somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গার্মেন্টস

২০ শে জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাজারে নতুন ক্রেজ শুরু হয়েছে। গার্মেন্টস নিয়ে গল্প লেখা। সম্প্রতি জনৈক লেখিকা গার্মেন্টস কর্মীদের নিয়ে একটা গল্প লিখে বিদেশী এক পুরস্কার পেয়েছেন। এরপরে বাঙ্গালি যা করে আর কি। একদল নেমে পড়ল, উনাকে তোষামোদ করতে, ‘দারুণ গল্প’ ‘বাংলাদেশের জন্য বিরল সম্মান’ ইত্যাদি। আরেকদল নেমে পড়ল, ‘তেমন উন্নত কোন গল্প তো মনে হল না’ টাইপ সমালোচনায়। আর কিছু তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে বসলেন, ‘গল্পটায় যে গার্মেন্টস কর্মীর চিত্র আঁকা হয়েছে, বাস্তবতার সাথে তার মিল নেই।’ ব্লা ব্লা ব্লা। এতোসবের ভিতরে আরেকটা ঘটনা ঘটল। আমার নিজের একটা গল্প লেখার শখ হল। গার্মেন্টস নিয়ে। গল্পটা কিন্তু সত্যি। মানে বাস্তবতার সাথে হুবহু মিল আছে। পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা যদিও জিরো, তবে বাজারের যে গতি প্রকৃতি, আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আসলে সেজন্যেই লেখা। তো শুরু করি?
প্রথমে আমার পরিচয়টা সেরে ফেলি। আমি ডাক্তার। মানে পেশায় ডাক্তার। ডাক্তার পরিচয় অবশ্য আজকাল অনেকেই দেয়। পল্লী চিকিৎসক থেকে শুরু করে ফার্মেসির মালিক। হয় নিজেই ডাক্তার পরিচয় দেয় আর নয়তো তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রুগীরা সম্মান দেখিয়ে ডাক্তার বলে ডাকে। ফলাফল হচ্ছে, ডাক্তার পরিচয় দেয়ার পরে আমাদের আবার বিস্তারিত জানাতে হয়, ‘আমি অ্যালোপ্যাথি ডাক্তার' আর নয়তো বলতে হয় 'এমবিবিএস ডাক্তার'। আমার সম্পর্কে অবশ্য আরেকটু কথা বলার আছে। আর সেটা হচ্ছে, আপনাদের দোয়ায়, এমবিবিএস পাশ করবার পরে একটা উচ্চতর ডিগ্রীও করেছি। কিছুটা পড়াশোনা করে আর কিছুটা পরীক্ষকের বদান্যতায় আরও একটি পরীক্ষা পাশ দিয়েছি। এর অর্থ হচ্ছে, আমি এখন সাইনবোর্ডে লিখতে পারি, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক'। ভিজিট তিন ডিজিটে। বছর বছর বাড়াবার একটা ফ্রি লাইসেন্সও আছে। সব মিলিয়ে আমার পুরো পরিচয় হচ্ছে, একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, যার মোটামুটি একটা পসার আছে, শহরের হাসপাতালের পাশেই একটা এসি চেম্বার আছে এবং সেখানে আমার ফাইফরমাস খাটবার জন্য একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট আছে। ভিজিট কিংবা রুগীর সংখ্যা কোনটাই বলব না, ইনকাম ট্যাক্স প্রবলেম হতে পারে।
তো, যেদিনের গল্প বলছি, সেদিন যথারীতি বিকেলে চেম্বারে বসেছি। দরজার বাইরে অবস্থান করা আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট একটার পর একটা রুগী ঢোকাচ্ছে। যথারীতি সেগুলোকে দেখছি। প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে ইনভেস্টিগেশান দিচ্ছি। সবই যে নতুন রুগী, এমন না। পুরনোও আছে। চিকিৎসকদের ভিজিটের ক্ষেত্রে সাধারনতঃ অলিখিত যে নিয়ম আছে, তা হচ্ছে প্রথমবারের ভিজিটের চেয়ে দ্বিতীয়বারের ভিজিট কিছু কম হয়। সো, পুরনো রুগী মানে, এদের ক্ষেত্রে আয় কিছুটা কম। একে তো ভিজিট কম তার ওপর আবার গতদিন যেহেতু ইনভেস্টিগেশান করিয়েছে, তাই আজকে আবার ইনভেস্টিগেশান দেয়া যাচ্ছে না। সো, কমিশনও নাই। তবে পুরনো রুগী একটা সুবিধা দেয়, আর তা হচ্ছে ভাল হওয়া রুগী, আবার নতুন একজনকে বেঁধে আনে। এবং সেটায় কোন দালালি দিতে হয় না, পিওর পরোপকার। মোটা দাগে এই হচ্ছে আমাদের আয়ের উৎস।
