somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসা

০৩ রা আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৫:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তোমরা কেউ কি কখন ও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছ? এই যে আমি কিছুক্ষন আগে বাথরুম আটকে পরেছিলাম, প্রায় ৩৫-৪০ মিনিট এর মত ছিলাম। ক্লাস শেষকরে রুম এ ফিরে একটা ঘুম দিয়ে গোসল করতে গিয়েছিলাম। গোসল শেষে বের হওয়ার সময় দেখি দরজা খুলছেনা। অনেক চেষ্টা করলাম কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। এমনিতে রোজা রেখে শেষ বিকালএ খুবই ক্লান্ত বোধ করছি তারপর এই অবস্থা। নিজেকে খুব ক্লান্ত মনে হয়েছিল। বারবার মনে হচ্ছিলো আজকে যদি আর বের হতে না পারি। আবার খুব বিরক্তিও লাগছিল। রোজাদার আকজন লোকের সাথে আল্লাহ কেন এমন করবে।

রুমম্যাট (কক্ষ সঙ্গী) কোরিয়ান, ও কখন আসবে তার ও ঠিক নেই। ওর আসার গড় সময় রাত ৯-১০ টা। কখনও বা রাত ১২-১.০০ টা। আর যদি ড্রিংস করে আসে তবে রাত ২-৪ টা। আবার নাও আসতে পারে। অনেক ভেবেচিন্তে দরজা ভাঙ্গার মনস্থির কড়লাম। প্রায় মিনিট ১০ চেষ্টা করেও পারলাম তো নাই বরং হাত ছূলে গেলো। মনে হতে লাগলো আজবুজি মারাই যাব। অবশেষে আরও কিছুক্ষন অপেক্ষা করলাম। দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এমনিতে টয়লেট ও বাথরুম আলাদা হওয়ায় বাথরুম এর সাইজ খুবই ছোট, তাছারা অক্সিজেন আসার মত বিন্দুমাত্র ফাক ও নেই। মনে হচ্ছিল আস্তে আস্তে মরে যাওয়ার চেয়ে গুলি (শুট) করে মরে যাওয়া ওনেক ভাল। এতে কষ্টও কম। এরপর সিদ্দান্ত টা আসলেই সময় উপযোগী ছিল।

আমার ডরম টা (Dorm/Hall/Hostel) নূতন হওয়ায়, অনেকটা আধুনিক ও বটে। এনেক টা শব্দ নিরোধক। সব দরজা জানালা বন্ধ করে দিলে মোটামুটি বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা মনে হয়। শীতের দিনে এমনিতেই সবকিছু বন্ধ থাকে, কিন্তু গরম এর সিজন বলে খুলে রেখেছিলাম সতেজ বাতাস আসা-যাওয়ার জন্য।

হঠাত মনের অগোচরে হেল্প, হেল্প বলে চিতকার করলাম। এটা যদি ভেবেচিন্তে বলি তবে বাহির থেকে শোনার সম্ভবনা সর্বচ্চো ১০%। দরজা ধাক্কাচ্ছি আর হেল্প, হেল্প বলে চিতকার করলাম। ভাগ্য ভাল পাশের রুমএর কোরিয়ান রুমম্যাট ঘুমাচ্ছিল, সে শুনতে পেল। সে জানত যে এই রুম এ একজন বিদেশি থাকে, এবং আগে পরে দেখা হলে হাই-হ্যালো হয়েছে এর বেশি কিছু না। তো সে আমার গলার শব্দ শুনে বুজতে পারল যে আমি সাহায্য চাচ্ছি। সে আমার রুম এর সামনে এসে জিগ্যেস করল কি হয়েছে। ভাগ্য আরো ভাল যে সে কিছুটা ইংরেজী বলতে পারে। সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি পৃথিবীর অন্যতম প্রথম ৫০ টা ইউনিভার্সিটি’র মধ্যে একটা, তাই অপেক্ষাকৃত মেধাবী ছাত্রছাত্রিরা এখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। এমনিতে যেখানে কোরিয়ান রা নিজেদের ভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় তেমন একটা জোর দেয়না। তবুও এখানকার স্টুডেন্টরা ইংলিশ ভাষা টা আকটু ভালই জানে। যা হোক তাকে বোজালাম যে আমি বাথরুম এ আটকা পড়েছি। সে সাথেসাথে অফিস এ ফোন দিয়ে লোক নিয়ে আসল। লোকজন এসে তাদের মাস্টার চাবি দিয়ে রুম খুলে আরো ৫ মিনিট ধস্তাধস্তি করে অবশেষে বাথরুমের দরজা খুলে আমাকে বেরকরে নিয়ে আসল।

আজ যদি আমি বাথরুম এর মধ্যে অক্সিজেন অথবা খাবারের (রোজা ছিলাম) অভাবে মারা যেতাম তাহলে রিপোর্ট/ প্রতিবেদন আসত আমি হয়ত আত্মহত্যা করেছি। কারন এ দেশে স্টুডেন্ট দের মধ্যে আত্মহত্যা’র প্রবনতা একটু বেশি। এর মধ্যে ৯৫% ই পড়াশুনা’র চাপের কারন এ। যদিও ১৫ দিন হোল আমার পরীক্ষা শেষ হলো, রেজাল্ট মোটামুটি ভাল হয়েছে কিন্তু যে লোকগুলো এসে আমাকে ঊদ্ধার করলো তাদেরও হয়ত জানার উপায় ছিল না যে আমি আটকা পরেছিলাম। তারাও হয়ত ধরে নিত আমি অন্য সব স্টুডেন্টদের মত আত্মহত্যা করেছি। সবাই হয়ত এই কথাটাই বিশ্বাস করত। আমার পরিচিত জনরা আমাকে নিয়ে কি ভাবত????? আমার এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যে আমি এরকম একটা বিধংসী উপায় বেছে নিব।

মা কে বলিনি তিনি অযথা এগুলো নিয়ে টেনশন করবে বলে। এমনিতে দূরে থাকি বলে এনেক টেনশন করে, আর এগুলো বলে আরও টেনশন দিতে চাইনি।

পরিশেষে আল্লাহর কাছে অনেক শুকুরিয়া আদায় করছি যে সে হয়ত আমাকে রোজা রাখার বধৈলতে আমাকে এরকম একটা পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেছে।
১৪টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×