somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাইক্রোম্যানেজমেন্ট পরিহার করুন

১৪ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ৮:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনি একটি কোম্পানির বিক্রয় ব্যবস্থাপক। আপনার উপর কোম্পানির অনেক গুরু দায়িত্ব। যেমন ফোরকাস্টিং করা, লক্ষ্য স্থির করা, লক্ষ্য অর্জনে কর্মপরিকল্পনা সেট করা, আপনার বিক্রয়কর্মীর টার্গেট প্রদান করা, তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা। ডিসিশন মেক করা, সেলস মিটিং করা, ডিসিআর (Daily Call Report) চেক করা, মার্চেন্ডাইজিং করা ইত্যাদি। পজিশনাল জরুরি কাজ ছেড়ে আপনি মেতে আছেন মাইক্রোম্যানেজমেন্ট নিয়ে।
আপনি সিসিটিভিতে দেখছেন কোনো সেলস পারসন তার চেয়ার ছেড়ে আরেকজনের সাথে গল্প করছে কিনা। আপনি দেখছেন বদিউদ্দিন এখন কী করছে। হানিফের সামনে মতিন সাহেব আর কতক্ষণ বসে থাকবেন। আপনি সিসিটিভিতে অবলোকন করছেন। আবার ফোন করছেন হানিফ সাহেবকে- ‘মতিন সাহেবকে দেখছি না। মতিন সাহেব কি আপনার ওখানে?’ এভাবেই অধস্তনদের কড়া নজরদারীতে রেখেছেন। আপনি চেক করছেন লাঞ্চের মেনু নিয়ে। বাজারের হিসেব নিচ্ছেন। ডাঁটা শাক কয় টাকা নিয়েছে। কেজিতে কিনেছে নাকি আঁটি ধরে। আপনি সেলস পারসনের লম্বা হওয়া পেন্টের অল্টারিং-এর জন্য টেইলরকে ফোন দিচ্ছেন। ফেসবুকে চ্যাট কেউ করছে কিনা মাঝেমাঝেই খোঁজ নিচ্ছেন। ট্রেনিং সেশনের ব্রেকে কেউ ২টি বিস্কিটের জায়গায় ৩টি নিচ্ছে কিনা তদারকি করছেন। অথবা কাউকে দায়িত্ব দিয়েছেন তদারিকির জন্য। আর ফিডব্যাক নিচ্ছেন। কেউ গুগলে ব্রাউজিং করছে কিনা নিজস্ব লোক লাগিয়েছেন তদারকির জন্য। মাঝেমাঝে সে এসে আপনাকে তথ্য দিচ্ছে। আপনি আবার অ্যাকশনে নামছেন। কাউকে লেটার ড্রাফট করতে দিয়ে নিজেই তার চেয়ারের পাশে বসে প্রতি লাইনে লাইনে ডিরেকশন দিচ্ছেন। ভুল করছে আর আপনি ধরছেন। দুজন মিলেই লেটার লিখছেন। এভাবেই আপনি প্রতিনিয়ত ইন্সট্রাকশন দিয়ে থাকেন। এসবই হচ্ছে মাইক্রোম্যানেজমেন্ট। আর আপনি মাইক্রোম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
আপনি কি জানেন আপনি কোম্পানির ভালোর চে’ মন্দ করছেন? ধ্বংস ডেকে আনছেন কর্পোরেট সংস্কৃতির। আপনি কাজের পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছেন। আপনি আপনার মূল দায়িত্ব ভুলে গেছেন। আপনি নিজ ও কোম্পানির সময় নষ্ট করে চলেছেন।
মাইক্রোম্যানেজমেন্ট হচ্ছে এমন একটি ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি যেখানে ম্যানেজার তার অধস্তন কোনো কর্মীর কাজ খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষন ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাইক্রোম্যানেজমেন্ট একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর হয়ে থাকে। তবে খুব ছোট প্রতিষ্ঠানে মাইক্রোম্যানেজমেন্ট থেকে উপকারও পাওয়া যায়।

একজন মাইক্রোম্যানেজার হিসেবে আপনি আপনার টিমের উপর ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন। সেখানে সিস্টেম কাজ করেনা। কেননা সিস্টেমে সময় না দিয়ে আপনি মাইক্রোম্যানেজমেন্টে সময় দিচ্ছেন। বাংলা কথায় আপনি পিছে লাগিয়ে আছেন। নেতৃত্ব দিতে হয় সামনে থেকে। পিছন থেকে নয়।
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কাজে ফালতু সময় না দিয়ে আপনি আপনার অবজেক্টিভ ও অ্যাকশন প্ল্যানে মনোযোগ দিন। মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি রয়েছে। সেটি ফলো করুন। এমবিও (MBO- Management By Objective) ফলো করুন। প্রতি মাসের গোল কতটুকু অ্যাচিভ হলো সেটা দেখুন। আপনার অধস্তনদেরকে এভাবে মনিটর করুন। একাউন্টেবল করুন। সিএনজিতে গেল নাকি বাসে যেয়ে সিএনজির বিল করলো এটার পিছনেই পড়ে থাকলে আপনি কখনোই ভালো ব্যাবস্থাপকের ভূলিকা পালন করছেননা। আপনি সময় ওয়েস্ট করছেন। আপনি নির্ভর করবেন সিস্টেমের উপর। চেকলিস্টের উপর। আপনার নির্ভরতা থাকা উচিৎ ডেমিং সাইকেল অর্থাৎ প্ল্যান-ডু-চেক-অ্যাক্ট চক্রের উপর। আপনার সময় বাঁচবে।