একটু অযথা প্যাঁচাল পাড়ছি, তবে কারণ আছে। তো যা বলছিলাম। একটা সময় ছিল, যখন রুগীরা শহরে আসত, বিভিন্ন ডাক্তারের চেম্বারের সামনে এসে তাঁদের ডিগ্রীর নাম পড়ত। কি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, তা দেখত, এরপরে নিজেই সিদ্ধান্ত নিত, কাকে দেখাবে। অনেক সময় পরিচিত ‘পরোপকারী' কেউ হয়তো বলত, অমুক ডাক্তারকে দেখাও, আমারও এই সমস্যা হয়েছিল, এই ডাক্তার দেখিয়ে উপকার পেয়েছি। বাট দ্যাট ডেজ আর গন। বাজার অর্থনীতির জোয়ারে, সবকিছুতেই চলে এসেছে মুনাফা আর কমিশন। এখন আর কেউ পরোপকার করে না, উপদেশও দেয়, কিছু প্রাপ্তির বিনিময়ে।
হবে না ই বা কেন? মার্কেটে এখন অনেক ডাক্তার, অনেক বিশেষজ্ঞ। বিশেষজ্ঞের ওপর আবার রয়েছে অতি বিশেষজ্ঞ। তার ওপর অতি অতি বিশেষজ্ঞ। এমন সব বিষয়, যার নাম সাধারণ মানুষ শোনেইনি। রুগী হয়তো জানেই না, যে রোগ তার হয়েছে, তার সর্বাধুনিক চিকিৎসা জানা ডাক্তার কোথায় পাওয়া যায়। আর তাই প্রায় কোন রুগীই জানে না, তাঁর বর্তমান সমস্যার জন্য সে কাকে দেখাবে। সো, আমদানী হয়েছে, 'বোঝানো বিশেষজ্ঞে’র। ইনাদের কাজ হচ্ছে, উপদেশ দেয়া, ‘আপনার আসলে লিভারের সমস্যা, লিভারের ডাক্তার দেখাতে হবে’।
এমতাবস্থায়, আমাদের মত অতি বিশেষজ্ঞদের হয়েছে সমস্যা। রুগীরা এমন সব বিশেষজ্ঞের নামও শোনেনি। জানেও না কি কি সমস্যা হলে আমাদের কাছে আসতে হয়। কোন ডাক্তারই অন্য ডাক্তারের কাছে রুগী পাঠান না। স্ব, আমাদের কপালে তখনই শিকে ছেঁড়ে, যদি কোন উপদেশ বিশেষজ্ঞ কোন রুগীকে বলেন, 'আপনার সমস্যা আসলে ফুসফুসে। মেডিসিনকে দেখায়ে হবে না, ফুসফুস বিশেষজ্ঞকে দেখাতে হবে।’
বলাই বাহুল্য, সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে, আঙ্গুলে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়। সেটা ইদানীং কমবেশি সব ডাক্তারই করছেন। কিছু দালাল বা উপদেশ বিশেষজ্ঞ পুষছেন। এদের কাজ হচ্ছে, গ্রাম থেকে বোঁচকা বাচকি নিয়ে আসা রুগীদের বিনামূল্যে উপদেশ দেয়া। ‘আরে চাচা, কোথায় যাবেন?’ বলে আলোচনার শুরু আর একজন চিকিৎসকের চেম্বারে প্রবেশ করিয়ে কিঞ্চিৎ বখশিশ পাওয়ার মাধম্যে আলোচনার সমাপ্তি। চিকিৎসককে ক্ষেত্র বিশেষে তাঁর প্রাপ্ত ভিজিটের কিছু অংশ দিয়ে দিতে হয়।
