ্যই ক্বাযা করতে হবে এবং ফকিরকেও খাওয়াতে হবে।
৩। ক্বাযা রোযা রাখতে যদি অবহেলা করে এবং এর কারণে সময়ের স্বল্পতা দেখা দেয় ও কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়।
৪। যদি কারো এমন কোন অসুস্থতা থাকে যে, বারে বারে তৃষ্ণার্ত হয় এবং রোযা রাখা তার জন্য ক্ষতিকর হয় তাহলে ফকিরকে পেটভরে খাওয়ানো ছাড়াও ক্বাযা রোযা করতে হবে।
৫। যে রমনীর প্রসব নিকটে এবং রোযা রাখলে তার বাচ্চার ক্ষতি হবে ও সে নিজেও রোযা রাখতে অক্ষম হয়।
৬। যে রমনীর প্রসব নিকটে এবং রোযা রাখলে তার ক্ষতি হবে ও সে নিজেও রোযা রাখতে অক্ষম হয়; তাহলে ক্বাযা করতে হবে এবং প্রদিনের জন্য ফকিরকে পেটভরে খাওয়াতে হবে।
৭। যে রমনী বাচ্চাকে বুকের দুগ্ধ পান করায় এবং তার দুগ্ধ যদি কম থাকে ও রোযা রাখলে তার বাচ্চার ক্ষতি হবে।
৮। যে নারী শিশুকে বুকের দুগ্ধ পান করায় এবং তার দুগ্ধ যদি কম থাকে এবং রোযা রাখলে তার ক্ষতি হবে ও সে নিজেও রোযা রাখতে অক্ষম হয়; তাহলে ক্বাযা করতে হবে এবং প্রদিনের জন্য ফকিরকে পেটভরে খাওয়াতে হবে।
৯। অসুস্থতা ব্যতীত অন্য কোন সমস্যা যেমন: সফর করার কারণে রমযান মাসের রোযা রাখতে না পারে এবং ঐ সমস্যা পরবর্তী রমযান পর্যন্ত বহাল থাকে তাহলে অবশ্যই ক্বাযা করতে হবে এবং প্রদিনের জন্য ফকিরকে পেটভরে খাওয়াতে হবে।
রোযার ক্বাযা এবং কাফ্ফারার বিধান
১। সাথে সাথে ক্বাযা করা ওয়াজিব নয় কিন্তু পরবর্তী রমযান মাস আসার পূর্বেই ক্বাযা করতে হবে।
২। যদি কয়েকটি রমযান মাসের রোযা ক্বাযা হয়ে থাকে তাহলে যেটিই আগে রাখূক না কেন তাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু যদি কোন মাসের ১০ দিনের রোযা ক্বাযা থাকে এবং রোযার মাস আসতেও ১০ দিন বাকি থাকে তাহলে অবশ্যই প্রথমে ঐ ১০ দিনের রোযার ক্বাযা করতে হবে।
৩। কাফ্ফারা দিতে দেরী করা মোটেও উচিৎ নয় তবে তাৎক্ষনিকভাবে আদায় করাও ওয়াজিব নয়।
৪। যদি কারো উপর কাফ্ফারা ওয়াজিব হয় এবং তা দিতে কয়েক বছর দেরী করলেও কাফ্ফারার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে না।
৫। যদি কোন হারাম কাজের মাধ্যমে রোযা বাতিল করে যেমন: পাং বা হস্তমৈথুন; তার উপর কাফ্ফারায়ে জাম (অর্থাৎ সব কয়টি কাফ্ফারা) ওয়াজিব হবে। তবে যদি তার সাধ্য বহির্ভূত হয় তাহলে যেটা সম্ভব হবে সেটা দিতে হবে।
৬। যদি কেউ রমযান মাসের ক্বাযা রোযা রাখে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে দুপুরের পর তা ভঙ্গ করে তাহলে ১০ জন ফকিরকে পেটভরে খেতে দিতে হবে। তবে যদি না দিতে পারে তাহলে পর পর তিন দিন রোযা রাখতে হবে।
মুসাফিরের রোযা
