গত কিছুদিন ধরে ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক দলগুলার ইতিহাস নিয়ে কাজ করছি। কাজ করতে গিয়ে ধর্ম-ভিত্তিক রাজনৈতিক দল এর ব্যপারে কিছু দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। ব্লগারদের কেউ কেউএই ব্যাপারে আলোচনায় উৎসাহী মনে হওয়ায় এই ব্যপারটা শেয়ার করতে চাইছি।
বাংলাদেশের কথাই ধরি,ধরেন জামায়াতি ইসলামী নামক দলটি একক ভাবে শাসন ক্ষমতা লাভ করল। তাদের মটো হচ্ছে " আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই"। ধরেন তারা এই মটো বাসত্দবায়ন করলো। এখন ঘটনাটা কি দাড়ালো? যারা মুসলিম তাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর আইনে তো কোন সমস্যা নাই কিন্তু অমুসলিমদের কি হবে? তাদের কাছে তো আল্লাহর কোন অসত্দিত্ব নাই(যদিও তারা অন্য প্রভুতে বিশ্বাস করে)। তাদের দৃষ্টিতে কুরআন তো বিধমর্ীদের একটা ধর্মগ্রন্থ মাত্র যেটাতে তারা বিশ্বাস স্থাপন করতে যাবে কোন দুঃখে! তারা তো মুসলিম না যে তারা কুরআন-সুন্নার আইন মানতে বাধ্য। তাদের ধর্মে ও নিশ্চয় আইন- অনুশাসন আছে ; তারা তার বাইরে অন্যকিছুতে যাবে কেন? তাহলে তাদেরকে জামায়াতি ইসলামী নামক দলটি আল্লাহর আইন মানাবে কি করে?নিশ্চয় জোর প্রয়োগ কবে নয়।
একটা রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে সমান নিরাপত্তা দাবী করে। এখন যদি একটা ধর্ম ভিত্তিক দল যদি সরকার হিসেবে অবস্থান করে তবে অন্য ধর্মাবলম্বীদের( তা তারা সংখ্যাগুরু বা লঘু যা হোক না কেন) নিরাপত্তা সংকটাপন্ন হবার আশংকা অমূলক নয়। পূর্ব পাকিসত্দানের অধিকাংশ বাঙালীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় এটায় ভেবেছিলো যে তাদের এই কষ্টের বিনিময়ে আগামীদিনের নাগরিকরা হয়তো একটা বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থার অংশীদার হিসেবে বসবাস করতে পারবে। এখন বলেন দেখি কোন একটা দেশের কোন একটা গোষ্ঠীর( ছোট কিংবা বড়) কি এই অধিকার থাকতে পারে যাতে করে আরেকটা গোষ্ঠীর নিরাপত্তা বিঘি্নত হতে পারে বা সমাজে বৈষম্য সৃষ্টির আশংকা জাগে। ধর্ম ভিত্তিক রাজনেতিক দল কি এই ধারার অনুগামী নয়?
আরেকটা ব্যাপারও ঠিক স্পষ্ট হচ্ছে না। কোন একজন ব্যক্তি বা কোন একটা গোষ্ঠীর একটা ধর্ম প্রচারে শাসন ক্ষমতার কি এমন আনুকূল্য প্রয়োজন হতে পারে বিশেষত য়েখানে বর্তমান বিশ্বে বিরাজমান ধর্মগুলি মোটামুটি সু-প্রতিষ্ঠিত। যেমন বাংলাদেশের মত একটা দেশে যেখানে অধিকাংশ লোকই মুসলিম( এবং তাদের সনত্দান সনত্দতিরা যেখানে জন্মসূত্রে মুসলিম) সেখানে ইসলামের প্রচার-প্রসার বলতে কি বুঝি? নিশ্চয় লোকজ কে প্রাত্যাহিক জীবনে আরো বেশী করে ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে আগ্রহী করে তোলা। এটা করতে তো রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়ৌজন নাই।একটা সামাজিক আন্দোলোন এক্ষেত্রে অধিকতর ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। তাছাড়া শক্তি দেখিয়ে ইসলাম কায়েম করানো কি ইসলাম নিজেই অনুমোদন করে?( জানামতে অন্য কোন ধর্ম ও অনুমোদন করে না)
আমি তো আমার টা বললাম,আপনারা আপনাদের মতটা জানাবেন দয়া করে।আমি একটু অস্বস্তি বোধ করছি এই ব্যাপার গুলা দেখে ; আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা হয়তো আমাকে সাহায্য করতেদ পারে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



