somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সানবীর খাঁন অরন্য রাইডার
আঁচলের ঘ্রাণে বিমোহিত হতে মনে প্রেম থাকা লাগে। চুলের গন্ধ নিতে দুহাত বাড়িয়ে দেয়া লাগে। হাহাকার থাকা লাগে। দুনিয়া ছারখার হওয়া লাগে। সবাই আত্মা স্পর্শ করতে পারে না।আমার সমস্ত হাহাকার ছারখারে তুমি মিশে আছো।

প্রেমপত্র-৫৯

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উদাস নয়না হরিনী,
আমি জানিনা কোন খোলা চিঠির সম্বোধন এরকম হয় কিনা।কিন্তু আমার তোমাকে একেক সময় একেক নামে ডাকতে ইচ্ছে করে,মনে হয় কেউ জেনে না যাক আমি কাকে লিখছি এসব। কারণ যখন এই চিঠি শেষ হবে তুমি পড়লে বুঝবে এটা শুধু তোমার জন্য ছিল।
আমি তোমাকে চিনতাম না,জানতাম না একদম হঠ্যাৎ ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর বারান্দায় বসে কালো আকাশ দেখতে দেখতে মশার কামড় খেয়ে আমার মনে হয়নি আমি এত কথা লিখব তোমায় নিয়ে। আমার তখন হেলাল হাফিজের কবিতার মতন অবস্থা,ভাংচুর আর তোলপাড় নিয়ে আমি টলমল। আমি এখনো ভাল নেই তেমন,আমার হৃদয়টা জ্বলে গেছে,আমার সবচে প্রিয় অংশটুকু আমি হারিয়ে ফেলেছি, সাথে নিজেকেও তোমাতেই।তুমি যেই ছেলেটিকে কনফিডেন্টলি সকাল দুপুর রাত মাথা ভেঝে তোমার জন্য বোরিং পত্র লেখতে দেখেছো অথবা বই পড়ার গল্প,একটা নিজের পৃথিবীর গল্প,গভীর রাতে রাস্তায় একদিন অন্তত একদিন এককাপ চা আর কোন এক এডভেঞ্চারের যাওয়ার গল্প আর সেসব বস্তাপচা স্বপ্নের কথা ইনবক্সে লিখে লিখে জমাই--ওইটা আমিই। তোমার ছবির দিকে তাকিয়ে দু চার লাইন লিখতে গিয়ে ভুলভাল লিখে ফেলে যেই ছেলেটা ওটাই আমিই।ভাল ভাল জায়গায় ভ্রমন শেষে একলা একা তুমিহীনতার কষ্ট নিয়ে হৃদয়হতে যে টপটপ রক্ত ঝড়ে যেই ছেলেটার ওটাই আমি,অনেক রূপ দেখে ফেলেছো আমার, এই কারণে হয়ত তুমি এত কাছের কেউ হয়েছ।আর কাউকে আমি পরোয়াই করি না।
যদি আমি কখনও ভেবে থাকি একটা মানুষের সাথে সময় কাটানোতে আমার সব ঠিক হয়ে যাবে,তুমি সেই একমাত্র।এটা প্রেমেরচেও বেশি কিছু হয়ত, নির্দ্বিধায় আমি আর কাকেই বা এমনভাবে ভালবাসি বলতে পারি?