কাহিনীর আরও একটা শাখা আছে। অনেক সময় কিছু বুদ্ধিমান রুগী গ্রামের কোন একজন পল্লী চিকিৎসককে সাথে অনুরোধ করেন, ‘শহরের কিছু তো চিনি না, আপনি সাথে চলেন।’ সো, আরও এক জাতের উপদেশ বিশেষজ্ঞের বাজারে আগমন। রুগী যদিও মনে করে এই উদার মানুষটি, ততোধিক উদারতা দেখিয়ে তাঁর জন্য শহরে এসেছেন, তবে বাস্তবতা ভিন্ন। উনি এসেছেন অন্য কারণে। রুগীটিকে নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে বখশিশ নেয়া আর নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করিয়ে কমিশন নেয়াই উনার উদ্দেশ্য। দিন শেষে তিনি এই আপাতঃ উদারতার জন্য একটা মোটা অংকের বখশিশ ও কমিশন নিয়ে বাসায় ফিরবেন। বলাই বাহুল্য, রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো দালালের তুলনায় ইনাদের দাবী কিঞ্চিৎ বেশি। মোটা দাগে এই হচ্ছে একজন রুগীকে ঘিরে চিকিৎসক, রুগীর দালাল এবং পল্লী চিকিৎসকের তৈরি হওয়া নেক্সাসের ইনসাইড স্টোরি।
এবার গল্পটা বললে, আপনাদের বুঝতে সুবিধা হবে। তো সেদিন চেম্বারে রুগী দেখছি। আমার অ্যাসিস্ট্যান্টের অনেকগুলো কাজের মধ্যে একটা কাজ হচ্ছে আমাকে ইশারা দেয়া। কোন রুগীটা দালাল নিয়ে এসেছে আর কোনটা আমার কোন নিজস্ব রুগী পাঠিয়েছে। সেই কাজের অংশ হিসেবেই একটা রুগী বের হওয়ার পরে, জানান দিল, ‘স্যার নতুন রুগীটায় পিসি আছে।’
পিসি মানে হচ্ছে পল্লী চিকিৎসক। আর ‘পিসি আছে' বলার মানে হচ্ছে, এই রুগীকে প্রয়োজনের চেয়ে একটু বেশি ইনভেস্টিগেশান দিতে হবে। আর ভিজিটের টাকা থেকে উনাকে কিছু বখশিশ দিতে হবে। অভ্যস্থ কণ্ঠে বললাম, 'ঠিক আছে।’ রুগী প্রবেশ করল।
রুগিনী একজন তরুণী। সাথে বেশ কিছু ফাইল পত্তর। খান কয়েক এক্সরে করা আছে। সেসব দেখাতে চাচ্ছিল। যদিও জানি ওসব দেখলে আমি রোগ সম্পর্কে একটা আন্দাজ পেয়ে যাব, তারপরও ওসব দেখলাম না। আসলে প্রাইভেট প্র্যাকটিস যে ফর্মুলায় চলে, তাতে ওসব দেখা যাবে না। দেখলেই, পিসি নাখোশ, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নাখোশ আর আমার ভেতরে লোভী মানুষটাও নাখোশ। সো… লেটস কনসেন্ট্রেট অন বিজনেস।
রুগীর নাম, বয়স এসব লিখলাম। সমস্যা জানতে চাইলাম। ঘুসঘুসানি জ্বর আর কাশি। ফুসফুসে স্টেথোস্কোপ বসিয়ে বুঝে গেলাম ফুসফুসের বাইরের ঝিল্লিতে পানি জমেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় প্লুরাল ইফিউশান। আমি এতো সহজে রোগ বুঝে গেলে অনেকের পেটে লাথি পড়বে। সো, অ্যাক্টিং শুরু করতে হবে। রুগীকে বোঝাতে হবে, ইনভেস্টিগেশান করা কতোটা জরুরী।
রুগীনির অবস্থাও মনে হল বিশেষ সুবিধার না। আমার কাছে আসবার আগে বেশ কয়েকজন ডাক্তার সম্ভবতঃ উনি দেখিয়েছেন এবং কমবেশি সবাই মনের সুখে ইনভেস্টিগেশান দিয়ে টু পাইস কমিশন হাতিয়ে নিয়েছেন। এবং রুগীকে অনেকটাই সর্বস্বান্ত করে ছেড়েছেন। এবার আমার পালা। বিবেক কিছুটা ‘কিন্তু কিন্তু’ করছে, বাট উপায় নেই। ‘ঘোড়া ঘাসসে দোস্তি কারেগা তো খায়েগা ক্যা?’
পরীক্ষা নিরীক্ষা দিলাম। পিসি সাহেবকে খুশি করতে বেশ কিছু অযথা ইনভেস্টিগেশানও দিতে হল। করুণ মুখে রুগিনি সেটা মেনে নিল। আমিও পরের রুগীতে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। রিপোর্ট দেখাবার আবার অনেক জাতের নিয়ম আছে। কেউ কেউ রিপোর্ট দেখবার জন্য পুনরায় ভিজিট নেন। কেউ আবার নেন না। যে এলাকায় যে নিয়ম। আমি যেখানে প্র্যাকটিস করি, সেখানে রিপোর্টের জন্য আলাদা ভিজিট নেয়ার নিয়ম নাই। আর রিপোর্ট সব দেখে, তারপর ওঠাটাই নিয়ম।