যদি কোন রোযাদার যোহরের পর সফর করে তাহলে সে অবশ্যই ঐ রোযাটিকে পূর্ণ করবে অর্থাৎ সে ঐ রোযাটিকে ভাঙ্গতে পারবে না। তবে রোযাদার যদি যোহরের পূর্বে সফর করে যখন সে যে স্থান থেকে শহরের সীমানা দেখা যায় না বা আযান শোনা যায় না সে স্থানে পৌঁছাবে তখন সে তার রোযা ভাঙ্গতে পারে। আর সে যদি উল্লেখিত সীমানায় পৌঁছানোর পূর্বেই রোযা ভঙ্গ করে তাহলে তার উপর কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে।
মুসাফির সফর থেকে স্বীয় বাসস্থানে প্রতাবর্তনঃ
১। যোহরের পূর্বে ঃ মুসাফির যদি যোহরের পূর্বেই নিজের ওয়াতনে ফিরে আসে অথবা এমন কোন স্থানে পৌঁছায় যেখানে সে দশ দিন থাকতে চায় তাহলে এমতস্থায় যদি সে রোযা ভঙ্গকারী কোন কাজ কওে তাহলে সে ঐ দিনের রোযা অবশ্যই পূর্ণ করবে। আর যদি সে নিজ বাসস্থানে পৌঁছানোর র্পূবেই রোযা ভঙ্গকারী কোন কাজ করে তাহলে বাসস্থানের পৌঁছানোর পর ঐ দিনের রোযা তার উপর ওয়াজিব হবে না। ( পরে তাকে ঐ দিনের রোযা ক্বাযা আদায় করতে হবে)।

ই’তিকাফ (রমযান মাসের শেষ ১০ দিন ই’তিকাফের জন্য মসজিদে থাকা মুস্তাহাব। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) রমযান মাসের শেষ ১০ দশ দিন মসজিদে ই’তিকাফ পালন করতেন।)
ই’তিকাফের শর্তাবলী
১। যে ব্যক্তি ই’তিকাফে বসবে তাকে অবশ্যই বুদ্ধিমান ও সচেতন হতে হবে।
২। নিয়ত: আল্লাহর নৈকট্যলাভ এবং ইখলাসের সাথে মসজিদে থাকতে হবে।
৩। রোযা রাখতে হবে: যত দিন মসজিদে থাকবে অবশ্যই রোযা রাখতে হবে। সুতরাং যে রোযা রাখতে পারে না অথবা পারলেও রোযা না থাকে তাহলে তার ই’তিকাফ সঠিক হবে না।
৪। তিন দিনের কম হলে চলবে না: ই’তিকাফের সর্বনিম্ন হচ্ছে তিন দিন এবং সর্বোচ্চের কোন সীমানা নেই।
৫। এই মসজিদ সমূহের যে কোন একটিতে ই’তিকাফের জন্য বসতে হবে:
ক্স মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী, মসজিদে কুফা, মসজিদে বসরা এবং এই চারটি মসজিদ ব্যতীত শুধুমাত্র প্রতিটি শহরের জামে মসজিদে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের জন্য বসতে হবে। অন্যান্ন মসজিদে সঠিক হবে না।
৬। অভিভাবকের কাছ থেকে অনুমতি নেয়: যেমন: ই’তিকাফ যদি স্বামীর অধিারকে খর্ব করে তাহলে স্ত্রীকে স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। সন্তানরা ই’তিকাফে বসলে যদি পিতা-মাতার জন্য কষ্টের কারণ হয় তাহলে সন্তানকে পিতা-মাতা অনুমতি নিতে হবে।
৭। মসজিদে অবস্থান করা এবং মসজিদ থেকে বাহির না হওয়া।
ই’তিকাফের বিধি-বিধান
১। নিয়ত: ই’তিকাফের নিয়ত ফজরের আযানের সময় থেকে করতে হবে। সুতরাং যদি কেউ দেরিতে মসজিদে পৌঁছায় তাহলে সে ঐ দিন থেকে ই’তিকাফে বসতে পারবে না।