আসগর সাহেব একটি কোম্পানির মালিক। তিনি তার এক ব্যবস্থাপকের রুমে গেলে তাকে নিউজ পেপার পড়তে দেখেন। পরের দুবারও এমনই ঘটনা ঘটে। তিনি সেই ব্যবস্থাপককে চাকুরিচ্যুত করেন। তিনি তার বন্ধু আলাউদ্দিন সাহেবকে ঘটনাটি জানান। আলাউদ্দিন সাহেবও উক্ত ব্যবস্থাপককে চিনতেন। তিনি উক্ত ব্যবস্থাপককে ডাকলেন এবং চাকুরি দিলেন। একদিন এটি জানার পর আসগর সাহেব বন্ধু মালিককে কারণ জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেন- আমি বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখি। যে পত্রিকাপাঠের সময় পেতে পারে সে অবশ্যই নিজ কাজ শেষ করেই তা পারে। সে অবশ্যই নিজ কাজ ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে পারদর্শী। তাই আমি তাকে চাকুরি দেই। প্রতিমাসেই সে তার অবজেক্টিভ ফুলফিল করে। ─ এখানে আলাউদ্দিন সাহেব এমবিও (MBO- Management By Objective) ফলো করছেন।
আপনার অফিসে যে অফিস এসিটেন্ট আছে তাকে গাইড দিন। অতঃপর তার কাজে স্বাধীনতা দিন। তার মেধার বিকাশ করতে দিন। মাথা খাটানোর সুযোগ দিন। জুনিয়র কলিগদের ম্যাক্রো গাইড দিন। মাইক্রো লেভেলে গাইড করলে উক্ত জুনিয়র কলিগের মেধাবিকাশকে আপনি বাধাগ্রস্ত করলেন।

কোনো একটি মামুলি ভুলের কারণে আপনি সরাসরি এক অফিস এসিট্যান্টকে লোয়ার পজিশনের কাজ দিলেন অথবা টারমিনেট করলেন। যদিও সেই কর্মচারীর উপরস্থ সুপারভাইজার বা দায়িত্বশীল আছে। আপনি দায়িত্বশীলের হাতে বিষয়টি ছেড়ে না দিয়ে বা তাকে না জানিয়েই সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেন। এখানে আপনি উক্ত দায়িত্বশীলের কাজ নিজেই সারলেন। এই ধরণের মাইক্রোম্যানেজমেন্ট কোনো সিস্টেমকে দাঁড়াতে দেয়না।
মাইক্রোম্যানেজমেন্টের কারণে আস্থা একেবারে অনাস্থায় পরিণত হয়। ট্রাস্ট-এর অবশিষ্ট থাকেনা। পরনির্ভরশীলতার জন্ম নেয়। অধস্তন পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে। সেও কাজের স্বাধীনতা পায়না। ডিমোটিভেটেড হয়ে পড়ে। ফলে মেধাবী কর্মকর্তারা জব সুইচ করে। ক্রিয়েটিভ পারসন চাকুরি ছেড়ে দেয়। ফলে একজন মাইক্রোম্যানেজার নিজের টাইম কিল করার সাথে সাথে কোম্পানির ইমেজকেও ধীরেধীরে কিল করেন।* ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ৮:০২
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একাত্তরের আগের আর পরের জামাত এখনও এক

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ০২ রা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮


গোলাম পরওয়ার বলেছে একাত্তরের জামাত আর বর্তমান জামাত এক নয়। অথচ এক। স্বাধীনতার আগের জামাত আর পরের জামাত একই রকম।
একাত্তরের আগে জামাত পাকিস্তানের গো% চাটতো এখনও তাই চাটে। তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সোনার ধানে নোনা জল

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:১২



হঠাৎ একটা তীক্ষ্ণ শব্দে রেদোয়ানের ঘুম ভাঙল। না, কোনো স্বপ্ন নয়; মেঘের ডাক আর টিনের চালে বৃষ্টির উন্মত্ত তান্ডব। বিছানা ছেড়ে দরজায় এসে দাঁড়াতেই এক ঝলক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×