যাই হোক, ঘণ্টা দুয়েক পরে ইনভেস্টিগেশানের রিপোর্টগুলো সহ রুগিনি আবার চেম্বারে প্রবেশ করলেন। নতুন রিপোর্টগুলো দেখতে শুরু করব, এমন সময় রুগিনি বেশ কাতর মিনতি করল, ‘আগের রিপোর্টগুলো দেখবেন না স্যার?’ লোভী মানুষ হলে কি হবে, একেবারে পাথর না। স্মিত হাসি দিয়ে বললাম, ‘আচ্ছা দেখাও।’ রিপোর্টের টোপলা দেখে বুঝলাম প্রথম যে ডাক্তার উনাকে দেখেছিলেন, তিনি আমার গোত্রেরই। মানে লোভী টাইপ। হেন ইনভেস্টিগেশান নাই, যে করান নাই। বেশ ভাল রকমের একটা ছিল দিয়েছেন।
ওহ হো, বলতেই তো ভুলে গেছি, রুগিনিটি গার্মেন্টসে কাজ করে। আর প্রথম যিনি উনাকে পকেট কেটেছেন, তিনি হচ্ছেন সেই গার্মেন্টসের ডাক্তার। বাইয়ারদের চাপে সম্ভবতঃ উনাকে রাখতে বাধ্য হয়েছে গার্মেন্টস মালিক। যাই হোক, তিনি কমিহস্ন বাবদ বেশ ভালোই ইনকাম করেছেন। তখন করা এক্সরে তে যদিও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে ফুসফুসের ঝিল্লিতে পানি জমেছে, তারপরও তিনি চিকিৎসা তেমন দেননি। উনি রেফার করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞের কাছে।
সেই বিশেষজ্ঞ যথারীতি আবার ইনভেস্টিগেশান করিয়েছেন এবং চিকিৎসা দিয়েছেন। এসব করতে গিয়ে রুগিনির জমানো টাকা সম্ভবত শেষ হয়ে যায়। অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় গ্রামে ফিরে আসে। এবার পড়েন আরেক দালালের খপ্পরে আর বর্তমানে আমার খপ্পরে। যাই হোক, পুরনো ইনভেস্টিগেশান দেখবার পরে সদ্য করা ইনভেস্টিগেশানগুলো দেখলাম। শেষ এক্সরেটা মাত্র পাঁচদিন আগে করা। নতুন করে ইনভেস্টিগেশান না করালেও চলত। বাট, উপায় নেই।
পরীক্ষা নিরীক্ষা দেখা শেষ। এবার চিকিৎসা দেয়ার পালা। আমার সিদ্ধান্ত যক্ষ্মা জনিত কারণে পানি জমেছে। বাট চিকিৎসা শাস্ত্র মতে তা বলা যাবে না। পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। আর সেটা করতে হলে সেই পানি বের করে পরীক্ষা করতে হবে। আর সেটা করতে আমি আবার আলাদা চার্জ নিই। রুগীকে ব্যাপারটা জানালাম। রুগীর অবস্থা তখন কাঁদো কাঁদো। দুঃখের কথা বলতে লাগল। যার সারাংশ হচ্ছে, তাঁর নিজের জমানো টাকা তো ইতিমধ্যে শেষ করেছেই, এখানে এসেছে ধার করে। তার ওপর বেশ কয়েকদিন কাজে যেতে পারেনি ইত্যাদি ইত্যাদি।
আনেথিক্যাল চিকিৎসা যে একেবারে দিই না, এমন না। অনেক সময়ই কাজটা করি। যখন বুঝলাম, এই রুগীর কাছ থেকে আর টাকা বের করবার উপায় নাই, তখন সিদ্ধান্ত নিলাম, এবার রুগীরই উপকারের জন্যই একটু আনএথিক্যাল কাজ করি। সন্দেহের উপর ভিত্তি করেই যক্ষ্মার চিকিৎসা লিখে দিলাম। আমার অভিজ্ঞতা বলে, রুগী ঠিক হয়ে যাবে আর সপ্তাহ তিনেকের ভেতরেই কাজে যেতে পারবে। স্টিল, রুগীর কাছ থেকে আরেকবার আয়ের সুযোগটা ছাড়লাম না।
বললাম, ভয়ের কিচ্ছু নেই। একদম সুস্থ হয়ে যাবা। দু’সপ্তাহ পরে আরেকবার দেখিয়ে নিতে। রুগিনি রাজী হল। এবার মিনমিন স্বরে করুণ একটা আর্তি জানাল। ‘স্যার যদি ছুটির জন্য একটু লিখে দিতেন তাহলে উপকার হয়। নাহলে চাকরি চলে যাবে।’
খসখস করে প্রেসক্রিপশানের নিচে লিখে দিলাম, ‘দুই সপ্তাহ পূর্ণ বিশ্রাম’। সারা মুখে হাসি। জানালাম, এটা ফটোকপি করে পাঠাও, এতে না হলে, আমি আলাদা মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে দিব। আমার আশ্বাসে বেশ খুশি মনেই রুগিনি চেম্বার থেকে বেরিয়ে গেল। পরের রুগী দেখতে শুরু করলাম।
আরেকটা কথা বলা হয়নি। রুগীর ভিজিটের টাকা আমি নিজে নিই না। বাইরে আমার যে অ্যাসিস্ট্যান্ট আছে সে নেয়। দালালদের যা বখশিশ দেয়ার, সে ই ওখান থেকে দিয়ে দেয়। বাকই যা থাকে সেটা মাঝে মাঝে রুগী দেখার ফাঁকে আমার হাতে দিয়ে যায়। তো কিছুক্ষণ পরে দেখি ভিজিটের টাকার সাথে আলাদা দুশো টাকা দিচ্ছে। জিজ্ঞেস করলাম, 'এটা কিসের?’
— মেডিকেল সার্টিফিকেট দিলেন যে স্যার
— ওটার জন্য আবার টাকা নিতে গেলি ক্যান?
— আমি নিই নি স্যার, পিসি নিছে। পাঁচশ। আপনার কথা বলে। আমি দেখতে পেয়ে আমাদের ভাগ নিয়ে নিছি।
ছেলেটার নজর বেশ তীক্ষ্ণ। মাঝে মাঝেই রুগীরা চালাকি করে। টাকা নাই, গরীব মানুষ, এসব বলে ভিজিট কম দেয়ার চেষ্টা করে। বাট ওর চোখ ফাঁকি দিতে পারে না। লুকোনো পকেটে রাখা টাকাও দেখে ফেলে। ফলে, ওকে ফাঁকি দিতে পারে না। বেশ বুদ্ধিমান। আর আমার বুদ্ধি বলে, একে খুশি রাখা জরুরী। সো, দুশো টাকার ভেতর থেকে একশ টাকা ওকে দিলাম।
— এটা রাখ।
বাকী টাকাটা পকেটে ঢুকালাম।