২। ই’তিকাফের জন্য রোযা রাখার প্রয়োজন নেই বরং রমযান মাসের রোযা, ক্বাযা রোযা এবং নাযরের রোযাও রাখতে পারে।
৩। মুস্তাহাব ই’তিকাফ ১ম ও ২য় দিনে পরিত্যাগ করা যায় কিন্তু দুই দিন পূর্ণ হয়ে গেলে তৃতীয় দিনের ই’তিকাফ ওয়াজিব হয়ে যায় এবং পরিত্যাগ করা যাবে না।
৪। যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসে তাহলে ই’তিকাফ বাতিল হয়ে যাবে। যদিও তার এ নিয়ম না জানা থাকে। তবে যদি বিশেষ প্রয়োজনের তাগিদে বের হয় তাহলে বাতিল হবে না। যেমন:
ক্স প্রস্রাব-পায়খানার জন্য।
ক্স জানাবাতের গোসলের জন্য।
ক্স সত্য সাক্ষি দেয়ার জন্য।
ক্স কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার জন্য।
ক্স জানাযার নামাজে অংশগ্রহণ করার জন্য।
ক্স কাউকে বিদায় দেওয়ার জন্য।
ক্স কাউকে সাদর সম্ভাসন জানানোর জন্য।
যদি প্রয়োজনের তাগিদে মসজিদ থেকে বাইরে আসে তাহলে নিকটতম পথকে বেছে নিতে হবে এবং প্রয়োজনের বেশী বাইরে থাকতে পারবে না। কোথাও বসতে পারবে না, ছায়া দিয়ে যেতে পারবে না এবং কোন ছায়ার নিচে বিশ্রামও নিতে পারবে না।
ই’তিকাফে যা করা হারাম
যে ব্যক্তি ই’তিকাফে বসেছে তাকে অবশ্যই এসকল কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে:
১। যৌন সংক্রান্ত বিষয়াদি থেকে দূরে থাকা যেমন: স্পর্শ করা, চুমু খাওয়া এবং সহবাস করা।
২। পুং বা হস্তমৈথুন।
৩। সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং ঘ্রাণ নেয়া থেকেও বিরত থাকা।
৪। কেনা-বেচা থেকে বিরত থাকা।
৫। ব্যাবসা-বানিজ্য থেকে বিরত থাকা যেমন: ভাড়া দেয়া ইত্যাদি।
৬। ঝগড়া বিবাদ থেকে বিরত থাকা। এমনকি নিজের শ্যেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য কোন ইসলামী বিষয় নিয়ে আলোচনা করাও অবৈধ।
চন্দ্র মাসের প্রথম তারিখ ৪ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়
প্রথম পদ্ধতি ঃ স্বয়ং প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি (বালেগ ) নিজেই যদি চাঁদ দেখে।
দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ এমন কিছু সংখ্যক ব্যক্তি যাদেও কথায় দৃঢ়বিশ্বাস জন্মে, যেমন- যদি তারা বলেন: আমরা চাঁদ দেখেছি। আর যেসব জিনিসের দ্বারা সুনিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয় সে সকল ক্ষেত্রেও ঠিক একই বিধান প্রযোজ্য হবে।
তৃতীয় পদ্ধতি: দু’জন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি যদি বলেন: আমরা রাতে চাঁদ দেখছ।
চতুর্থ পদ্ধতি: পহেলা শাবান থেকে ৩০ দিন গত হয়ে গেলে পহেলা রমযান প্রমাণিত হয়।

সমাপ্ত
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×