
'মুসলমানদের আগমনের পূর্বে বাংলা ভাষার বাস ছিল বাঙলার গ্রামাঞ্চলে কৃষকের কুঁড়েঘরে, ঘোমটা পরা দরিদ্র নারীদের সাথে। ব্রাহ্মণ পন্ডিতরা বাংলাকে নিম্নশ্রেনীর মানুষের ভাষা মনে করতেন এবং তাদের জীবনে সেটিকে স্থান দিতেন না। ‘ভদ্রলোকদের’ কাছেও এটি গ্রহণযোগ্য ছিল না। বরং, বাংলা ছিল তাদের কাছে ঘৃণা, অশ্রদ্ধা এবং উদাসীনতা প্রকাশের বস্তু।
ভারতে ইসলামের আগমনের পর ফার্সি ভাষা ও সাহিত্যের ছোঁয়ায় মূলত বাংলা একটি ভাষার (পূর্ণাঙ্গ) রূপ লাভ করে। মুসলমানদের বাঙলা বিজয়ই বাংলা ভাষাকে গ্রামের কৃষকের কুঁড়েঘর থেকে বের করে এনে এটিকে সাহিত্যের মহাসড়কে উঠিয়েছে।
বাংলা ভাষা তার সাহিত্যিক প্রকাশ লাভ করে এই সময়ে। যেমন ১২শ শতাব্দীতে পদাবলী কীর্তন, চরিত্র লীলা অমৃত এবং রামায়ন ও মহাভারতের বাংলা অনুবাদের মধ্য দিয়ে।
এই দেশে বাংলা ভাষা বহু আগে থেকেই ছিল, এমনকি (গৌতম) বুদ্ধ’র সময়েও ছিল। কিন্তু এটা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, বাংলা সাহিত্য এক দিক থেকে মুসলমানদের সৃষ্টি।’
রেফারেন্সঃ
১. দীনেশ চন্দ্র সেন, বঙ্গভাষার উপর মুসলমানের প্রভাব’, ড. হুমায়ুন আজাদ সংকলিত, বাংলা ভাষা: বাংলা ভাষা বিষয়ক প্রবন্ধ সংকলন, ভলিউম ২য়, দ্বিতীয় সংস্করণ, আগামী প্রকাশনী, ঢাকা, ২০০১, পৃষ্ঠা ৫৯৬।
২. প্রভাতকুমার বন্দপাধ্যায়, রামমোহন ও তৎকালীণ সমাজ ও সাহিত্য, ১৯৬৫ সালে কলকাতা ইউনিভার্সিটিতে দেয়া ‘বিদ্যাসাগর লেকচার’, বিশ্বভারতী, পুনঃমুদ্রণ, ১৯৮৭, কলকাতা, ভারত, পৃষ্ঠা ৪।
৩. প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫৯৮।
৪. নুরুল কবির, বাংলা ভাগে ভাষা ও সাহিত্যের রাজনীতি পর্ব-১
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