জীবনটা খুব সুন্দর। কি বলেন?
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১৭ সকাল ১১:০৭
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি : ভারসাম্যের লক্ষ্যে বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি কৌশল

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:০২


ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও নিকটতম বাণিজ্য অংশীদার। ভৌগোলিক নৈকট্য, দীর্ঘ সীমান্ত, পরিবহন সুবিধা এবং পরস্পর-নির্ভরশীল উৎপাদনব্যবস্থার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

//১৫ ই আগস্ট ১৯৭৫ ও জীবনের সমীকরণ//

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৯

নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনার পর নিখুঁতভাবে তা মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ করা হলো, অতঃপর আশানুরূপ অথবা আশাতীত ফলাফলও এলো। আপাতদৃষ্টিতে সমীকরণের রাইট হ্যান্ড সাইড আর লেফট হ্যান্ড সাইট হয়ে পরলো কেমন যেন ভারসাম্যহীন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

সম্ভবত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবেই তারেক রহমান ভারতে যাচ্ছেন, যদিও এখন পর্যন্ত সফরটি চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশের সম্মতি আদায়- এক্ষেত্রে বাংলাদেশের 'কচিকাঁচা কুটনৈতিকদের' হারিয়ে ভারতীয় 'প্রবীণ কুটনৈতিকরা' জয়ী হয়েছে।

শেখ হাসিনার আমলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০২



আজ জাতীয় শোক দিবসের।
জাতির পিতাকে আজকের দিনে স্বপরিবারে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। আজ শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের ভাঙ্গা বাড়িতে একজন গিয়েছেন শ্রদ্ধা জানাতে। তার হাতে ফুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×