আমি ভালবাসি তুমি আমাকে আমার মত বেসো। অনেক তাজা গোলাপের ঘ্রাণের মত সম্পর্কটা। আমি তোমাকে স্বপ্নের কথা বলি আমাকে,সেই স্বপ্ন যেটা আমি জেগে জেগে দেখি,সেটা তুমি এছাড়া তো এই বালক মরেই যেত! মাঝে মাঝে প্রচন্ড কষ্ট হয় জানো! যখন দেখি,তুমি চুপ করে থাক।
আর তুমিহীনতার কষ্ট।অক্সিজেন সল্পতার কষ্ট,ভিটামিনের অভাবের কষ্ট।
পাগলের কাণ্ডকারখানা বুঝলে।যদিও কিসব অগোছালো ভুলভাল লিখি।তবু তোমার সংস্পর্শে এসে আমার অগোছালো শব্দেরা যে ছন্দ পেয়েছে,তা আর তুমিহীনতা মানতে চাচ্ছে না। আচ্ছা তুমি কি বিরক্ত হচ্ছো?হচ্ছো না।এত কথা বলছি তার জন্য তুমি কখনোই বিরক্ত হবে না,তবে হলে হতে পারো অগোছালো কথার জন্য! সেই তখন থেকে কিসব বলে যাচ্ছি! অবশ্য তাও বিরক্ত হওয়ার চান্স নেই,কারন তুমি জানোই আমি তোমার জন্যে বদ্ধপাগল হয়ে গেছি।আর এর জন্যই তোমাকে মনের কথা বলে অনেকবেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি,কারন আমাদের মধ্যে কোন ফর্মালিটির ব্যাপার নেই।আমার কি মনে হয় জানো তোমার কাছে আমার লেখা কিছু চিঠি পোষ্ট করে দি,পরে মনে হয় হায় হায় আমিতো ঠিকানা জানি না কিন্তু জানো মাঝে মাঝে পোষ্টম্যান কাকা কলিংবেল বাজলে,আমার মনে হয় আমি চিঠিগুলো তার হাতে দিয়ে দি যার প্রাপক হবে তুমি আমার প্রিয়তমা আর ঠিকানা এক হৃদয়!
কষ্ট হলে মাঝে মাঝে আকাশ দেখি, খুব বিশ্রী একটা অভ্যাস।ঘন্টার পর ঘন্টা আছে আকাশ দেখে কাটাই।বৃষ্টি দেখলে আমার মরে যেতে ইচ্ছে করে আনন্দে,এবং আমি চাই সেসময় তুমি আমার পাশে থাক আমরা দুজন হাত ধরে ভিজি।তখন সব থেমে যাবে,যেভাবে একদিন হুট করে তোমার জন্য দুলাইন লিখে তোমার ভেতর বাহির সব থামিয়ে দিতে চাই ঠিক সেভাবে।মনে আছে লাইনগুলো তোমার! আমি এতবার পড়েছি এতবার বলেছি যে এটা তোমার হয়তো কণ্ঠস্থ হয়ে গেছে
"আঁচলের ঘ্রাণে বিমোহিত হতে মনে প্রেম থাকা লাগে। চুলের গন্ধ নিতে দুহাত বাড়িয়ে দেয়া লাগে। হাহাকার থাকা লাগে। দুনিয়া ছারখার হওয়া লাগে। সবাই আত্মা স্পর্শ করতে পারে না।আত্মা স্পর্শ করার পরে জগত ভয়ংকর মেঘলা লাগে। তখন আর আলো দেখতে ইচ্ছে হয় না। অন্ধকারেই ডুবে থাকতে ইচ্ছে হয়।আমার সমস্ত হাহাকার ছারখারে তুমি মিশে আছো"
বলবো না তোমায় দেখে ক্রাশ খেয়েছি।বলবো না তোমার জন্য মরতে পারি।তোমায় অন্য কেউ দেখলে বা ভাল বললে আমার খারাপ লাগে না ওটাও বলব না,কারন আমি সাধু পুরুষ নই।
শুধু বলতে চাই, তোমার কথা ভাবলে আমার বুকের বাম পাশে থাকা হার্টের পালস টা অসম্ভব রকম বেড়ে যায়। কেমন জানি একটা চিনচিনে ব্যাথার অনুভূতি হয়।আচ্ছা বলতে পারবে এ ব্যাথা সুখের নাকি দুঃখের?
অনেক কিছু বলার ছিল তোমাকে,অনেক কিছু বলার আছে তোমাকে।তোমার অনেক কিছু শোনার আছে আমার,তোমায় অনেক কিছু বলার আছে আমার!আমি অপেক্ষা করছি একদিন মাঝ রাস্তায় যেদিন বৃষ্টি ঝড়বে সেদিন সব কিছু থেমে যাবে সেদিন চিৎকার করে বলে দিব মায়াময়ী তোমায় খুব ভালবাসি গো।প্লিজ আমায় একলা করে যেওনাগো।
ইতি
সেই তোমায় নিত্য নতুন শাড়ী পড়ার জন্য বায়না ধরা ফালতু ছেলেটা।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:৪৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×