somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন ক্রিকেট বাদ দিয়ে আমরা কুতকুত খেলি

০৯ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলা থেকে একটা জিনিস ভাবতাম। কোন খেলাতেই আমি খুব ভালো না কেন? সব খেলাতেই দেখি অল্প ভালো খেলি। পরে দেখলাম আমার দেশটাই কোন খেলাতে ভালো না, সেখানে আমি ভালো হব কেমনে?ক্রিকেট নিয়ে গত ১২ বছর আমরা বহুত লাফালাফি করছি। এইচ,এস,সি ম্যাথ ২য় পার্ট পরীক্ষার আগের রাতে বাংলাদেশ পাকিস্তানরে হারায় দিলো, খুশীতে সারারাত দৌড়াদৌড়ি করলাম। ছিলাম ক্যাডেট কলেজে, কেউ মানাও করে নাই(বাপ-মা ছাড়া এই দুনিয়াই কেউ সঠিক শাসন করেনা)।পরেরদিন পরীক্ষা দিতে গিয়া চেয়ার ছাইড়া দৌড় দেয়ার অবস্হা। মনে আছে পরে সবাই মুখ কালো করে সিড়িতে বইসা ছিলাম। তখনি ঠিক করছিলাম ক্রিকেট নিয়ে ফালাফালি বাদ। কিন্তু কথাগুলা সবসময় মাথায় থাকতোনা। ক্রিকেটে একটু একটু আশার আলো দেখতাম আর ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো আমরা লাফ দিতাম। এখন মনে হয়তাছে হুদাই। বাংলাদেশের ক্রিকেটে আসলে কোন ফিউচার নাই। অনেকের কাছে মনে হতে পারে দেশের অনেক কিছু হয়ে গেছে এই ক্রিকেট দিয়ে, কিন্তু আমার কাছে ফলাফল শূণ্য। দুনিয়াতে সিরিয়সলি ক্রিকেট খেলে মাত্র কয়েকটা দেশ, তার মধ্যে আমরা সসম্মানে লাস্ট। র‌্যাংকিংএ যারা আমাদের পরে তারা পুরাপুরি শখের বশে খেলে, পুরা দেশে হয়তো আপনি ৫টা টিম বানাতে পারবেন। আর আমাদের দেশে হাজার হাজার ছেলেপুলে ক্রিকেট খেলতেছে, ক্রিকেটের পিছনেও দেশের লাখ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। লাভটা কি হচ্ছে? সারাদিনের একটা খেলা হুদাই বিলাসিতার জন্য খেলা ব্রিটিশদের মানায়, আমাদের না। আমরা চান্স পেলেই না পারতে ক্রিকেট খেলে এইসব দেশের কাছে হারতেছি। ভালো খেলে এরকম ২/১টা টিমকে আমরাও ভুলে হয়তো হারাই, কিন্তু সেটাতো ঐ পুচকে টিমগুলাও ভুলে হারায় দেয়। এজন্য ওদের ক্রিকেটের পিছনে প্রচুর খরচ ও করতে হচ্ছেনা। এখন আসলে আমাদের ক্রিকেট থেকে মনযোগ সরানো দরকার। ১২ বছর অনেক সময়, এত উন্মাদনা থাকার পরেও যে টিমের ১২ বছরেও হয়নায়, তাদের আগামী ১২ বছরেও কিছু হবেনা। আর সিরিয়াসলি না খেললেও ক্রিকেট বিশ্বে আমাদের অবস্হান এরকমি থাকবে। ভালোদের সাথে মাঝেমধ্যে একটু ফাইট দিয়ে হারবো(বাকি টাইমে গোহারা), খারাপদের(আমাদের মত বাকিগুলা) সাথে ফাইট দিয়ে জিতব, হারব। এদের মধ্যে কেউ ক্রিকেটে সিরিযাস হয়ে গেলে ওরা আমাদের ডেকে ডেকে হারাবে।

কিন্তু খেলাধুলা কিছু একটাতো সিরিয়াসলি করা দরকার। ফুটবল খেলতে পারলে খুবি ভালো হতো, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, প্লাস বিদেশী লীগে খেলে খেলোয়াড়রা প্রচুর টাকাও দেশে আনতে পারতো। কিন্তু বাকিরা এতো এগিয়ে গেছে যে খুব একটা ভরসা পাওয়া যাচ্ছেনা আমরা কতটুকু করতে পারবে। আমরা বরং এমন একটা খেলা সিরিয়াসলি খেলা শুরু করি যেটা ক্রিকেট থেকেও কম দেশ খেলে। এরকম খেলার মধ্যে আমি লুডু খেলাতে আমাদের অনেক সম্ভাবনা দেখতেছি। আমাদের মতো অলস লোকজনের জন্য পারফেক্ট খেলা। কষ্টও নাই, শুয়ে শুয়ে খেলা যাবে, খরচও প্রায় নাই। একটু দৌড়াদৌড়ি করতে চাইলে কুতকুত। ডাংগুলিও খেলা যেতে পারে, এতে দেশে যত ক্রিকেটার তৈরী হয়ছে তাদের একটা হিল্লে হবে। কিন্তু ক্রিকেট আর না, ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে খেলা দেখার পর দেখব আমার দেশ হারতেছে অত টাইম আমার নাই। দেশেরও এতো টাইম আর টাকা থাকা উচিত না যে, বিলাসিতার জন্য একটা ক্রিকেট টিম বানানো হবে, বড় বড় স্টেডিয়াম বানানো হবে, প্লেয়ারদের অনেক বেতন দিয়ে ওদের চর্বি মোটা করা হবে আর এই হারু টিমের খেলা দেখা জন্য লোকজন সারাদিন সব কাজ বাদ দিয়ে বইসা থাকবে। ক্রিকেট পৃথিবীতে এত কম দেশ খেলে যে, এইটা খেইলা বিশ্বে আমাদের কোন মান সম্মানও বাড়তেছেনা। এরচেয়ে ফুটবলে আরেকটু চেষ্টা করলে সবার কাছে মান সম্মানটা বাড়তো।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১০:৩৭
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×